Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

চিরবিদায় নিলেন 'রচনা প্রসঙ্গ'-এর স্রষ্টা, বিশিষ্ট ব্যাকরণবিদ , সাহিত্যিক কালীপদ চৌধুরী

অরুণ কুমার সাউ, তমলুক: বাংলার সারস্বত সমাজে নক্ষত্রপতন। ৯৪ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন বিশিষ্ট ব্যাকরণবিদ, সাহিত্যিক তথা শিক্ষাবিদ কালীপদ চৌধুরী। পূর্ব মেদিনীপুরের হাউরের এই বর্ষীয়ান ব্যক্তিত্বের প্রয়াণে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে সাহি…


অরুণ কুমার সাউ, তমলুক: বাংলার সারস্বত সমাজে নক্ষত্রপতন। ৯৪ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন বিশিষ্ট ব্যাকরণবিদ, সাহিত্যিক তথা শিক্ষাবিদ কালীপদ চৌধুরী। পূর্ব মেদিনীপুরের হাউরের এই বর্ষীয়ান ব্যক্তিত্বের প্রয়াণে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে সাহিত্য ও শিক্ষামহলে।১৯৩৩ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর ঘাটালের মহারাজপুরে জন্ম নেওয়া কালীপদ চৌধুরী ছাত্রজীবন থেকেই ছিলেন বিদ্যোৎসাহী। ১৯৬৪ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর করার অনেক আগে, ১৯৫৫ সাল থেকেই শুরু করেছিলেন শিক্ষকতা।

পরবর্তীতে ঘোষপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১৯৯৩ সালে তিনি অবসর নেন।১৯৭৩ সালে নবম-দশম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য তিনি লিখেছিলেন প্রথম পাঠ্যপুস্তক ‘রচনা প্রসঙ্গ'। বিগত ৫৩ বছর ধরে আজও এই ব্যাকরণ বইটি পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার শিক্ষার্থীদের কাছে সমান জনপ্রিয়। শুধু তাই নয়, ছোটদের থেকে শুরু করে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী—সব স্তরের জন্যই তাঁর লেখা অসংখ্য ব্যাকরণ ও সহায়িকা বই বাংলা ভাষার ভিত শক্ত করতে সাহায্য করেছে। বই বিক্রি থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ দিয়ে হাউর স্টেশনের কাছে নিজের ২৭ শতক জমিতে তিনি গড়ে তুলেছিলেন অত্যাধুনিক গ্রন্থাগার 'গ্রন্থলোক'। এটিকে তিনি নিজের 'তৃতীয় সন্তান' বলে মনে করতেন। এই গ্রন্থাগারে ১২৬ ধরনের অভিধান সহ প্রায় ৮০টি বিষয়ের ১০ হাজারেরও বেশি বই রয়েছে।উপন্যাসকার হিসেবেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য; 'হার্ট পেশেন্ট' (১৯৭১), 'বন্ধ্যা বিভাবরী', 'জীবনভিলা'-র মতো বহু উপন্যাস তিনি উপহার দিয়েছেন পাঠককে। এছাড়াও সম্পাদনা করেছেন 'সূর্যসারথী' ও 'মরশুমি'-র মতো লিটল ম্যাগাজিন।প্রচারবিমুখ, নিরহঙ্কারী এই মানুষটি কাজের জন্য কোনো সরকারি তকমা না পেলেও, মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা পেয়েছেন। ২০২২ সালে মেদিনীপুর কুইজ কেন্দ্র সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি তাঁকে "মেদিনীপুর রত্ন" উপাধিতে ভূষিত করে।এছাড়া পেয়েছেন সৃজন সম্মাননা (২০১৪), জন্মভূমি দেশরত্ন সম্মান ( ২০০৬), রক্তকরবী সম্মান (১৪২৪), লোককৃতি সম্মান (২০০৩), নারায়ণ চৌবে স্মৃতি পুরস্কার (২০০৫), মালীবুড়ো স্মারক সম্মান (২০১০), মধুসূদন স্মারক সম্মান (২০১৫), তুর্য সাহিত্য সম্মান (২০১০), কোরাস সুজন সম্মান (১৪২০) ইত্যাদি।

পুরস্কারের মোহ সরিয়ে রেখে আজীবন যিনি ঘরে ঘরে সহজ সরল ভাষায় বাংলা ব্যাকরণ পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন, সেই মহান সাধকের প্রয়াণে বাংলা সাহিত্য জগতের একটি যুগের অবসান হলো।

তথ্য ঋণ: ভাস্করব্রত পতি