Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

তমলুকের নিমতৌড়িতে ব্যালট সংরক্ষণ ঘিরে বিতর্ক, কেন্দ্রীয় বাহিনী না থাকায় সরব বিজেপি

ভোট মিটলেও বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না পূর্ব মেদিনীপুরের। এবার নিমতৌড়িতে জেলা প্রশাসনিক কার্যালয়ের ট্রেজারি কক্ষে ব্যালট পেপার সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে শুরু হলো তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। কেন্দ্রীয় বাহিনীর অনুপস্থিতিতেই ট্রেজারিতে ব্যালট ঢো…

 




ভোট মিটলেও বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না পূর্ব মেদিনীপুরের। এবার নিমতৌড়িতে জেলা প্রশাসনিক কার্যালয়ের ট্রেজারি কক্ষে ব্যালট পেপার সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে শুরু হলো তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। কেন্দ্রীয় বাহিনীর অনুপস্থিতিতেই ট্রেজারিতে ব্যালট ঢোকানো হয়েছে— এই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিজেপি। জেলা প্রশাসনের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হলেও বিক্ষোভের সুর নরম করেনি পদ্ম শিবির।

প্রশাসন সূত্রে খবর, তমলুক, ময়না, নন্দকুমার, চণ্ডীপুর, পূর্ব পাঁশকুড়া এবং পশ্চিম পাঁশকুড়া— এই ছয়টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর পোস্টাল ব্যালটগুলি নিমতৌড়ির জেলা প্রশাসনিক ভবনের ট্রেজারিতে রাখা হচ্ছে। ডাকঘরের মাধ্যমে আসা এই ব্যালটগুলি যখন ট্রেজারিতে ঢোকানো হয়, তখনই বিতর্কের সূত্রপাত।

বিজেপির দাবি

অন্ধকারে রাখা হয়েছে প্রার্থীদের: সংশ্লিষ্ট প্রার্থী বা তাঁদের নির্বাচনী এজেন্টদের না জানিয়েই ব্যালট পেপারগুলি ট্রেজারিতে ঢোকানো হয়েছে।

নিরাপত্তায় গাফিলতি: ব্যালট ঢোকানোর সময় সেখানে কোনও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ছিল না। শুধুমাত্র রাজ্য পুলিশের উপস্থিতিতেই এই প্রক্রিয়া চলেছে।

ফুটেজ প্রকাশের দাবি: যে সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়া কাজ হয়েছে, সেই সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ জনসমক্ষে আনার দাবি জানিয়েছে বিজেপি।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

পাঁশকুড়ার স্থানীয় নেতৃত্বের তরফে বিষয়টি নজরে আসার পরই জেলাশাসকের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বামদেব গুছাইত সরাসরি আঙুল তুলেছেন প্রশাসনের একাংশের দিকে। তিনি বলেন, "নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে আমাদের ক্ষোভ নেই, কিন্তু রাজ্য পুলিশের কিছু আধিকারিকের ভূমিকা অত্যন্ত সন্দেহজনক। শাসকদলের অঙ্গুলিহেলনেই কি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দূরে রাখা হয়েছিল? যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"


পাল্টা কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন তমলুক সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুজিত রায়। তাঁর কথায়, "বিজেপি তো শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী চায়, প্রয়োজনে তার চেয়েও বড় কোনও নিরাপত্তা নিয়ে আসুক। কিন্তু মানুষের সমর্থন না থাকলে শুধু বাহিনীর জোরে ভোটে জেতা যায় না।"

কী বলছে জেলা প্রশাসন?

অভিযোগ জমা পড়ার পরই নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন। জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার জানিয়েছেন, "বিজেপির অভিযোগ পাওয়ার পরই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথাও কোনও পদ্ধতিগত ত্রুটি ছিল কি না, তা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে যাচাই করা হবে।" তবে বর্তমানে ট্রেজারিতে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসনের তরফে আশ্বস্ত করা হয়েছে।


কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ