কাজল মাইতি , দেশ মানুষ : উত্তরায়ণ সংক্রান্তির পুণ্যলগ্নে ভক্তি আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধন দেখা গেল প্রাচীন তাম্রলিপ্ত শহরে। বুধবার মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে রূপনারায়ণ নদের তীরে শুরু হলো পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্যতম প্রাচীন ‘বারুণী মেলা’…
কাজল মাইতি , দেশ মানুষ :
উত্তরায়ণ সংক্রান্তির পুণ্যলগ্নে ভক্তি আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধন দেখা গেল প্রাচীন তাম্রলিপ্ত শহরে। বুধবার মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে রূপনারায়ণ নদের তীরে শুরু হলো পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্যতম প্রাচীন ‘বারুণী মেলা’। এদিন ভোরে নদীর ঘাটে পুণ্যস্নানের ঢল নামার পাশাপাশি শান্তি সংঘের পরিচালনায় উত্তর চড়া এলাকায় সাড়ম্বরে এই মেলার উদ্বোধন হয়।
এদিন মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন তাম্রলিপ্ত পুরসভার চেয়ারম্যান চঞ্চল কুমার খাঁড়া। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বৈদ্যনাথ সিনহা, গৌতম পাল, কানাইলাল দাস-সহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। পুরসভার চেয়ারম্যান জানান, যাঁদের পক্ষে দূরবর্তী গঙ্গাসাগরে যাওয়া সম্ভব হয় না, তাঁদের কাছে তমলুকের রূপনারায়ণই গঙ্গা সমান। তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সুবিধার্থে প্রশাসন সবরকম সহযোগিতা করছে।
ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত তো বটেই, ভিন জেলা থেকেও হাজার হাজার পুণ্যার্থী ভিড় জমান রূপনারায়ণের ঘাটে। কনকনে শীত উপেক্ষা করেই চলে পুণ্যস্নান। স্নান সেরে ভক্তরা সারিবদ্ধভাবে প্রাচীন গঙ্গা মন্দিরে ফুল, বাতাসা ও নৈবেদ্য দিয়ে পুজো দেন। মেলা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক উন্নত হওয়ায় এ বছর ভিড় বিগত বছরগুলোর রেকর্ড ছাপিয়ে যেতে পারে। আনুমানিক লক্ষাধিক মানুষের সমাগম প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
"মানুষের মন থেকে আজও পৌরাণিক মাহাত্ম্য মুছে যায়নি। সেই টানেই লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিবছর মায়ের দর্শনে ছুটে আসেন।"
বিশাল জনসমাগম সামাল দিতে প্রশাসন ও পুরসভার পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিশেষ পুলিশ বাহিনী ও সিভিক ভলান্টিয়ার।
ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে সক্রিয় পুলিশি প্রহরা।
তাম্রলিপ্ত পুরসভার স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীরা প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।
মেলা চলাকালীন প্রতিদিন সন্ধ্যায় স্থানীয় ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের নিয়ে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
শান্তি সংঘ ও পুরসভার যৌথ প্রচেষ্টায় আসা পুণ্যার্থীদের পরিষেবার দিকেও কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।