রবিবার বিকেলেই বেজেছে ভোটের দামামা। আর ক্যালেন্ডার বলছে, আগামী ২৩ এপ্রিল অগ্নিপরীক্ষা পূর্ব মেদিনীপুরের। রাজ্যের প্রথম দফার ১৫২টি আসনের সঙ্গেই ওই দিন ভোট হতে চলেছে এই জেলার ১৬টি কেন্দ্রে। তবে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার চেয়েও এই মুহূর্…
রবিবার বিকেলেই বেজেছে ভোটের দামামা। আর ক্যালেন্ডার বলছে, আগামী ২৩ এপ্রিল অগ্নিপরীক্ষা পূর্ব মেদিনীপুরের। রাজ্যের প্রথম দফার ১৫২টি আসনের সঙ্গেই ওই দিন ভোট হতে চলেছে এই জেলার ১৬টি কেন্দ্রে। তবে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার চেয়েও এই মুহূর্তে জনমানসে বড় চর্চা হয়ে দাঁড়িয়েছে জেলার নিরাপত্তা। অতীতে খেজুরি থেকে ভগবানপুর কিংবা ময়না থেকে এগরার সেই রক্তমাখা ইতিহাস।
সোমবার জেলাশাসক ইউনিস ঋষিন ইসমাইল সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এবার আর কোনও ফাঁক রাখা হচ্ছে না। জেলায় স্বচ্ছ ও অবাধ ভোট করাতে প্রশাসন যে বদ্ধপরিকর, সেই বার্তাই দিয়েছেন তিনি।
নজরদারিতে কড়াকড়ি
জেলাশাসকের বক্তব্যের নির্যাস অনুযায়ী, এবারের রণকৌশল মূলত তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে:
পর্যবেক্ষকদের বিশেষ নজর: প্রতিটি বিধানসভা পিছু এক জন করে অবজারভার বা পর্যবেক্ষক থাকছেন। তাঁরা দ্রুত জেলায় পা রেখে রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
আন্তঃরাজ্য এবং আন্তঃজেলা সীমান্তে ইতিমধ্যেই কড়া নাকা চেকিং শুরু হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রার্থীদের প্রচারের খরচ এবং গতিবিধির ওপর এখন থেকেই ডিজিটাল নজরদারি চালানো হচ্ছে।
বর্তমানে বিচারাধীন ভোটারদের বাদ রেখেই বুথের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে জেলাশাসক আশ্বাস দিয়েছেন, মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনের আগেই ৮০ হাজার বিচারাধীন ভোটারের তালিকা প্রকাশ করা হবে। ভোটার সংখ্যা বাড়লে প্রয়োজনে বাড়ানো হবে অক্সিলারি বুথের সংখ্যাও।
একুশের নির্বাচনে হাইভোল্টেজ লড়াই দেখেছিল নন্দীগ্রাম। কিন্তু সেই লড়াইয়ের রেশ ভোট মিটতেই বদলে গিয়েছিল শ্মশানের নিস্তব্ধতায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র নন্দীগ্রামে ভোট-পরবর্তী হিংসায় বহু ঘরবাড়ি জ্বলেছে, ভাঙচুর হয়েছে শয়ে শয়ে দোকান। সেই রাজনৈতিক হিংসার ক্ষত আজও টাটকা। তাই এবার আর কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না কমিশন। স্পর্শকাতর বুথগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারি আগেভাগেই শুরু করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক নজরে ভোটের নির্ঘণ্ট প্রথম দফা
ভোটগ্রহণ ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
মনোনয়ন জমা ৬ এপ্রিল, ২০২৬
মনোনয়ন স্ক্রুটিনি ৭ এপ্রিল, ২০২৬
মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ এপ্রিল, ২০২৬
পূর্ব মেদিনীপুরে ১৬টি আসন: তমলুক, পাঁশকুড়া পূর্ব, পাঁশকুড়া পশ্চিম, ময়না, নন্দকুমার, মহিষাদল, হলদিয়া, নন্দীগ্রাম, চণ্ডীপুর, পটাশপুর, কাঁথি উত্তর, ভগবানপুর, খেজুরি, কাঁথি দক্ষিণ, রামনগর এবং এগরা।
রাজনীতির কারবারিদের মতে, ২৩ তারিখের এই লড়াই শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের নয়, বরং পূর্ব মেদিনীপুরের গায়ে লেগে থাকা ‘সন্ত্রাস’ তকমা মোছার লড়াইও বটে। অতীতের সেই অভিশপ্ত স্মৃতি সরিয়ে কমিশন কি পারবে রক্তপাতহীন নির্বাচন উপহার দিতে? উত্তর মিলবে এপ্রিলেই।
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ

