অরুণ কুমার সাউ, কোলাঘাট:* কোলাঘাট ফুলবাজারের সামগ্রিক পরিকাঠামোগত উন্নয়ন , আধুনিক ‘ফুলের হাব’ নির্মাণের দাবিতে এবং রেল দপ্তরের তে-বাজারি টিকিট আদায়ে বেসরকারিকরণের উদ্যোগ প্রতিহত করার পাশাপাশি বাজারে মেঝে, শেড, হিমঘর, শৌচাগার, পর…
অরুণ কুমার সাউ, কোলাঘাট:* কোলাঘাট ফুলবাজারের সামগ্রিক পরিকাঠামোগত উন্নয়ন , আধুনিক ‘ফুলের হাব’ নির্মাণের দাবিতে এবং রেল দপ্তরের তে-বাজারি টিকিট আদায়ে বেসরকারিকরণের উদ্যোগ প্রতিহত করার পাশাপাশি বাজারে মেঝে, শেড, হিমঘর, শৌচাগার, পর্যাপ্ত আলো ও পানীয় জলের মতো সমস্ত রকম পরিষেবামূলক ব্যবস্থা চালু করার দাবি নিয়ে কোলাঘাট ফুলবাজার পরিচালন সমিতির পক্ষ থেকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি এবং পাঁশকুড়া পূর্বের বিধায়ককে গণস্বাক্ষর সম্বলিত স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। জেলা পরিষদ সভাধিপতি বামদেব গুছাইত ও বিধায়ক সুব্রত মাইতির উপস্থিতিতে জেলাশাসকের (DM) সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন সারা বাংলা ফুলচাষী ও ফুলব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক,কোলাঘাট ফুলবাজার পরিচালন সমিতির সভাপতি দেবব্রত কোলে, কার্যকরী সভাপতি অনিল প্রামাণিক,যুগ্ম সম্পাদক দিলীপ প্রামানিক সহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।
বৈঠকে পরিচালন সমিতির পক্ষ থেকে জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমারের হাতে সহস্রাধিক চাষী ও ব্যবসায়ীদের গণস্বাক্ষর সম্বলিত একটি স্মারকলিপি তুলে দেন নারায়ণবাবু। উপস্থিত জনপ্রতিনিধিরাও জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমারকে অনুরোধ করেন, তিনি যেন দ্রুত সরজমিনে বাজারটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। জেলাশাসক প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, তিনি অতি দ্রুত বাজারটি পরিদর্শন করবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। প্রসঙ্গত, এর কয়েকদিন আগেই সভাধিপতি ও বিধায়ক মহাশয় নিজে ফুলবাজারটি পরিদর্শন করেছিলেন।কোলাঘাট ফুল বাজার পরিচালন সমিতির উপদেষ্টা তথা ফুলচাষী ও ফুলব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রেল দপ্তর বাজারে আসা চাষী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১০ টাকা থেকে শুরু করে ৪২ টাকা পর্যন্ত 'তে-বাজারি' টিকিট বাবদ অর্থ আদায় করছে। অথচ, এত টাকা রাজস্ব আদায়ের পরেও বাজারে সামগ্রিকভাবে ন্যূনতম কোনো পরিষেবার বন্দোবস্ত নেই।এই বেসরকারিকরণের উদ্যোগের প্রতিবাদে এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবিতে গত ২৫ শে জুন দক্ষিণ-পূর্ব রেলের ডি.আর.এম. (DRM)-এর নিকট বিক্ষোভ ডেপুটেশনের মাধ্যমেও একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানান।
উন্নয়নের দাবির পাশাপাশি বাজারে এই মুহূর্তে তৈরি হওয়া এক চরম অব্যবস্থার কথাও জেলাশাসককে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি নিম্নচাপের জেরে হওয়া ভারী বর্ষণে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে ফুলবাজার সংলগ্ন খাদটি ভরাট করার ফলে জলনিকাশি ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ফলে বাজারের একাংশ এখন জলের তলায়। এই জলমগ্ন পরিস্থিতি থেকে ব্যবসায়ী ও চাষীদের দ্রুত রেহাই দিতে অতি সত্বর উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের জোরালো দাবী জানানো হয়েছে জেলা প্রশাসনের কাছে।
