ভোটগণনার আগের রাতে নির্ঘুম জেলা, লড়াইয়ের ময়দান ছাপিয়ে এখন মিষ্টিমুখের অপেক্ষারাত পোহালেই ভাগ্যপরীক্ষা। কাল সকালেই খুলে যাবে ইভিএম-এর রুদ্ধদ্বার বাক্স। পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের রক্তচাপ যখন ক্রমশ চড়ছে,…
ভোটগণনার আগের রাতে নির্ঘুম জেলা, লড়াইয়ের ময়দান ছাপিয়ে এখন মিষ্টিমুখের অপেক্ষা
রাত পোহালেই ভাগ্যপরীক্ষা। কাল সকালেই খুলে যাবে ইভিএম-এর রুদ্ধদ্বার বাক্স। পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের রক্তচাপ যখন ক্রমশ চড়ছে, ঠিক তখনই জেলার মিষ্টির দোকানগুলোতে তুঙ্গে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দান ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে— কার পাতে পড়বে সবুজ রসগোল্লা, আর কেই বা কামড় বসাবে গেরুয়া লাড্ডুতে?
কড়া নিরাপত্তায় কাউন্টিং স্টেশন
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, ১৬টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটি গণনা কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে জারি করা হয়েছে কড়া বিধিনিষেধ। রাজনৈতিক দলগুলি ইতিমধ্যেই গণনা কেন্দ্রের বাইরে তাদের অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করে ফেলেছে। কর্মী-সমর্থকদের ভিড় সামলাতে এবং জয়ের খবর পাওয়ার সাথে সাথে উদযাপনে মাততে সব প্রস্তুতিই সেরে রেখেছে ঘাসফুল ও পদ্ম শিবির।
মিষ্টির বাজারে রঙের লড়াই
ভোটের ফল যাই হোক, বাঙালির উৎসবে মিষ্টি থাকবে না, তা বোধহয় ভাবাই যায় না। তমলুক শহরের দোকানগুলিতে এখন সাজ সাজ রব। জামাইষষ্ঠী বা ভাইফোঁটার সেই চেনা ব্যস্ততা ফিরে এসেছে ভোটের ফলাফলের আবহে।
দোকানদাররা কোমর বেঁধে নেমেছেন রাজনৈতিক রঙ মিলিয়ে মিষ্টি তৈরি করতে।
গেরুয়া লাড্ডু: প্রায় ১০ হাজার পিস লাড্ডু তৈরি করে রেখেছে বিজেপি শিবিরের সম্ভাব্য জয় উদযাপনের জন্য।
সবুজ রসগোল্লা: জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য তৈরি হয়েছে প্রায় ৬ হাজার সবুজ রসগোল্লা।
এক মিষ্টি ব্যবসায়ী হাসিমুখে জানালেন, "কে জিতবে আর কে হারবে, সেটা ইভিএম বলবে। কিন্তু আমরা জানি, জয়ী পক্ষ মিষ্টিমুখ করবেই। তাই আগাম ফরমাশ আর বাজারের চাহিদা মাথায় রেখে আমরা কোনো ঝুঁকি নিইনি।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ব মেদিনীপুরের এই ১৬টি আসন রাজ্যের মসনদ দখলের লড়াইয়ে অত্যন্ত নির্ণায়ক। তবে রাজনীতির এই ম্যারাথন দৌড় শেষে এখন শুধুই কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। কাল বেলা বাড়লেই স্পষ্ট হবে, তমলুকের মিষ্টির দোকানে তৈরি রাখা ওই হাজার হাজার লাড্ডু আর রসগোল্লা শেষমেশ কোন শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের মুখে হাসির ঝিলিক আনে।
গণনা কেন্দ্রের বাইরে এখন কেবল থমথমে অপেক্ষা, আর মিষ্টির দোকানে রসে ডোবা উত্তেজনার সুবাস।
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ
