ক্যলেন্ডারের পাতায় দিনটি ১৪ মার্চ। ১৯ বছর আগেকার সেই অভিশপ্ত সকালের স্মৃতি আজও টাটকা হলদি নদীর তীরের জনপদে। আজ সেই ‘নন্দীগ্রাম দিবস’। তৎকালীন বাম জমানার পুলিশি অভিযানের ক্ষত বুকে নিয়েই দিনটি পালিত হলো এলাকায়। বৃহস্পতিবার সকালে ন…
ক্যলেন্ডারের পাতায় দিনটি ১৪ মার্চ। ১৯ বছর আগেকার সেই অভিশপ্ত সকালের স্মৃতি আজও টাটকা হলদি নদীর তীরের জনপদে। আজ সেই ‘নন্দীগ্রাম দিবস’। তৎকালীন বাম জমানার পুলিশি অভিযানের ক্ষত বুকে নিয়েই দিনটি পালিত হলো এলাকায়। বৃহস্পতিবার সকালে নন্দীগ্রামের গোকুলনগরে শহিদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই তিনি রওনা দিলেন কলকাতার ব্রিগেডের উদ্দেশ্যে।
এ দিন সকাল ১০টা নাগাদ গোকুলনগরের শহিদ মিনারে পৌঁছন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। শহিদদের স্মরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন এবং নীরবতা পালন করেন তিনি। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মীরাও। ২০০৭ সালের এই দিনটিতে ইন্দোনেশীয় সালেম গোষ্ঠীর কেমিক্যাল হাবের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছিল নন্দীগ্রাম। পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল ১৪ জন গ্রামবাসীর। সেই লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে শুভেন্দু বলেন:
"আজকের দিনটি আমাদের কাছে অত্যন্ত আবেগের। নন্দীগ্রামের মানুষের আত্মবলিদান বৃথা যেতে পারে না। আমরা এই দিনটি কখনওই ভুলতে পারি না।"
গোকুলনগর থেকে ব্রিগেড
আজ দিনটি রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যেমন নন্দীগ্রাম দিবস, অন্যদিকে কলকাতায় বিজেপির মেগা সমাবেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভায় যোগ দিতে এদিন তড়িঘড়ি নন্দীগ্রাম ছাড়তে হয় শুভেন্দুকে। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, "আজ প্রধানমন্ত্রী আসছেন। ব্রিগেডে আমাদের বিশাল কর্মসূচি রয়েছে, সেখানে পৌঁছাতে হবে। কিন্তু এই বিশেষ দিনে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আমার প্রথম কর্তব্য।"
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
নন্দীগ্রাম দিবসকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে টানাপড়েন চলে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শুভেন্দু অধিকারী বেরিয়ে যাওয়ার পর তৃণমূলের পক্ষ থেকেও পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ১০ হাজার একর জমি রক্ষার সেই আন্দোলন যা এক সময় বাংলার ক্ষমতা বদলের পথ প্রশস্ত করেছিল, ১৯ বছর পরও সেই আন্দোলনের জমি দখলের লড়াই চলছে যুযুধান দুই শিবিরের মধ্যে।
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ
