বাবলু বন্দ্যোপাধ্যায়,তমলুক : বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বনের মধ্যে পৌষ পার্বণ আর সেই উপলক্ষে ঘরে ঘরে পিঠে পুলি তৈরী এক প্রকার খাদ্য উৎসবের চেহারা নেয় বলা যায়। পৌষের শুরুতেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাটে সেই চিত্র ফুটে উঠল। ব…
বাবলু বন্দ্যোপাধ্যায়,তমলুক : বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বনের মধ্যে পৌষ পার্বণ আর সেই উপলক্ষে ঘরে ঘরে পিঠে পুলি তৈরী এক প্রকার খাদ্য উৎসবের চেহারা নেয় বলা যায়। পৌষের শুরুতেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাটে সেই চিত্র ফুটে উঠল। বৃহস্পতিবার দুপুরে বসেছিল পিঠে পুলির মেলা। প্রায় শতাধিক মা ও মেয়েরা বাড়ি থেকে যে যার মত পিঠে ও পুলি বানিয়ে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন উৎসব প্রাঙ্গণে।
পিঠে পুলি সমাগমে দেখা গেছে মুগের পুলি, ভাজা পুলি, দুধপুলি, চন্দ্রপুলি এবং সেদ্ধ পুলির মত পৌষপার্বনে খাদ্য সামগ্রী। পিঠের মধ্যে নজর কেড়েছে পাটিসাপটা,গোকুল পিঠে, পোস্তর পিঠে, সরুচাকলি, নারকেলের পিঠে,গড়গড়া পিঠা।
এই উৎসবমুখর পিঠে পুলি তৈরীতে ব্যবহার করা হয়েছে। আটা, ময়দা, চালগুড়ো, দুধ, খোয়াখির, নারকেল কোরা, চিনি, নলেনগুড়, মুখ ও বিউলির ডাল, সুজি, পোস্ত, আলু ইত্যাদি খাদ্য সামগ্রী বলে অংশগ্রহণকারীরা জানান।ডালিয়া ফুল, গোলাপ ফুল, কদম ফুল, মৎস্যকন্যা, কচ্ছপ, চিংড়ি মাছের আকৃতির তৈরি পিঠে বহু মানুষের নজর কেড়েছে।
এদিন বিভিন্ন বয়সের মা মেয়েদের পিঠে পুলি তৈরিতে যেমন উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা গেছে, পাশাপাশি শীতের দুপুরে মিষ্টি রোদ গায়ে মেখে বহু মানুষের সমাগম ঘটেছিল এই পিঠে পুলি সমারোহ দেখার আগ্রহে। কোলাঘাটের গৃহবধূ কর্মসূত্রে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রর সিনিয়র নার্স প্রিয়দর্শিকা হাইত জানালেন, " আমরা সারা বছর এই দিনটির অপেক্ষায় থাকি পৌষ উৎসবে পিঠে পুলি বানিয়ে হাজির হব বলে।" কলেজ ছাত্রী পুজা দাস জানালেন,এইধরনের আয়োজন হয় বলে আমরা অংশ নিতে বাড়িতে বিভিন্ন রকমের পিঠে পুলি তৈরি করতে শিখি, অভিজ্ঞতা হয়, শিক্ষা পাই, খুব আনন্দ করি। "আয়োজকদের পক্ষে সুধাংশু সামন্ত রায় জানান,সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের এই প্রয়াস।"এদিন পিঠে পুলি উৎসবে মূল্যায়নের নিরিখে ও গুনগত মানের ওপর বিচার বিশ্লেষণ করে ১৫ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। বাকিদের বিশেষ স্মারক সম্মানে উৎসাহিত করা হয়।
