কাজল মাইতি, দেশ মানুষ: কেউ গিয়েছিলেন অভাবের তাড়নায় দু-পয়সা বাড়তি রোজগারের আশায়, কেউ আবার স্রেফ ঝোঁকের বশবর্তী হয়ে। কিন্তু সেই 'আনন্দপুর' যে তাঁদের জীবনে এমন চরম 'নিরানন্দ' বয়ে আনবে, তা দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি পরিজনরা…
কাজল মাইতি, দেশ মানুষ:
কেউ গিয়েছিলেন অভাবের তাড়নায় দু-পয়সা বাড়তি রোজগারের আশায়, কেউ আবার স্রেফ ঝোঁকের বশবর্তী হয়ে। কিন্তু সেই 'আনন্দপুর' যে তাঁদের জীবনে এমন চরম 'নিরানন্দ' বয়ে আনবে, তা দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি পরিজনরা। আনন্দপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন শোকস্তব্ধ পূর্ব মেদিনীপুরের দুই গ্রাম— শালিকাগড়চক ও ধনিচক। প্রশাসনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলা থেকে এখনও পর্যন্ত ১৬ জন নিখোঁজ। যার মধ্যে তমলুক ব্লকের এই দুই গ্রাম থেকেই রয়েছেন ৬ জন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নন্দকুমারের বাসিন্দা সন্দীপ মাইতির হাত ধরেই মূলত এই কারখানায় কাজে গিয়েছিলেন জেলার দক্ষ শ্রমিকরা। ফুলের ডেকোরেশনের কাজে তমলুকের এই মিস্ত্রীদের খ্যাতি ছিল জেলাজুড়ে। লক্ষ লক্ষ টাকার কারখানায় নিপুণ হাতে সাজাতেন উৎসবের আঙিনা। কিন্তু গত রবিবার কালরাত্রি সব ওলটপালট করে দিল। কারখানায় আগুন লাগার পর থেকে শশাঙ্ক জানা, দেবাদিত্য দিন্দা, ক্ষুদিরাম দের আর হদিশ মেলেনি।
আহত অবস্থায় কোনোক্রমে বাড়ি ফিরেছেন সুশান্ত জানা। পিজি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাড়ি ফিরলেও তাঁর দু’চোখে এখনও সেই লেলিহান শিখার আতঙ্ক। সুশান্ত জানান, "গভীর রাতে যখন আগুন লাগে, কাকা আমাকে ডেকে তুলে দিয়েছিল। কিন্তু চারদিকে ধোঁয়া আর আগুনের গোলার মধ্যে কাকাকে আর দেখতে পেলাম না।" কাকা নিজে বাঁচিয়ে দিলেও শেষ পর্যন্ত কোথায় হারিয়ে গেলেন, সেই উত্তর হাতড়ে বেড়াচ্ছেন সুশান্ত।
একাদশ শ্রেণির ছাত্র দেবাদিত্যের 'জেদ'ই কাল হলো
নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছে একাদশ শ্রেণির পড়ুয়া দেবাদিত্য দিন্দার নাম। পরিবারের অমতেই গত মঙ্গলবার বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল সে। বাড়িতে বলেছিল, "বন্ধুর সঙ্গে যাচ্ছি।" পরিবারের লোকজনের বাধা মানেনি কিশোর মন। সেই জেদই এখন কাল হয়েছে পরিবারের কাছে। ছেলের কোনো খবর না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা-বাবা।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা থেকে মোট ১৬ জন এখনো পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে তমলুক ব্লকের শালিকাগড়চক ও ধনিচক গ্রাম।এছাড়াও পাঁশকুড়া,নন্দকুমার, হলদিয়া,ময়না এলাকার শ্রমিকরা রয়েছে।
আহত অবস্থায় ১ জন শ্রমিক বাড়ি ফিরেছেন।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, কারখানায় দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। বর্তমানে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চললেও, সময় যত গড়াচ্ছে ততই ক্ষীণ হচ্ছে প্রাণের আশা। উৎসবের মরসুম শেষ হওয়ার আগেই পূর্ব মেদিনীপুরের গ্রামগুলোতে এখন শুধুই শ্মশানের স্তব্ধতা আর স্বজনহারাদের কান্নার রোল।এর পাশে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন রয়েছে। তমলুক থানার আইসি সুমন বগি তমলুক এর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে শোকোস্তব্ধ পরিবারের সাথে কথা বলছেন।