অরুণ কুমার সাউ, চণ্ডীপুর: প্রতি বছরের মতো এবারও পুজোর ছুটির আগে এক প্রাণবন্ত ও সৃজনশীল পরিবেশে মেতে উঠল চণ্ডীপুর ব্লকের শ্যামসুন্দরপুর হাইস্কুল। প্রাক্-উৎসব সম্মিলনীতে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে উঠল ছাত্র-ছাত্রীদের আনন্দ ও …
অরুণ কুমার সাউ, চণ্ডীপুর: প্রতি বছরের মতো এবারও পুজোর ছুটির আগে এক প্রাণবন্ত ও সৃজনশীল পরিবেশে মেতে উঠল চণ্ডীপুর ব্লকের শ্যামসুন্দরপুর হাইস্কুল। প্রাক্-উৎসব সম্মিলনীতে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে উঠল ছাত্র-ছাত্রীদের আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে। তবে এবারের উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল দেওয়াল পত্রিকা 'জাগরী'-র উন্মোচন, যা শিক্ষার্থীদের নিজস্ব ভাবনা ও হাতের ছোঁয়ায় এক অনবদ্য রূপ পেয়েছে।
'জাগরী' শুধু একটি দেওয়াল পত্রিকা নয়, এটি ছিল শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভার এক উজ্জ্বল প্রতিফলন। পত্রিকাটির প্রতিটি অংশ—লেখা, ছবি এবং অলংকরণ—সবটাই ছিল ছাত্র-ছাত্রীদের নিজস্ব সৃজনশীলতার ফসল। শিক্ষকরা এখানে কেবল পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন, তাঁদের দেওয়া সামান্য নির্দেশনায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে। এই ব্যতিক্রমী দেওয়াল পত্রিকায় ঠাঁই পেয়েছে মৌলিক কবিতা, অণুগল্প এবং বিভিন্ন ধরনের রচনা, যা শিক্ষার্থীদের সাহিত্যিক মননের গভীরতা প্রকাশ করে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, অরুনাংশু প্রধান এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, "নতুন কিছু করার এই প্রচেষ্টায় ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা গেছে, তা ছিল সত্যিই চোখে পড়ার মতো। এই ধরনের উদ্যোগ পড়ুয়াদের মধ্যে সাহিত্য ও শিল্পের প্রতি আগ্রহ তৈরি করে এবং তাদের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত হতে সাহায্য করে।'
জাগরী 'র এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত পরিশ্রম। দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র অয়ন ঘোড়ই ও শুভম বিশই বলেন, আমাদের নিজেদের সৃষ্টি একটি দেওয়াল পত্রিকার মাধ্যমে সবার সামনে প্রকাশ পাবে, এটা ভেবেই খুব আনন্দ হচ্ছিল। আমরা আগামী দিনে এই পত্রিকাটি আরও ভালো করার জন্য চেষ্টা করব। এই প্রাক্-উৎসব সম্মিলনী এবং 'জাগরী'-র মতো সৃজনশীল উদ্যোগ প্রমাণ করে, সঠিক সুযোগ পেলে শিক্ষার্থীরা কেবল বইয়ের পাতাতেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখে না, বরং তাদের প্রতিভা ছড়িয়ে পড়ে জীবনের নানা ক্ষেত্রে। শ্যামসুন্দরপুর হাইস্কুলের এই প্রচেষ্টা অন্যান্য বিদ্যালয়ের জন্য একটি অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।


