অরুণ কুমার সাউ, তমলুক: রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণের বড়সড় রদবদল। তৃণমূল কংগ্রেসের হাতছাড়া হলো পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ। রাজ্যের সাম্প্রতিক পালাবদলের পর সোমবার মেদিনীপুরের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত তৈরি হলো। এই প্রথমবার পূর্ব মেদ…
অরুণ কুমার সাউ, তমলুক: রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণের বড়সড় রদবদল। তৃণমূল কংগ্রেসের হাতছাড়া হলো পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ। রাজ্যের সাম্প্রতিক পালাবদলের পর সোমবার মেদিনীপুরের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত তৈরি হলো। এই প্রথমবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ নিজেদের দখলে নিল ভারতীয় জনতা পার্টি । জেলা পরিষদের নতুন সভাধিপতি নির্বাচিত হয়েছেন এতদিনকার বিরোধী দলনেতা বামদেব গুছাইত।পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের মোট আসন সংখ্যা ৭০। এর মধ্যে তৃণমূলের ৫৬টি এবং বিজেপির ১৪টি আসন ছিল। তবে মাঝপথে ২ জন সদস্যের মৃত্যু হওয়ায় বর্তমান আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৮। সম্প্রতি রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের বিদায়ী সভাধিপতি উত্তম বারিক ও সহ-সভাধিপতি সুহাসিনী কর পদ থেকে ইস্তফা দেন।
সোমবার জেলা পরিষদের সতীশচন্দ্র সামন্ত সভাকক্ষে একটি বিশেষ সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়। ৬৮ জন সদস্যের মধ্যে এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন ৬৪ জন। সভা চলাকালীন জয়দেব মিদ্যা সভাধিপতি পদের জন্য বিজেপি নেতা বামদেব গুছাইতের নাম প্রস্তাব করেন। উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে তিনি নতুন সভাধিপতি নির্বাচিত হন। অন্যদিকে, পূর্ণিমা দাস সহকারী সভাধিপতি পদের জন্য বাঁশুরি পণ্ডিতের নাম প্রস্তাব করলে, উপস্থিত সকলেই তা সমর্থন করেন।নতুন সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতি নির্বাচিত হওয়ার পর জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তাঁদের আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এই জয়ের খবর বাইরে আসতেই সতীশচন্দ্র সামন্ত সভাকক্ষের বাইরে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উল্লাস দেখা যায়। আতসবাজি পুড়িয়ে এবং বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে আবির খেলায় মেতে ওঠেন তাঁরা।এদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত ছিলেন কাঁথির সাংসদ তথা রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাই সৌমেন্দু অধিকারী। কেন্দ্র, রাজ্য, জেলা পরিষদ, সাংসদ এবং বিধায়ক— সব স্তরেই এখন বিজেপি। এবার জেলায় এক অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটবে বলে আশাবাদী গেরুয়া শিবির।

