Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

দলীয় নির্দেশে তাম্রলিপ্ত পৌরসভায় নতুন চেয়ারম্যান হলেন বৈদ্যনাথ সিনহা,সরে যেতে হল চঞ্চল খাঁড়াকে

​কাজল মাইতি, দেশ মানুষ:  দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েন এবং শাসকদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের আবহে অবশেষে নতুন পুরপ্রধান পেল তাম্রলিপ্ত  পুরসভা। বুধবার আদালতের নির্দেশ মেনে আয়োজিত নির্বাচনে তমলুকের নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন বৈদ্যনাথ সিনহ…

 ​কাজল মাইতি, দেশ মানুষ:  দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েন এবং শাসকদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের আবহে অবশেষে নতুন পুরপ্রধান পেল তাম্রলিপ্ত  পুরসভা। বুধবার আদালতের নির্দেশ মেনে আয়োজিত নির্বাচনে তমলুকের নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন বৈদ্যনাথ সিনহা। তবে নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হলেও বিতর্ক পিছু ছাড়ল না। নবনির্বাচিত পুরপ্রধানের শপথ গ্রহণের আগেই সভা ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চঞ্চল খাঁড়া-সহ তৃণমূলের একাংশ কাউন্সিলর। যা ঘিরে ঘাসফুল শিবিরের অন্দরের ফাটল ফের প্রকাশ্যে চলে এল।

​প্রসঙ্গত, গত ১১ নভেম্বর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে তমলুক পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন দীপেন্দ্রনারায়ণ রায় ও লীনা মাভৈ রায়। সেই সময় রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের নির্দেশে ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চঞ্চল খাঁড়াকে এক মাসের জন্য অস্থায়ী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও তিনি পদ আঁকড়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

​এই ‘অবৈধ’ নিয়োগের বিরুদ্ধে সরব হয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল কাউন্সিলর পার্থসারথি মাইতি এবং দুই বিজেপি কাউন্সিলর জয়া দাস নায়েক ও শবরী চক্রবর্তী। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রক্রিয়া সঠিক ছিল না এবং আগামী এক মাসের মধ্যে কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

​আদালতের নির্দেশ মেনেই বুধবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ পুরসভার মিটিং রুমে বৈঠকে বসেন কাউন্সিলররা। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রাক্তন চেয়ারম্যান দীপেন্দ্রনারায়ণ রায়। সেখানেই দলের উচ্চ নেতৃত্বের নির্দেশে বৈদ্যনাথ সিনহার নাম চেয়ারম্যান পদের জন্য প্রস্তাব করা হয়। কাউন্সিলরদের সমর্থনে তিনি নির্বাচিত হন। পরে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুফিয়া বেগমকে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে বেছে নেন তিনি। পুরসভার এগ্‌জিকিউটিভ অফিসার তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান।

​তবে অনুষ্ঠান চলাকালীনই চঞ্চল খাঁড়া ও তাঁর অনুগামী কয়েকজন কাউন্সিলরের সভা ত্যাগ করা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। যদিও বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দাবি, “দলের নির্দেশেই আমরা এসেছিলাম। নতুন চেয়ারম্যানের নাম ঘোষিত হওয়ার পর আমি বেরিয়ে এসেছি।” অন্যদিকে নবনির্বাচিত পুরপ্রধান বৈদ্যনাথবাবু বলেন, “সবাইকে নিয়েই কাজ করতে চাই। কেউ বেরিয়ে গিয়ে থাকলে সেটা নিয়ম মেনেই করেছেন।”

​জয়ী হয়েও অস্বস্তি কাটেনি শাসকদলের। বিজেপি কাউন্সিলর জয়া দাস নায়েক বলেন, “এতদিন অবৈধভাবে পদ দখল করে রাখা হয়েছিল। আমাদের আইনি লড়াই আজ সফল। আমরা চাইব নতুন পুরপ্রধান দলমত নির্বিশেষে সমস্ত ওয়ার্ডের উন্নয়নে সমান গুরুত্ব দেবেন।”

​আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক চাপানউতোরের পর তমলুক পুরসভায় নতুন বোর্ড গঠন হলেও, বিদায়ী চেয়ারম্যানের ‘প্রস্থান’ ঘিরে যে ক্ষোভের ইঙ্গিত মিলেছে, তা আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতিতে কী মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।