Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

মন্ত্রী তথা বিধায়কের উদ্যোগে ঝাড়গ্রামে গড়ে উঠবে স্বদেশী আদর্শ গ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, নায়াগ্রাম, ঝাড়গ্রাম : ভারতীয় চিরাচরিত জ্ঞান -বিজ্ঞান, শিক্ষা -শিল্প -কলা-সংগীত চর্চা, খেলা ধূলা ,আয়ূর্বেদিক চিকিৎসা বিজ্ঞান, পরিবেশ সংরক্ষণ, চাষাবাদ এবং সনাতন রীতি -নীতি   আজও প্রাসঙ্গিক ।   ভারতীয় চিরাচরিত…


নিজস্ব প্রতিবেদক, নায়াগ্রাম, ঝাড়গ্রাম : 

ভারতীয় চিরাচরিত জ্ঞান -বিজ্ঞান, শিক্ষা -শিল্প -কলা-সংগীত চর্চা, খেলা ধূলা ,আয়ূর্বেদিক চিকিৎসা বিজ্ঞান, পরিবেশ সংরক্ষণ, চাষাবাদ এবং সনাতন রীতি -নীতি   আজও প্রাসঙ্গিক ।   ভারতীয় চিরাচরিত সনাতন প্রাচীন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের আদলে গড়ে তোলা হবে 'স্বদেশী আদর্শ গ্রাম'। গ্ৰামকে ঘিরে জ্ঞান -বিজ্ঞানের চর্চা কেন্দ্র, হস্তশিল্প -কলা কেন্দ্র , চারণভূমি ও গোপালন কেন্দ্র,  গ্ৰামীন পাঠাগার , খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র, খেলা ধূলা  ও শরীর চর্চা, ভেষজ উদ্যান ও সেবা কেন্দ্রের মতো নানাবিধ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। সেই সঙ্গে পরিবেশের উপাদানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থিতিশীল গ্রামীণ উন্নয়ন  ও  মানব সম্পদ অগ্রগতির লক্ষ্যে  ঝাড়গ্রাম জেলার  নয়াগ্ৰাম ব্লকে প্রথম 'স্বদেশী আদর্শ গ্ৰাম' গড়ে তোলার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। 


 এই উদ্যোগ নিয়েছেন নয়াগ্ৰামের বিধায়ক তথা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভারপ্রাপ্ত প্রতি মন্ত্রী শ্রী  অমিয় কিস্কু । তিনি বলেন , নয়াগ্ৰাম বিধানসভাকে কেন্দ্র করে স্বদেশী আদর্শ গ্ৰাম গড়ে তোলার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত গ্ৰামগুলিকে কেন্দ্র করে উন্নয়নমূলক নানা পরিষেবা কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য প্রাচীন ভারতের আদর্শ ও আধুনিক সময়ের উপযোগী স্বনির্ভর গ্ৰাম গড়ে তোলা।  তিনি আরও বলেন ঝাড়গ্রাম অরণ্য অধ্যুষিত জেলা। আদিবাসী জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ আজও তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা করে চলছেন। কিন্তু বর্তমানে আধুনিক সামাজিক রীতি-নীতি ও সভ্যতার ছোঁয়া লেগেছে গ্রাম -শহর জুড়ে। ঐতিহ্যবাহী উৎসব পরবে বদল এসেছে। তাই প্রাচীন ভারতের ঐতিহ্যের পুনঃ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে। সুবর্ণরেখার নদী অববাহিকা জুড়ে আদি  মানব বাস্তুতন্ত্র  ও মিশ্র সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। তাই মিশ্র সংস্কৃতির এই ভূমিকে কেন্দ্র করেই সুস্থায়ী গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য আদর্শ স্বদেশী গ্ৰাম গড়ে তোলার উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী তথা নয়াগ্ৰামের বিধায়ক বলেন   আগামীদিনে প্রকল্প টি পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।   

'স্বদেশী আদর্শ গ্রাম ' প্রকল্প টির রূপরেখা তৈরি ও বাস্তবায়নের মুখ্য পরামর্শদাতা ও প্রধান বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেবা ভারতী মহাবিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডঃ প্রণব সাহু কে।  বিধায়ক তথা মন্ত্রী  মহোদয়ের আমন্ত্রণে অধ্যাপক প্রণব সাহু প্রাথমিক ভাবে নয়াগ্রামের কয়েক টি গ্রাম পরিদর্শন করেন। সেই সঙ্গে মন্ত্রী মহোদয়ের হাতে প্রকল্পের প্রস্তাবিত প্রাথমিক খসড়া দেন। অধ্যাপক প্রণব বাবু জানান যে বৈদিক যুগ থেকে সিন্ধু সভ্যতা, মৌর্য যুগ থেকে গুপ্ত যুগ, শ্রী চৈতন্যদেবের বৈষ্ণব যুগ থেকে শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ -বিবেকানন্দের মানবতা যুগ  প্রায় ছয় হাজার বছর ধরে ভারতীয় সনাতন ধর্মের সৃষ্টি, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, পরম্পরা, জ্ঞান -বিজ্ঞান আজও আলোর দিশা দেখায়। আজ সেই আলোকিত দিক গুলি মধ্যযুগীয়  ও  ঔপনিবেশিক অপশাসনের আমলে অনেকখানি ধ্বংস হয়ে যায়।   তাই ভারতীয় চিরাচরিত শিক্ষা -শিল্প -কলা-সংগীত চর্চা, খেলা ধূলা ,আয়ূর্বেদিক চিকিৎসা বিজ্ঞান, পরিবেশ সংরক্ষণ, চাষাবাদ এবং বিজ্ঞান ভাবনা পুনঃ স্থাপনের উদ্দেশ্যে এবং স্থানীয় প্রাকৃতিক সম্পদ কে কাজে লাগিয়ে স্বদেশী ভাবনায় সুস্থায়ী গ্রামীণ উন্নয়ন ও মানব সম্পদ বিকাশ  ঝাড়গ্রাম জেলায় 'স্বদেশী আদর্শ গ্রাম ' গড়ে তোলার রূপরেখা ও পরিকল্পনা  নেওয়া হয়েছে। অধ্যাপক সাহু জানাচ্ছেন, একসঙ্গে দুই থেকে তিন টি গ্ৰামকে কেন্দ্র করে উন্নয়নমূলক একাধিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। যেমন ভারতীয় চিরাচরিত জ্ঞান -বিজ্ঞান শিক্ষা কেন্দ্র হিসাবে আর্য্যভট্ট  আলোক কেন্দ্র ,  চিরাচরিত হস্ত ও কারিগরি শিক্ষার বিকাশের জন্য চাণক্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। থাকবে  গোবিন্দ মুরারি চারণভূমি ও গোপালন কেন্দ্র, আয়ুর্বেদ চিকিৎসার জন্য পঞ্চবটি সেবা কেন্দ্র,  জৈব খাদ্য ও উৎপাদন গ্রামীণ পুষা কেন্দ্র, নালন্দা পাঠাগার ও যোগাযোগ কেন্দ্র, বন্দেমাতরম   সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, অভিমুন্য গ্রামীণ ময়দান, একলব্য অরণ্য পরিবেশ সংরক্ষণ কেন্দ্র, পান্ডব জন আহার , চরকা কেন্দ্র ও নীল চাষ, তপোবন ভেষজ আবীর ও ধূপকাঠি তৈরী কেন্দ্র এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের মতো প্রায়  কুড়ি টি বিভিন্ন কেন্দ্র। গ্ৰামের মানুষ প্রতিষ্ঠানগুলির সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকবে।


প্রসঙ্গত ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম ব্লকের প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেরা এবং স্থানীয় প্রাকৃতিক ও মানবিক সম্পদ কে কাজে লাগিয়ে ভারতীয় চিরাচরিত শিক্ষা,  সংস্কৃতি, রীতি - নীতি, আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা, জ্ঞান -বিজ্ঞানের প্রয়োগ ঘটিয়ে পুনঃ স্থাপনের উদ্দেশ্যে ও স্বদেশী ভাবনায় মানবসম্পদ উন্নয়ন ( একান্ত ভারত) এবং কর্মসংস্থান গড়ে তোলা ও উপার্জন বৃদ্ধি ( জাগ্রত ভারত) সুনিশ্চিত করা।  প্রকল্প সমন্বয়ক ও সমীক্ষক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নয়াগ্রামের খড়িকা মাথানির বাসিন্দা ও সমাজ কল্যাণ সেবক সঞ্জয় বারিক।