Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

রথযাত্রায় খোশমেজাজে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, প্রথা মেনে তমলুকে টানলেন রথের দড়ি

পুরীতে জগন্নাথদেবের রথযাত্রার পাশাপাশি রবিবার রাজ্য জুড়েই মহাসমারোহে পালিত হল এই উৎসব। আর সেই আবহেই পূর্ব মেদিনীপুরের ঐতিহ্যবাহী তমলুক মহাপ্রভু মন্দিরের রথযাত্রায় দেখা গেল এক চেনা ছবি। প্রতি বছরের মতো এবারও এই প্রাচীন রথযাত্রার স…


পুরীতে জগন্নাথদেবের রথযাত্রার পাশাপাশি রবিবার রাজ্য জুড়েই মহাসমারোহে পালিত হল এই উৎসব। আর সেই আবহেই পূর্ব মেদিনীপুরের ঐতিহ্যবাহী তমলুক মহাপ্রভু মন্দিরের রথযাত্রায় দেখা গেল এক চেনা ছবি। প্রতি বছরের মতো এবারও এই প্রাচীন রথযাত্রার সূচনা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পরেও সেই নিয়মের কোনও ব্যতিক্রম হল না। তাঁর হাত ধরেই সূচিত হল তমলুকের শতাব্দী প্রাচীন এই রথযাত্রা।

​রবিবার সকাল থেকেই তমলুকের মহাপ্রভু মন্দিরে ছিল ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী রথের সূচনা করবেন, তাই সকাল থেকেই মন্দির চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। বিকেল তিনটে নাগাদ কড়া নিরাপত্তার বলয় পেরিয়ে মন্দিরে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

​মন্দিরে প্রবেশ করেই প্রথমে গর্ভগৃহে রাধামাধবের পুজো দেন এবং আরতি করেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর গর্ভগৃহ থেকে বেরিয়ে এসে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাদেবীর রথের সামনে নিষ্ঠাভরে আরতি সারেন তিনি। প্রথা মেনে ঝাড়ু দিয়ে রথের সম্মুখভাগ পরিষ্কার করেন এবং খোল বাজিয়ে কীর্তনেও মেতে ওঠেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই খোশমেজাজি অবতার উপস্থিত ভক্তদের উচ্ছ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়। সবশেষে নারকেল ফাটিয়ে এবং রথের দড়িতে টান দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন তিনি।

​এ দিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী তথা তমলুকের বিধায়ক ডক্টর হরেকৃষ্ণ বেরা, বিধায়ক সিন্টু সেনাপতি, পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার এবং জেলা পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা সহ জেলা প্রশাসনের একঝাঁক উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও স্থানীয় নেতৃত্ব।


​রথযাত্রার পুজো সমাপন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,

​"প্রতি বছরের মতো এবারও আমি তাম্রলিপ্তের ঐতিহ্যবাহী মহাপ্রভু মন্দিরে রথযাত্রা উপলক্ষে এসেছি। আমি বরাবরই একটা কথা বিশ্বাস করি— আমার রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা আমার পদোন্নতি, কোনও কিছুর সঙ্গেই মহাপ্রভু মন্দিরের এই উৎসবের সম্পর্ক নেই। সম্পূর্ণ একজন ভক্ত হিসেবে গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমি এখানে আসছি। এখানকার পুজো কমিটির সদস্যরা আমাকে সবসময় একজন সেবক এবং ভক্ত হিসেবেই আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমি কোন রাজনীতি করি বা কোন পদে আছি, সেটা এখানে বিবেচ্য নয়। আমি একজন সনাতনী, রাধামাধবের শিষ্য এবং ভারতমাতার সন্তান। মহাপ্রভু জগন্নাথদেবের শ্রীচরণের একজন সেবক হিসেবেই আমি প্রতিবার আসি, এবারও এসেছি।"

 তমলুক মহাপ্রভু মন্দিরের রথযাত্রা কার্যত এক মহা মিলনোৎসবে পরিণত হয়।

কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ