রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর এটাই প্রথম রথযাত্রা। আর প্রথম বছরেই উৎসব নির্বিঘ্ন ও জাঁকজমকপূর্ণ করতে রথ পরিচালন কমিটিগুলির পাশে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রথগুলির পরি…
রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর এটাই প্রথম রথযাত্রা। আর প্রথম বছরেই উৎসব নির্বিঘ্ন ও জাঁকজমকপূর্ণ করতে রথ পরিচালন কমিটিগুলির পাশে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রথগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রতিটি কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।
প্রশাসন সূত্রে খবর, রাজ্যের অন্যান্য জেলার পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মোট চারটি রথ উদযাপন কমিটি এই সরকারি সাহায্য পাচ্ছে। তালিকাভুক্ত এই চার কমিটি হলো— দিঘা জগন্নাথ মন্দির, মহিষাদল রাজবাড়ির রথ, তাম্রলিপ্ত মহাপ্রভু মন্দির এবং মেচেদা ইস্কন মন্দির। এই অনুদান প্রাপক কমিটিগুলিকে নিয়ে আগামীকাল, ৭ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলিকে বৈঠকে যোগ দেওয়ার নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।
যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রথ সড়ক পরিদর্শন প্রশাসনের
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণার পরেই কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসন। সোমবার মহিষাদলের প্রায় ২৫০ বছরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রথ পরিদর্শনে যান পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার এবং পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা।
প্রশাসনিক এই পরিদর্শনে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন:
হলদিয়ার মহকুমা শাসক সুরভি সিংলা
মহিষাদলের বিধায়ক সুভাষ চন্দ্র পাঁজা
ইটামগরা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তথা মহিষাদল রথ পরিচালন কমিটির অন্যতম সদস্য রামকৃষ্ণ দাস প্রমুখ।
এদিন রথের চাকা, দড়ি এবং সামগ্রিক পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার পাশাপাশি প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ রথ সড়ক ও মাসির বাড়িও ঘুরে দেখেন আধিকারিকরা।
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার জানিয়েছে"রাজ্য সরকারের নির্দেশ মেনে ঐতিহ্যবাহী রথগুলি যাতে সুন্দরভাবে উৎসব পালন করতে পারে, তার জন্য আমরা সব পরিকাঠামো খতিয়ে দেখলাম। যেখানে যা খামতি রয়েছে, তা দ্রুত পূরণ করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
রথযাত্রায় ভিড় সামলানো এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রশাসনের কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে মহিষাদলের মতো ঐতিহাসিক রথে প্রতি বছরই মানুষের ঢল নামে। সেই সুরক্ষাবলয় খতিয়ে দেখে পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা জানান, "রথযাত্রায় পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের যাতে কোনও ধরনের সমস্যায় পড়তে না হয়, তার জন্য সব রকমের নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। আমরা দফায় দফায় এলাকা পরিদর্শন করছি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।"
নতুন সরকারের এই মেগা অনুদানের পর জেলাজুড়ে রথের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। প্রাচীন ঐতিহ্যকে বজায় রেখে কীভাবে নতুন প্রযুক্তিতে নিরাপত্তা ও উৎসবের মেলবন্ধন ঘটানো যায়, এখন সেটাই দেখার।
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ