আজ সন্ধ্যায় মেদিনীপুর শহরের জর্জকোর্ট এলাকার সুপরিচিত ক্যাফেটেরিয়া 'Any Belly' তে প্রকাশিত হলো তিতকি পাব্লিকেশন এর দ্বিতীয় মুদ্রণ নিবেদন "ভূমিজ ব্যাকরণ" লেখক রাজেশ সর্দার। মোড়ক উন্মোচনের মাধ্যমে নতুন বইটির উদ্ব…
আজ সন্ধ্যায় মেদিনীপুর শহরের জর্জকোর্ট এলাকার সুপরিচিত ক্যাফেটেরিয়া 'Any Belly' তে প্রকাশিত হলো তিতকি পাব্লিকেশন এর দ্বিতীয় মুদ্রণ নিবেদন "ভূমিজ ব্যাকরণ" লেখক রাজেশ সর্দার। মোড়ক উন্মোচনের মাধ্যমে নতুন বইটির উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট অনুবাদক ও সম্পাদক(স্বরান্তর) শৈবাল নন্দ মহাশয়, আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সম্পাদিকা ও কবি সোনালী গোষ্বামী, অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গদ্যকার অঞ্জন সিকদার। এছাড়াও উজ্বল উপস্থিতি ছিল পরিবেশ বিষয়ক লেখক/আলোকচিত্রী রাকেশ সিংহদেব(তিত্কি সহসম্পাদক), তিত্কি-র প্রকাশক অভিজিৎ কাটিআর, কবি তৌফিক হোসেন, কবি সুব্রত দাস, কবি অমিত পণ্ডিত, গল্পকার সঞ্জীব ভট্টাচার্য্য প্রমুখ।
নতুন বইয়ের প্রসঙ্গে তিতকি পাব্লিকেশন এর কর্ণধার গৌতম মাহাত বলেন - "ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, ভাষার সঙ্গে যুক্ত থাকে একটি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পরিচয়। ভারতের প্রাচীন আদিবাসী ভাষাগুলোর মধ্যে ভূমিজ ভাষা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও লিখিত ব্যাকরণের অভাবে এই ভাষা সংকটের মুখে পড়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে রাজেশ সর্দারের এই 'ভূমিজ ব্যাকরণ' গ্রন্থটি নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। এই বইয়ের সবচেয়ে বড় ভূমিকা হলো ভূমিজ ভাষাকে একটি সুসংহত ব্যাকরণিক কাঠামোর মধ্যে উপস্থাপন করা।" অক্ষর সাধনার ক্ষেত্রে লেখক রাজেশ সর্দার এই গ্রন্থে কেবল ভাষাতাত্ত্বিক দিকেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; তার কলমে উঠে এসেছে ভূমিজ জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতাও। এতে বোঝা যায়, ভাষা কীভাবে জীবনযাত্রা, প্রকৃতি ও লোকাচারের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এই দৃষ্টিভঙ্গি বইটিকে নিছক ব্যাকরণগ্রন্থের গণ্ডি ছাড়িয়ে একটি সাংস্কৃতিক দলিল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
নতুন বই প্রসঙ্গে সমাজ আন্দোলন কর্মী ততথা প্রকাশক অভিজিৎ কাটিআর বলেন - "রাজেশ সর্দারের বই একটি ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখার সচেতন প্রয়াস। আদিবাসী ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি যখন এখনও পর্যাপ্ত সংবেদনশীল হয়ে ওঠেনি, তখন এমন উদ্যোগ আরও বেশি করে আলোচিত ও সমর্থিত হওয়া প্রয়োজন।" শিক্ষার্থী, গবেষক এবং ভূমিজ সমাজের নতুন প্রজন্মের জন্য এই বই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে এবং ভবিষ্যতে পাঠ্যপুস্তক রচনার ভিত্তি হিসেবে "ভূমিজ ব্যাকরণ" অনন্য ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি, ভাষা সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবনের আন্দোলনে এটি হয়ে উঠবে এক শক্তিশালী হাতিয়ার।


