পূর্ব মেদিনীপুর , তমলুক : লড়াই সংগ্রাম করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে চায় অর্পিতা মান্না। উৎসবের মরশুমে তাই কঠোর পরিশ্রম করে পৌঁছে যাচ্ছে গ্রাহকের বাড়ি বাড়ি।পুজোর সময় শহর-গ্রামে অনলাইন কেনাকাটার হিড়িক। সকাল থেকে রাত অবধি প্রতিদিন…
পূর্ব মেদিনীপুর , তমলুক : লড়াই সংগ্রাম করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে চায় অর্পিতা মান্না। উৎসবের মরশুমে তাই কঠোর পরিশ্রম করে পৌঁছে যাচ্ছে গ্রাহকের বাড়ি বাড়ি।
পুজোর সময় শহর-গ্রামে অনলাইন কেনাকাটার হিড়িক। সকাল থেকে রাত অবধি প্রতিদিন শতাধিক পার্সেল পৌঁছে যাচ্ছে ক্রেতাদের দোরগোড়ায়। সেই কর্মব্যস্ত সময়ে পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলের অর্পিতা মান্না এক অন্য লড়াইয়ের কাহিনি লিখছেন নিজের জীবনে। প্রতিদিন ভোর ছ’টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত প্রায় ১৪ ঘণ্টা কর্মব্যস্ততা, স্কুটিতে দিনে প্রায় ৮০ কিলোমিটার যাত্রা, আর তার পাশাপাশি তিন বছরের সন্তানের যত্ন—সবই সামলে এগিয়ে চলেছেন মাত্র ২৫ বছরের এই তরুণী।
অর্পিতার জীবনের গল্প শুরু হয় খুব অল্প বয়সে। স্কুলজীবন থেকেই নিজের খরচ নিজে চালানোর ইচ্ছে ছিল তার। ক্লাস এইটে পড়ার সময় থেকেই টিউশনি করে কিছুটা আয় শুরু করেছিলেন। কলেজে ওঠার পর বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা, এরপর এক ফাইনান্স কোম্পানিতে কাজ, তারপর হলদিয়াতে সিকিউরিটি ম্যানেজারের দায়িত্ব—সবই তার অভিজ্ঞতার ঝুলিতে। কয়েক মাস আগে তিনি যোগ দেন তমলুকের নিমতৌড়িতে একটি ডেলিভারি সংস্থায়। এখানেই বর্তমানে তিনি ডেলিভারি এক্সিকিউটিভ হিসেবে কাজ করছেন। প্রতিদিন প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি পার্সেল মানুষের হাতে তুলে দেন তিনি।
প্রায় পাঁচ বছর আগে মহিষাদলের মেয়ে অর্পিতার বিয়ে হয়েছিল নন্দকুমারে। বর্তমানে স্বামী কর্মসূত্রে ভিনরাজ্যে থাকেন। তাই অর্পিতা এখন বাবার বাড়িতেই থাকেন। সঙ্গী তার বছর তিনেকের ছোট সন্তান। সকালবেলা সন্তানের খাওয়াদাওয়া করিয়ে, নিজের সব কাজ সামলে সকাল ছ’টায় স্কুটি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন অর্পিতা। প্রায় সারাদিনের টানা ডিউটি শেষে রাত আটটা নাগাদ বাড়ি ফেরেন তিনি। সেই সময় সন্তানকে সামলান অর্পিতার মা।
নিজের লড়াই আর মানসিক শক্তির কথা বলতে গিয়ে অর্পিতা বলেন, “মানুষের ইচ্ছে থাকলেই উপায় ঠিক বেরিয়ে আসে। ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছে ছিল নিজের খরচ নিজে জোগাড় করার। এখন সেটা করতে পারছি, পাশাপাশি পরিবারের পাশে দাঁড়াতেও পারছি। এই অনুভূতিটাই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ। আমি যখন যে কাজ করেছি ভালোবেসেই করেছি।”
আজকের দিনে অনেক তরুণীর কাছে অর্পিতা এক প্রেরণা। সমাজ ও পরিবার দুই দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে চলার তার এই সংগ্রামের কাহিনি প্রমাণ করে, আত্মবিশ্বাস থাকলে কোনও বাধাই অতিক্রম করা অসম্ভব নয়। অর্পিতাকে কুর্নিশ জানিয়েছে তাম্রলিপ্ত পৌরসভার উপ পৌর প্রধান লীনা মাভৈঃ রায়।
