অরুণ কুমার সাউ, তমলুক:পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুকের ধলহরা গ্রাম পঞ্চায়েতের কিয়াখালী লক্ষীমাতা স্পোটিং ক্লাবের উদ্যোগে আগস্ট বিপ্লবের বীর শহীদ রামেশ্বর বেরার আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি বিভ…
অরুণ কুমার সাউ, তমলুক:পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুকের ধলহরা গ্রাম পঞ্চায়েতের কিয়াখালী লক্ষীমাতা স্পোটিং ক্লাবের উদ্যোগে আগস্ট বিপ্লবের বীর শহীদ রামেশ্বর বেরার আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি বিভাগের মন্ত্রী ডক্টর হরেকৃষ্ণ বেরা। কিয়াখালী লক্ষীমাতা স্পোর্টিং ক্লাবের ৪৭ তম বর্ষের লক্ষ্মীপূজো তত সহ বাৎসরিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বীর শহীদ রামেশ্বর বেরার মূর্তির আবরণ উন্মোচিত হয়।
এই মূর্তির আবরণ উন্মোচন অনুষ্ঠানটির স্মৃতি দীর্ঘদিনব্যাপী মানুষের মধ্যে জাগিয়ে রাখার জন্য ক্লাব সংলগ্ন শ্মশান মাঠের পাশে চারটি পলাশ গাছের চারা লাগানো হয়। এদিন এই অনুষ্ঠানে বীর শহীদ রামেশ্বর বেরার জীবন ও সংগ্রাম কাহিনীর ওপর তমলুকের আঞ্চলিক ইতিহাস চর্চার লেখক জয়দীপ পন্ডার লেখা " আগস্ট বিপ্লবের অমর শহীদ বীর বিপ্লবী রামেশ্বর বেরা"নামাঙ্কিত গ্রন্থটির দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশ করেন মন্ত্রী হরেকৃষ্ণ বেরা।
সমগ্র অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী ডঃ হরেকৃষ্ণ বেরা, প্রাক্তন বিধায়ক ও অধ্যাপক ব্রহ্মময় নন্দ, অধ্যাপক আশুতোষ দাস, বর্ষিয়ান সাংবাদিক জয়দেব মালাকার, ইতিহাস গবেষক ও লেখক জয়দীপ পন্ডা, ধলহারা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান বনশ্রী দোলই, উপপ্রধান সোমা রানা, পঞ্চায়েত সদস্য ভবানীচরণ মাইতি, অনুপ দোলই , সমাজসেবী মৃণাল সামন্ত,শিক্ষক তাপস বেরা সহ বিশিষ্টজনেরা।
প্রায় ২০০ বছরের বিদেশি শাসন শৃঙ্খল থেকে ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। কতশত শহীদের অমূল্য জীবন উৎসর্গের মাধ্যমে এই স্বাধীনতা। স্বাধীনতা আন্দোলনে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক মহকুমায় যে সমস্ত বীর সন্তানেরা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে শহীদ রামেশ্বর বেরা ছিলেন অন্যতম। রক্তাক্ষরে লিখিত থাকবে সেই ইতিহাস।সাধারণ ভাগচাষী পরিবারের সন্তান রামেশ্বর বেরা অজয় মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে থানা দখল অভিযানে সামিল হন। নিজের জীবন দিয়ে থানা দখলের চেষ্টা করেন। ২৯ শে সেপ্টেম্বর ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে তমলুক থানা দখল করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে প্রান দেয়।সেদিন তমলুকের বানপুকুর পাড়ে তিয়াত্তর বছরের বীরাঙ্গনা মাতঙ্গিনী হাজরা, লক্ষীনারায়ণ দাস, নগেন্দ্রনাথ সামন্ত, পূর্ণচন্দ্র হাজরা, জীবনকৃষ্ণ বেরা , পুরীমাধব প্রামানিক সহ মোট ১২ জন বীর শহীদ প্রাণ দিয়েছিলেন।এদের রক্তে পবিত্র হয়েছিল তমলুকের মাটি।
সেদিন রামেশ্বর বেরা গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর জ্ঞান ফিরে এলে কোনরকম গড়াতে গড়াতে থানার দোর গোড়ায় গিয়ে চৌকাঠে হাত রেখে কম্পিত কন্ঠে বলে উঠেছিল- “এই যে আমি এসেছি থানা দখল করছি। তোমরা অজয়দাকে(অজয় মুখোপাধ্যায়) বলে দিও , আমি থানা দখল করলাম"। সেদিন মাতঙ্গিনী হাজরা সহ ১১ জন বীর শহীদের সাথে তমলুক শহর লাগোয়া শহীদ মাতঙ্গিনী পঞ্চায়েত সমিতির অন্তর্গত কিয়াখালী গ্রামের কৃষক পরিবারের শহীদ রামেশ্বর বেরা নিজের রক্ত দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন।




