Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

কোলাঘাটে জীবনসংগ্রামে দিশাহীন বৃহন্নলারাই করবেন পুজোর উদ্বোধন

অরুণ কুমার সাউ, কোলাঘাট : কোলাঘাট নতুন বাজার সংকেত ক্লাব এবং ছাত্র সংঘ আয়োজিত দুর্গোৎসব এই বছর ৫৩তম বর্ষে পদার্পণ করল। সারাবছর বহুমুখী জনকল্যাণমূলক এবং সমাজ সচেতনতার কাজে এই ক্লাবের নাম জেলা ছাড়িয়ে বহুদূর বিস্তৃত।এই বছর এই পুজ…


অরুণ কুমার সাউ, কোলাঘাট : কোলাঘাট নতুন বাজার সংকেত ক্লাব এবং ছাত্র সংঘ আয়োজিত দুর্গোৎসব এই বছর ৫৩তম বর্ষে পদার্পণ করল। সারাবছর বহুমুখী জনকল্যাণমূলক এবং সমাজ সচেতনতার কাজে এই ক্লাবের নাম জেলা ছাড়িয়ে বহুদূর বিস্তৃত।এই বছর এই পুজোর সূচনা হচ্ছে প্রায় ৫১ জন বৃহন্নলাদের মানব পূজার মাধ্যমে। মহালয়ার দিন দেবীপক্ষের সূচনায় দেবী আরাধনার যাবতীয় উপাচার সামগ্রী সাজিয়ে নববস্ত্রে, ফুল-মালায় পুরোহিত দ্বারা মন্ত্রোচারণে এই বৃহন্নলাদের বন্দনা অনুষ্ঠিত হবে। তারপর তাঁরা উৎসব প্রাঙ্গণের ফিতে কেটে, পর্দা উন্মোচন করে উৎসবের সূচনা করবেন।এদিন কোলাঘাট ব্লকের গ্রামস্তরে নিয়োজিত সরকারি মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীদেরও সম্বর্ধনা জানিয়ে ' সমাজবন্ধু ' সম্মানে সম্মানিত করা হবে।এই স্বাস্থ্যকর্মীরাই সদ্য উন্মোচিত দুর্গাবাহিনীর উদ্দেশ্যে মঙ্গলদ্বীপ প্রদর্শন করবেন। সম্পাদক সম্রাট ভৌমিক জানান, আজকের সমাজের কাছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতেই তাঁরা এই ভাবনা ও কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে কিছু মানুষ জন্মগত কারণ থেকেই ব্যতিক্রমী লিঙ্গ ও শারীরিক গড়নের জন্য সমাজ-সংসারে, কর্মক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে তাচ্ছিল্য, বিদ্রুপ, উপহাস, গঞ্জনা, বঞ্চনার শিকার হন। আমরা এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁদের শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাতে চাই। বার্তা দিতে চাই -ওরা আমাদেরই লোক ।


শুধুমাত্র উদ্বোধন নয়,বৃহন্নলাদের জীবন প্রবাহ নিয়ে পুজো প্রাঙ্গণে তথ্যবহুল প্রদর্শনী থেকে এই বিষয়ক সেমিনার ও সভার আয়োজন করা হয়েছে।সমাজ উন্নয়নে একাধিক কর্মসূচি ইতিমধ্যেই এই আয়োজকদের উদ্যোগে শারদোৎসবের সূচনা হয়েছে পুজোর খরচ বাঁচিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন ব্লকের দুঃস্থ যক্ষা রোগীদের পুষ্টিযুক্ত খাদ্যসামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে।এছাড়াও উৎসবের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অনুযায়ী প্রায় তিনশ জন দুঃস্থ বয়স্ক মানুষের চোখে পাওয়ার ম্যাচিং চশমা, বয়স্কদের হাতে লাঠি, দুঃস্থ ছাত্রছাত্রীদের হাতে লেখাপড়ার সামগ্রী তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুজো কমিটির সম্পাদক সম্রাট ভৌমিক। সম্পাদক বলেন, এবারের আয়োজন উৎসর্গ করা হয়েছে আর্ত, মুমূর্ষু, দরিদ্র মানুষের সেবায় এবং সমাজ উন্নয়ন ও সচেতনতায় বহুমুখী কর্মসূচির মাধ্যমে। সচেতনতামূলক বার্তা এবং অন্যান্য আয়োজন সাজসজ্জায় সারা মণ্ডপজুড়ে শোভা পাবে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ, বিবাহ অনুষ্ঠানে পণ প্রথার বিরুদ্ধে, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, প্লাস্টিক দূষণ রোধ এবং পথ নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মডেল ও চিত্র প্রদর্শনী। অনুষ্ঠিত হবে মরণোত্তর অঙ্গদান অঙ্গীকার শিবির।পুজোর কদিন আগত অগণিত দর্শনার্থীদের মধ্যে প্রতিবারের মতো এবারও হাতে হাতে গরম খিঁচুড়ি ভোগ প্রসাদ বিতরণ করা হবে। চন্দননগর থেকে আসছে জগদ্ধাত্রী ঘরানার প্রায় বিশ ফুট উচ্চতার স্বর্ণালী গহনার সাজে সজ্জিতা দুর্গাবাহিনী। পুজোর এলাকাজুড়ে থাকবে অত্যাধুনিক ও বৈচিত্র্যময় ডিজিটাল লাইট ও সাউন্ড সিস্টেম। মহালয়ার দিন উদ্বোধনের দিন থেকে মহাষষ্ঠীর দিন পর্যন্ত আট দিন ধরে অনুষ্ঠিত হবে শারদোৎসব বিষয়ক বসে আঁকো, দুর্গা সাজো প্রতিযোগিতা-সহ নানা অনুষ্ঠান। পুজো কমিটির সভাপতি অভিজিত সামন্ত জানিয়েছেন,-পুজোর জাঁকজমকের সাথে সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আর্ত দরিদ্রদের সেবা এবং সমাজ উন্নয়ন ও সচেতনতামূলক বহুবিধ কর্মসূচিকে।