অরুণ কুমার সাউ, মহিষাদল: আজ শুধু একটি পরিবারের নয়, গর্বে বুক ভরে উঠেছে গোটা বাংলার।গ্রামীণ বাংলা থেকে আকাশ ছুঁতে ডানা মেলেছে আমাদেরই এক ঘরের মেয়ে—মধুমিতা মাইতি।মহিষাদলের এক সাধারণ গ্রামের মেয়ে, লক্ষ্যা হাই স্কুলের একাদশ শ্রেণির ম…
অরুণ কুমার সাউ, মহিষাদল: আজ শুধু একটি পরিবারের নয়, গর্বে বুক ভরে উঠেছে গোটা বাংলার।গ্রামীণ বাংলা থেকে আকাশ ছুঁতে ডানা মেলেছে আমাদেরই এক ঘরের মেয়ে—মধুমিতা মাইতি।মহিষাদলের এক সাধারণ গ্রামের মেয়ে, লক্ষ্যা হাই স্কুলের একাদশ শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী মধুমিতা নিজের প্রতিভা ও অদম্য অধ্যবসায়ের জোরে পৌঁছে গেছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণার দোরগোড়ায়। ভারতের প্রথম সম্পূর্ণ মহিলা-পরিচালিত চন্দ্র উপগ্রহ প্রকল্প "মিশন শক্তিস্যাট"-এর আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট নির্মাণ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুবর্ণ সুযোগ অর্জন করেছে সে।এই সাফল্যের মাহাত্ম্য আরও বিশাল, কারণ সমগ্র পশ্চিমবাংলা থেকে একমাত্র মধুমিতাই এই গৌরবজনক সম্মান অর্জন করেছে। বিশ্বের ১০৮টি দেশের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে, ভারতের কোটি কোটি ছাত্রীর মধ্য থেকে কঠিন প্রতিযোগিতা পার করে নির্বাচিত হওয়া মাত্র ২১ জনের একজন সে। ১২ হাজার প্রতিযোগীর অনলাইন লার্নিং মডিউল ও চ্যালেঞ্জিং ধাপ পেরিয়ে মধুমিতার এই নির্বাচন যেন শুধু একটি সুযোগ নয়—এটি বিশ্বমঞ্চে বাংলার মেধার এক অনন্য স্বীকৃতি।আগামী ২৩ আগস্ট থেকে দিল্লিতে শুরু হতে চলা এই বিশেষ কর্মশালায় ইসরো এবং স্পেস কিডজ ইন্ডিয়া–এর বিজ্ঞানীদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নিজের হাতে স্যাটেলাইট নির্মাণের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা অর্জন করবে মধুমিতা। ভাবতেই শিহরণ জাগে—যে মেয়েটি গ্রামের স্কুলের বেঞ্চে বসে, স্কুলের 'অটল টিঙ্কারিং ল্যাব'-এ কাজ করতে করতে মহাকাশের স্বপ্ন দেখত, সে আজ চাঁদে যাওয়ার উপগ্রহ নির্মাণের অংশ হতে চলেছে! আগামী ১১ অক্টোবর শ্রীহরিকোটা থেকে এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্বজুড়ে ১২,০০০ ছাত্রীর মধ্যে ভারতের মাত্র ২১ জনের একজন নির্বাচিত।পশ্চিমবঙ্গ থেকে সুযোগ পাওয়া একমাত্র ছাত্রী মধুমিতা । ৮ দিনের আন্তর্জাতিক কর্মশালায় স্যাটেলাইট অ্যাসেম্বলি, ইন্টিগ্রেশন এবং কোটিংয়ের হাতে-কলমে শিক্ষা।এই মিশনের অধীনে তৈরি স্যাটেলাইট পাঠানো হবে চাঁদের কক্ষপথে ও পৃষ্ঠে।পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সম্পাদিকা তথা স্কুলের শিক্ষিকা শুচিস্মিতা মিশ্র এবং গাইড শিক্ষক শুভজিৎ দাসের অনুপ্রেরণায় মধুমিতার এই যাত্রা আজ সফল। মধুমিতা আমাদের শিখিয়ে দিল, বড় স্বপ্নের জন্য কোনো বড় শহর বা রাজকীয় পরিচয়ের প্রয়োজন হয় না। দরকার শুধু সাহস, সততা, অধ্যবসায় আর নিজের ডানার ওপর অগাধ বিশ্বাস। প্রত্যন্ত গ্রামের মাটিতেও যে এমন স্বপ্নের বীজ বোনা যায়, যা একদিন মহাকাশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়—মধুমিতা তার জীবন্ত প্রমাণ।
আজ এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই বাংলার গর্ব মধুমিতাকে। শ্রদ্ধা ও কুর্নিশ জানাই তাঁর সংগ্রামী মা-বাবা, লক্ষ্যা হাই স্কুলের মাননীয় প্রধান শিক্ষক দেবাশিস পাহাড়ী এবং সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাকে, যাঁদের হাত ধরে তৈরি হয়েছে এই ইতিহাস। মধুমিতার এই মহাকাশ জয় আগামী দিনে বাংলার হাজারো কন্যার পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।
