অরুণ কুমার সাউ, দীঘা: বর্ষা আসন্ন, যেকোনো মুহূর্তে ধেয়ে আসতে পারে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি। আর এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস মাঝেই গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে গেল ১৫ জন মৎস্যজীবী সহ শঙ্করপুরের একটি ট্রলার। নিখোঁজ ট্রলারটির …
অরুণ কুমার সাউ, দীঘা: বর্ষা আসন্ন, যেকোনো মুহূর্তে ধেয়ে আসতে পারে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি। আর এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস মাঝেই গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে গেল ১৫ জন মৎস্যজীবী সহ শঙ্করপুরের একটি ট্রলার। নিখোঁজ ট্রলারটির নাম ‘মা কালী’। ট্রলারটির মালিক রামনগরের দেউলিবাংলার বাসিন্দা অভিজিৎ বেরা। এই ঘটনায় মৎস্যজীবীদের পরিবার এবং মৎস্য মহলে চরম উৎকণ্ঠা ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই শঙ্করপুর বন্দর থেকে ‘মা কালী’ ট্রলারটি গভীর সমুদ্রের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও ট্রলারটি উপকূলে ফিরে আসেনি। ট্রলারে থাকা মৎস্যজীবীদের সাথে সমস্ত রকম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। জানা গেছে, রামনগরের জলধা সেতুর অদূরে আচমকাই ট্রলারটির জিপিএস (GPS) ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
শঙ্করপুর ফিশারম্যান অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক স্বদেশরঞ্জন নায়ক ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে মৎস্য দফতর, স্থানীয় বিধায়ক এবং মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দ্রুত সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।কাঁথির সহ-মৎস্য অধিকর্তা সুমন সাহা বলেন বিষয়টি জানার পরেই ভারতীয় উপকূল রক্ষীবাহিনী এবং উপকূল থানার পুলিশকে জানানো হয়েছে। নিখোঁজ ট্রলারটির সন্ধানে জোর কদমে তল্লাশি শুরু হয়েছে। সমুদ্রে থাকা অন্যান্য ট্রলারকেও সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।" ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশে তৎপর হয়ে উঠেছে জেলা প্রশাসন। গত রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী এবং পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা।উদ্ধারকাজ গতিশীল করতে প্রশাসন নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের সন্ধানে রাতভর সমুদ্রে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে কোস্ট গার্ড। উপকূলবর্তী সমস্ত থানা ও মেরিন ফিসারি দফতরকে সতর্ক করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ওড়িশা সরকারকেও পুরো বিষয়টি জানানো হয়েছে যাতে ওড়িশা উপকূলের দিকে কোনো সন্ধান মিললে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।গভীর নিম্নচাপের পূর্বাভাসের জেরে রাত থেকেই উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে মাইকিং করে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। সমুদ্রে থাকা অন্যান্য ট্রলারগুলোকেও দ্রুত ফিরে আসার বার্তা পাঠানো হয়েছে।বর্তমানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নিখোঁজ ১৫ জন মৎস্যজীবী এবং ট্রলারটির সন্ধান চালানোর চেষ্টা করছে প্রশাসন ও কোস্ট গার্ড। ঘরের মানুষরা অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসুক, এখন এই প্রার্থনাই করছেন পরিজনেরা।
