Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

জনদাবির জয়: প্রশাসনের তৎপরতায় রক্ষা পাচ্ছে আমতলার ঐতিহাসিক ক্ষুদিরাম মূর্তি

জনদাবির জয়: প্রশাসনের তৎপরতায় রক্ষা পাচ্ছে আমতলার ঐতিহাসিক ক্ষুদিরাম মূর্তি, স্থানান্তরের দায়িত্বে প্রখ্যাত ভাস্কর বিশ্বরূপ পাল।অবশেষে আন্দোলনের জয় হলো। মেদিনীপুর শহরের প্রবেশদ্বার আমতলায় অবস্থিত জেলার সর্ববৃহৎ শহীদ ক্ষুদিরাম বসু…

 


জনদাবির জয়: প্রশাসনের তৎপরতায় রক্ষা পাচ্ছে আমতলার ঐতিহাসিক ক্ষুদিরাম মূর্তি, স্থানান্তরের দায়িত্বে প্রখ্যাত ভাস্কর বিশ্বরূপ পাল।

অবশেষে আন্দোলনের জয় হলো। মেদিনীপুর শহরের প্রবেশদ্বার আমতলায় অবস্থিত জেলার সর্ববৃহৎ শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর আবক্ষ মূর্তিটি ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে নড়েচড়ে বসল জেলা প্রশাসন। তৃতীয় কাঁসাই সেতুর নির্মাণকাজের জন্য মূর্তির পাদদেশে মাটি খনন এবং লাগাতার প্রবল বৃষ্টিপাতের জেরে এই ঐতিহাসিক স্মারকটি চরম বিপজ্জনক অবস্থায় পড়েছিল। যে কোনো মুহূর্তে মূর্তিটি ধসে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই নাগরিক সমাজ ও স্থানীয় নেতৃত্ব সরব হন। অবশেষে সেই গণদাবির মুখে আজ সকাল থেকেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মূর্তিটি সুরক্ষিত স্থানে সরানোর কাজ শুরু করেছে প্রশাসন।১৯৯৮ সালে স্থাপিত এই ঐতিহাসিক মূর্তিটির এই দুর্দশা নিয়ে প্রথম সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছিলেন শিক্ষক সুদীপ খাঁড়া ও বুদ্ধদেব দাস। এরপরই আন্দোলনের ঝাঁজ বাড়াতে জেলা ডিওয়াইএফআই (DYFI)-এর পক্ষ থেকে জেলাশাসকের (DM) কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। অন্যদিকে, স্থানীয় যুব সমাজকর্মী রাহুল কোলে এলাকার সাধারণ মানুষদের সাথে নিয়ে তীব্র পথ অবরোধের হুঁশিয়ারি দেন এবং প্রিন্ট মিডিয়াতেও এই ঐতিহ্য রক্ষার দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরেন। এই ত্রিমুখী চাপের ফলেই শেষ পর্যন্ত টনক নড়ে প্রশাসনের।শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর এই সুউচ্চ আবক্ষ মূর্তিটি যাতে অক্ষত অবস্থায় নিরাপদ স্থানে সরানো যায়, তার জন্য কোনো ঝুঁকি নেয়নি প্রশাসন। মূর্তিটি বিজ্ঞানসম্মতভাবে সরানোর গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলার প্রখ্যাত ভাস্কর্য শিল্পী বিশ্বরূপ পাল মহাশয়কে। শিল্পী বিশ্বরূপ বাবুর কাছ থেকে জানা গেছে, এই সেতুর কাজে দায়িত্বরত প্রধান ইঞ্জিনিয়ার অনুপ রায় মহাশয় স্বয়ং তাঁর সাথে যোগাযোগ করেন এবং মূর্তিটি সুরক্ষিতভাবে সরানোর এই গুরুদায়িত্ব ওনার ওপর অর্পণ করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মূর্তিটি বর্তমান বিপজ্জনক স্থান থেকে সরিয়ে এনে ওই পার্কেরই প্রবেশদ্বারের মুখে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে পুনঃস্থাপিত করা হবে।আজ সকাল থেকেই যখন প্রশাসনিক তৎপরতায় ক্রেন ও আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে মূর্তি সরানোর কাজ শুরু হয়, তখন পরিস্থিতি সচক্ষে দেখতে আমতলা ক্ষুদিরাম পার্কে পরিদর্শনে যান যুব সমাজকর্মী রাহুল কোলে। তাঁর সাথে ছিলেন সৌভিক পট্টানায়ক, সুশান্ত গোস্বামী সহ অন্যান্য স্থানীয় যুবকেরা। প্রশাসনের এই দ্রুত ও ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করেন।

ঘটনাস্থল থেকে সমাজকর্মী রাহুল কোলে জানান, "এই মূর্তি আমাদের মেদিনীপুরের আবেগ, আমাদের এলাকার ঐতিহ্য। একে কোনোমতেই ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না। আজ প্রশাসন যে তৎপরতা দেখিয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে আমরা কড়া নজর রাখছি, আমাদের এই ঐতিহ্যকে সুরক্ষিতভাবে পুনঃস্থাপিত করার জন্য ভবিষ্যতেও যা যা প্রয়োজন, আমরা বুক চিতিয়ে তা করব।"

ঐতিহাসিক এই স্মারকের সুরক্ষায় প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন মেদিনীপুর ও খড়গপুরের আপামর ইতিহাসপ্রেমী ও সাধারণ মানুষ।