‘তথ্যচিত্রে শ্যামাপ্রসাদ’: ভারত-কেশরীর জীবনী আমজনতার দরবারে পৌঁছে দিতে অভিনব উদ্যোগ পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের। স্কুল,কলেজ থেকে শুরু করে অফিস-আদালত— সর্বত্রই সরকারি মর্যাদায় পালিত হল ভারত-কেশরী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ে…
‘তথ্যচিত্রে শ্যামাপ্রসাদ’: ভারত-কেশরীর জীবনী আমজনতার দরবারে পৌঁছে দিতে অভিনব উদ্যোগ পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের।
স্কুল,কলেজ থেকে শুরু করে অফিস-আদালত— সর্বত্রই সরকারি মর্যাদায় পালিত হল ভারত-কেশরী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ তম জন্মজয়ন্তী। রাজ্যে পালাবদলের পর নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ড. মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ও প্রয়াণ দিবস পালনে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সেই ধারাকে বজায় রেখেই এবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক অভিনব কর্মসূচির সাক্ষী থাকলেন জেলাবাসী। সাধারণ মানুষের কাছে এই মণীষীর জীবন ও আদর্শ পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসনিক ভবনে উদ্বোধন করা হলো বিশেষ ‘তথ্যচিত্র গ্যালারি’র।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে গত ২৩ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত ‘শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ’ উদযাপন করা হচ্ছিল। সোমবার, ৬ জুলাই, সেই পক্ষের সমাপ্তি দিবসে সকাল থেকেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলাশাসকের কার্যালয়ে ছিল সাজো সাজো রব। একটি বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। শোভাযাত্রায় পা মেলান জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, অতিরিক্ত জেলাশাসক সহ অন্যান্য পদস্থ সরকারি আধিকারিকেরা।
বিকেলে জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের ব্যবস্থাপনায় জেলাশাসক কার্যালয়ের সভাগৃহে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নাচ, গান, আবৃত্তি এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও দর্শনের ওপর প্রাসঙ্গিক বক্তৃতায় সমৃদ্ধ ছিল এই অনুষ্ঠানটি। উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, জেলা পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা, জেলা পরিষদের সভাধিপতি বামদেব গুছাইত সহ জেলার অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকেরা।
এ দিনের অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল জেলাশাসকের হাত ধরে ‘তথ্যচিত্রে শ্যামাপ্রসাদ’ গ্যালারির দ্বারোদ্ঘাটন। এই প্রদর্শনীতে ড. মুখোপাধ্যায়ের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সমগ্র জীবনপঞ্জি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তাঁর শৈশব, মেধা দীপ্ত ছাত্রজীবন, শিক্ষাবিদ হিসেবে তাঁর অবদান এবং পরবর্তীকালে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা— সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ই স্থান পেয়েছে এই তথ্যচিত্রে।
জেলা প্রশাসনের এই অভিনব উদ্যোগ প্রসঙ্গে জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার বলেন, “ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও আদর্শ বর্তমান প্রজন্মের পড়ুয়া এবং সাধারণ মানুষের জানা অত্যন্ত প্রয়োজন। সেই উদ্দেশ্যেই এই তথ্যচিত্রটি তৈরি করা হয়েছে। এটি জেলা প্রশাসনিক ভবনের প্রবেশপথের ঠিক সামনেই রাখা থাকবে, যাতে সরকারি কাজে আসা সাধারণ মানুষ সহজেই এটি দেখতে পারেন।”
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ