বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কে এক টেবিলে বসে মাছ খাওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা। এদিন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সহ রাজ্য সরকারকে তুলোধোনা করেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী।ভোটযুদ্ধের শেষলগ্নে পূর্ব মেদিনীপুরের মাট…
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কে এক টেবিলে বসে মাছ খাওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা। এদিন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সহ রাজ্য সরকারকে তুলোধোনা করেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী।
ভোটযুদ্ধের শেষলগ্নে পূর্ব মেদিনীপুরের মাটি থেকে সুর চড়ালেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। মঙ্গলবার তমলুকের বিজেপি প্রার্থী হরেকৃষ্ণ বেরার সমর্থনে আয়োজিত জনসভা থেকে তৃণমূলের ‘দুর্নীতি’ ও ‘তোষণ রাজনীতি’ নিয়ে কার্যত রণংদেহি মেজাজে অবতীর্ণ হলেন তিনি। নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে খাদ্যাভ্যাস— বিবিধ ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধে হিমন্তর হুঙ্কার, ‘‘তৃণমূলের দুর্নীতি এতই গভীর যে ওয়াশিং মেশিনে ধুলে সেই দাগ মুছবে না, গঙ্গায় নিয়ে গিয়ে চুবিয়ে চুবিয়ে ধুতে হবে।’
এ দিন তমলুকের নারায়ণদাঁড়িবাস স্ট্যান্ডের সভায় হেমন্তের নিশানায় ছিলেন মূলত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান দিনরাত নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের নাম ‘জপ’ করেন। তোষণের রাজনীতি প্রসঙ্গে হেমন্ত বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে চাই, শুধু আল্লার হাতে ভোট নেই, রামের হাতেও ভোট আছে। উনি ইনশাল্লাহ, খোদা হাফেজ বলেন, কিন্তু জয় শ্রীরাম বলেন না। তবে কথা দিচ্ছি, ওঁর মুখ দিয়েও জয় শ্রীরাম বলিয়ে ছাড়ব।’’
সম্প্রতি রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে বিজেপি নেতাদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে তৃণমূলের সমালোচনার কড়া জবাব দেন হেমন্ত। আসামের ৫১ সতীপীঠের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের ওখানে বলি হয়, আমরা মাছ-মাংস খাই। মুখ্যমন্ত্রীকে আহ্বান জানাচ্ছি, হয় আপনি আসামে আসুন, নয়তো আমায় আমন্ত্রণ জানান। ওঁর থেকে বেশি মাছ খেয়ে দেখিয়ে দেব। অন্তত এক কেজি মাছ একাই খাব।’’
আগামী ৪ জুন ভোটের ফলের পর তৃণমূলের ‘দুষ্কৃতীদের’ কী দশা হবে, তা নিয়েও প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দেন তিনি। হেমন্তের দাবি, প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশায় মোহন মাঝি, বিহারে সম্রাট চৌধুরী এবং আসাম সীমান্তে তিনি নিজে ‘তালা’ মেরে রেখেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘৪ তারিখের পর তৃণমূলের গুণ্ডাদের পালাবার সব পথ বন্ধ হয়ে যাবে। একটাই খোলা পথ থাকবে— মুর্শিদাবাদ হয়ে বাংলাদেশ। আর একবার পালালে সীমান্ত এমন ভাবে সিল করব যে, আর ফেরার পথ থাকবে না।’’
এ দিন আসামের মুখ্যমন্ত্রীর এই ঝোড়ো বক্তৃতা ঘিরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অবশ্য এই বক্তব্যের পাল্টা কোনও প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে হেমন্তর এই ‘চুবিয়ে ধোওয়া’র দাওয়াই যে রাজনৈতিক পারদ আরও চড়িয়ে দিল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ
