Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

বিশ্বমঞ্চে তাম্রলিপ্তের ঐতিহ্য: তমলুক রাজবাড়িতে শুরু ১৩ দেশের আন্তর্জাতিক সম্মেলন

তমলুক , কাজল মাইতি, দেশমানুষবিস্মৃতির অতল থেকে প্রাচীন তাম্রলিপ্তের গৌরবময় ইতিহাসকে পুনরুদ্ধার করতে মেতেছে তমলুক। শুক্রবার থেকে তমলুক রাজবাড়িতে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক সেমিনার। থাইল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোর…



তমলুক , কাজল মাইতি, দেশমানুষ

বিস্মৃতির অতল থেকে প্রাচীন তাম্রলিপ্তের গৌরবময় ইতিহাসকে পুনরুদ্ধার করতে মেতেছে তমলুক। শুক্রবার থেকে তমলুক রাজবাড়িতে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক সেমিনার। থাইল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশসহ বিশ্বের মোট ১৩টি দেশের প্রতিনিধিরা এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। লক্ষ্য একটাই—বিশ্বের দরবারে তাম্রলিপ্তের বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও প্রাচীন বাণিজ্যিক গুরুত্বকে নতুন করে তুলে ধরা।

শুক্রবার সকালে রাজবাড়ি প্রাঙ্গণে ১৩টি দেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। প্রতিটি দেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হলে এক আবেগঘন ও আন্তর্জাতিক পরিবেশ তৈরি হয়। আয়োজক কমিটির পক্ষে তমলুক রাজবাড়ির সদস্য তথা এই উদ্যোগের প্রধান কাণ্ডারি ডক্টর দীপেন্দ্র নারায়ণ রায় জানান, গত ছয় বছর ধরেই এই আন্তর্জাতিক আলোচনার আয়োজন করা হচ্ছে। এবারও তাম্রলিপ্ত জনস্বাস্থ্য কৃষি ও কুটির শিল্প মেলার অঙ্গ হিসেবে এই সেমিনার আয়োজিত হয়েছে।


ইতিহাস বলে, খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে মৌর্য সম্রাট অশোক পাটলিপুত্র থেকে তাম্রলিপ্তে এসেছিলেন। বৌদ্ধ ধর্মের প্রসারে এই জনপদের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। রাজবাড়ির অন্দরে রাধা মাধব জিউ মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ দিনের সভায় স্থানীয় স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বক্তারা আলোচনা করেন কীভাবে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও প্রাচীন গ্রন্থাবলীতে তাম্রলিপ্তের উল্লেখ রয়েছে।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী বিপ্লব রায়চৌধুরী। তিনি এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, "তাম্রলিপ্তের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ, কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম তা ভুলতে বসেছে। বিদেশের প্রতিনিধিরা এখানে এসে আলোচনা করায় সেই ইতিহাস আবার জীবন্ত হয়ে উঠছে।"

ডক্টর দীপেন্দ্র নারায়ণ রায়ের কথায়,

"আমরা আমাদের শেকড় ভুলতে বসেছি। তাম্রলিপ্তের সেই পুরনো গৌরব যাতে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই নিরন্তর প্রচেষ্টা।"


২৬ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই সেমিনার চলবে আগামী ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই তিন দিন জুড়ে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা তাঁদের গবেষণাপত্র পাঠ করবেন এবং তাম্রলিপ্তের সঙ্গে তাঁদের দেশের প্রাচীন সংযোগ নিয়ে আলোকপাত করবেন।