Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

চন্দ্র বিজয়ের রথে চড়ে ভোট বৈতরনী পার করার অপকৌশল বন্ধ হোক অচিরেই,জয় আপামর জনগনের

তরুণ চট্টোপাধ্যায়। কলকাতা। কি চেয়ে আজ কি যে পেলাম।  লাইনটি সকল সৃষ্টিশীল মানুষের হাড় মজ্জায় অনবরত টোকা দিয়ে যায়।আত্ম বিশ্লেষন ঘটে প্রতি ক্ষণে ক্ষনে।ভিতরে ভিতরে চাওয়া আর পাওয়ার বুদবুদ নিয়ে তৈরি হয় বানিজ্যিক ব্যালেন্স শীট।লাভ…


 

তরুণ চট্টোপাধ্যায়। কলকাতা।
কি চেয়ে আজ কি যে পেলাম। 
লাইনটি সকল সৃষ্টিশীল মানুষের হাড় মজ্জায় অনবরত টোকা দিয়ে যায়।আত্ম বিশ্লেষন ঘটে প্রতি ক্ষণে ক্ষনে।ভিতরে ভিতরে চাওয়া আর পাওয়ার বুদবুদ নিয়ে তৈরি হয় বানিজ্যিক ব্যালেন্স শীট।লাভ বা ক্ষতির কথা হয়তো মানুষটির চেতন মনকে খাঁচায় ভরতে পারে না।কিন্ত অবচেতন মন।সে তো আর এ সবের ধার ধারেনা।হিসাবের পাহাড়ী নদী হয়ে চোরা গোপ্তা আক্রমন চালায় মনের অন্দরে।আর তাই কি চেয়ে আজ কি যে পেলাম। 
এই তো সেদিন বর্ন পরিচয়ের পাঠ শেষ করে উঁচু ইস্কুল। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে লুকোচুরি খেলতে খেলতে পেশা প্রবেশ।বিমানের ককপিটে বসে আকাশ দর্শন। 
সময় বড়ই অবুঝ।কখন কি কাজ সেরে নিতে হবে ঘন্টা বাজিয়ে সে কথা বলে যায় না।অথচ সময়ের ঘড়ি একবার ও থামিয়ে রাখে না।ফল সময় চলিয়া যায়।সে নদীর স্রোতের মতো বা বন্দে ভারতের মতো।যার মতোই হোক পিছনে ফিরে দেখার অবকাশ তার নেই। ফলতু যা পেয়েছি তোমা হতে তুলনা তার নাই বলা ছাড়া আর কিছুই বলার থাকে না।
হাত ঘড়ি খুলে রেখে পেশা জীবন থেকে বিমানের দরজা খুলে রানওয়েতে নেমে আসা।এক শূন্যতা ঘেরা আর এক জীবনে। অনাবশ্যক বা আবশ্যক সে কথা নয়।আর এক ইনিংস এর সূচনা হয়তো বলা যেতে পারে।আর এই সময়ে বেশ মনে পড়ে কি চেয়ে আজ কিযে পেলাম। 
পেয়েছি বা দিয়েছি সে হিসাব আবার আলাদা।আলাপী জীবনে কত নদী নালা খাল বিল বিলি কাটে ।সুড়সুড়ি দেয় চোখে।
না হিসাব মেলাতে বসেও সেই চেতন মন কিছুতেই খাতা খুলতে দেয় না।লাভ লোকসান নিয়ে খামোকা আহাম্মক হতে বারন করে।অবচেতন মনকে চোরা কুঠরিতে তালাবন্ধ করে রাখে।  
থাক হিসাবের খাতা।বাস্তবের রুক্ষ পথেই হাঁটি।সিনিয়র সিটিজেন বা সিনিয়র নয়।সবার কথাই লিখি।কি চেয়ে কি পেয়েছেন সেই কথা আর কি।বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি।গনতান্ত্রিক এ দেশে ধর্মের ট্র্যাবলেট খাবো আবার মানুষের চন্দ্রবিজয় নিয়ে আনন্দে মাতবো।বিজ্ঞান আর ধর্ম কে এক সুতোয় বেঁধে মহাকাশে ঘুড়ি ওড়াবো তা কি করে সম্ভব হবে।দরকার তো বিজ্ঞান মনস্ক মন।
ইসরো তৈরির পিছনে ছিল বিজ্ঞানের হাত ধরে মানুষের জয়ের কেতন ওড়ানো।ভারতের মতো সদ্য স্বাধীন হওয়া একটি দেশের মুকুটে নতুন পালক ।কিন্ত আজ সে বিজ্ঞান কে টাটা বাই বাই করে আমরা কি ধর্মের আফিং এ বুদ হয়ে পড়ছি না?
গো মূত্ত পান করে রোগ সারানোর দাওয়াই দিচ্ছি না?করোনার মতো ভাইরাস কে সরাতে থালা বাজিয়ে সরাতে তো চেয়েছিলাম একদিন। আজ করোনার প্রকোপ করলেও সে তো নির্মূল হয়নি।আবারও যে কোনদিন রক্ত চক্ষু নিয়ে সে আবির্ভাব হতেই পারে।মুখে মাস্ক এঁটে কি লড়াই করা যাবে।ঈশ্বর নির্ভর হয়ে কি বাঁচতে পারা যাবে।
চন্দ্র বিজয়ের সঙ্গে সঙ্গে আমদের প্রধান কাজ হবে নানা ক্ষেত্রেই বিজ্ঞানের সাফল্য কে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে চলা।
ধর্ম যে যার জীবন তো সকলের। ভারতের মতো ধর্ম নিরপেক্ষ এক দেশে মন্দির মসজিদ অবশ্যই গড়ে উঠুক।তবে তা যদি সরকারী উদ্যোগে হয় কথা তো বলতেই হয়।রামের নামে ভোট বা রহিমের নামে তা কেন আসবে।আসবে মানুষের নামে।সবার ওপরে মানুষ সত্য তাহার ওপরে নাই। 
রাজনৈতিক দল হবে সব মানুষের কল্যাণের জন্য। মানুষের মধ্যে বিভেদ কেন।একদিন মানুষের মিলিত শক্তি আমাদের স্বাধীনতার স্বাদ এনে দিয়েছিল। আজ সেই মানুষের মধ্যেই বিভেদ তৈরির সুকৌশল দেখলে খারাপ লাগে বৈকি।অবশ্য তাতে লাভ ক্ষতির হিসাব থাকে।মানুষের নয় ভোট কারবারীদের।
সাধারণ মানুষ চান খেয়ে পরে বেঁচে থাকতে।একটু সুখের জন্য জীবনের সিংহ ভাগ সময় সে অতিবাহিত করে নানা কাজে।কিন্ত তাঁকে সে রাস্তার খোঁজ তো দেবেন দেশের নির্বাচিত সরকার। হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মহান ব্রত তো সেই সরকারের হাতে। বাস্তবের রাস্তার সঠিক সুলুক সন্ধান তো তাদেরই হাতে।
সামনে বৎসর দেশের সাধারণ নির্বাচন। লড়াই বিজেপি জোটের সঙ্গে ইন্ডিয়া জোটের। দু পক্ষেই মাঠে নেমেছেন। একপক্ষ চাইছেন আবারও ধর্মের দোহাই দিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার। আর এক পক্ষ বলছেন এই সরকারের পতন না ঘটলে দেশের মানুষের সমূহ বিপদ। 
ঠিক এরই মাঝে ইসরোর হাত ধরে চাঁদের মাটিতে ভারতের পতাকা উত্তোলন। 23 আগষ্ট সন্ধ্যা সে খবরে উদ্ধেলিত দেশ।সকলেই ভাসলেন স্মৃতি মেদুরতায়।আকাশ বাতাস আনন্দ আর আনন্দ। সে নিয়ে বক্তব্যের অবকাশ নেই। বিজ্ঞানের জয়গান অবশ্যই আনন্দের।তবে সেই জয়ের ভাগিদ্বারিত্ব নিয়ে কথা আসে বৈকি।দেশের বৈজ্ঞানিক দের কষ্টাজিত ফল নিয়ে যখন রাজনিতীর কারবারীরা মাঠে নামেন।ভোট বাস্ক ভরাতে চান।অন্তহীন আশা নিয়ে তাকিয়ে থাকেন সেই সুফলের ভাগীদার হতে।ধর্মের তাস নিয়ে নেমে পড়েন দাবার চাল দিতে।  লাভ লোকসান নিয়ে সাধারণের ভাবনা আর সরকারের ভাবনার মধ্যেই অমিলের অঙ্ক।অথচ সরকার গড়েন আপামর জনগন।জনগনের ভোটেই তৈরি হয় সরকার। সরকার গড়ার কারিগর তো মানুষ ই।
আমাদের দেশ দরিদ্র কি ধনী সে কথা আলাদা।আমাদের আকাঙ্খা আকাশ সমান দেশের সরকারের কাছে।সাধারণের করের টাকায় চলে দেশ।এই যে চন্দ বিজয় সে যে খরচ ই হোক সে যোগান তো দেন দেশের জনগন। ফলে সে সুফল ভোগের অধিকার অবশ্যই তাদের। দেশ প্রেমিক তারাই।
সরকার থাকবে না নতুন সরকার আসবে সে সিদ্ধান্ত নেবেন তারাই।
একবার সীমান্তে পাকিস্তান কে দুরমুশ করার বার্তা দিয়ে  বা চীন কে রক্ত চক্ষু দেখিয়ে ভোট জেতার কৌশল কে স্বাগত জানিয়ে আর যাই হোক দেশের মঙ্গল হয় না।বরং পিছিয়ে পড়তে হয়।
বিজ্ঞানের জয়গান অবশ্যই করবো।ধর্মের জয়গান নয়।ভারতের এই বিজয় রথ অক্ষুন্ন থাকুক।ভারত জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লাভ করুক। ভারতবাসী হিসাবে সকলেই গর্বিত। 
কিন্ত এই চন্দ্র বিজয়ের রথের সারথী হিসাবে কোন দল যখন ভোট বৈতরনী পার হবার ইচ্ছে প্রকাশ করেন তখন তো প্রশ্ন আসেই।নানা কথা ভাসে।পারানীর কড়ি যোগান কে দেয়,সেই তো জনগন।
        আয় আয় চাঁদ মামা টি দিয়ে যা।সেই চাঁদের মাটিতে বিক্রম অমিত বিক্রমে হেঁটে চলে ভারতের বিজয় কেতন ওড়াচ্ছেন।
আর সেই জয়কে পকেটস্হ করে দেশের সরকার যদি রাজনৈতিক ফায়দা লুঠতে চান আপত্তি তো থাকেই। চন্দ্র বিজয় দেশের জয়।সরকারের জয় নয়।
আসুন আমরা গর্বে বুক ভরাই।
বিজ্ঞান আশীর্বাদ অভিশাপ নয়।রাজনিতীর পাশার কারবারীদের সে কথা বুঝতে হবে।জনগনকে দাবার ঘুঁটি না করে দেশের খুঁটি করে রাখাটাই সরকারের কাজ।ভোট জিততে চন্দ্র বিজয় কে হাতিয়ার করবেন না।এ বিজয়ের রথের চাকা মানুষ। সরকার নয়।

তরুণ চট্টোপাধ্যায়।