পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদে নতুন সভাধিপতি হলেন বিজেপির বামদেব গুছাইত।
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ : প্রায় ১৮ বছরের রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদে তৃণমূল কংগ্রেসের একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতা …
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদে নতুন সভাধিপতি হলেন বিজেপির বামদেব গুছাইত।
২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৭০ আসনের জেলা পরিষদে ৫৬টি আসন জিতে এককভাবে বোর্ড গঠন করেছিল তৃণমূল। বিজেপির ঝুলিতে ছিল মাত্র ১৪টি আসন। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী হন শুভেন্দু অধিকারী। তার পর থেকেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছিল। অবশেষে বিগত সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতির পদত্যাগের পর নতুন বোর্ড গঠনের পথে হাঁটে জেলা প্রশাসন।
ভোটের অংক ও দলবদল
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিনের বিশেষ বৈঠকে বিজেপির ১৪ জন সদস্যের পাশাপাশি তৃণমূলের সিংহভাগ সদস্যই উপস্থিত ছিলেন। সভাধিপতি হিসেবে বামদেব গুছাইতের নাম প্রস্তাব করেন জয়দেব মিদ্দ্যা এবং তা সমর্থন করেন অরূপ কুমার জানা। অন্যদিকে, সহ-সভাধিপতি হিসেবে বাঁসুরি পণ্ডিতের নাম প্রস্তাব করেন পূর্ণিমা দাস এবং সমর্থন জানান বাসুদেব মন্ত্রী। উপস্থিত সকল সদস্যের সর্বসম্মত সম্মতিক্রমেই নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
দায়িত্ব গ্রহণের পরেই প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতার বার্তা দিয়েছেন নতুন সভাধিপতি। দলীয় ভেদাভেদ ভুলে জেলার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
নবনির্বাচিত সভাধিপতি
রাজনৈতিক মহলের মতে, ক্ষমতার অলিন্দে এই রদবদলকে কার্যত মেনে নিয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বও। জেলা পরিষদের বিদায়ী মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ (তৃণমূল) তরুণ জানা বলেন, "সভাধিপতির পদত্যাগের পর জেলা পরিষদ কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। উন্নয়নের স্বার্থে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি নতুন বোর্ডকে সহযোগিতা করব। জেলার স্বার্থে আমাদের সমর্থন থাকবে।"
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের এই পালাবদল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন দেখার, নতুন বোর্ডের হাত ধরে জেলার থমকে থাকা উন্নয়ন কত দ্রুত গতি পায়।