দিঘার উত্তাল সমুদ্রে শুটিং করতে গিয়ে অকালপ্রয়াণ ঘটেছে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সোমবার তাঁর ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট আসতেই স্পষ্ট হয়েছে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ। চিকিৎসকদের দাবি, দীর্ঘ সময় সমুদ্রের তলায় ডুবে থাকায় অভ…
দিঘার উত্তাল সমুদ্রে শুটিং করতে গিয়ে অকালপ্রয়াণ ঘটেছে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সোমবার তাঁর ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট আসতেই স্পষ্ট হয়েছে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ। চিকিৎসকদের দাবি, দীর্ঘ সময় সমুদ্রের তলায় ডুবে থাকায় অভিনেতার ফুসফুস ও শ্বাসনালীতে প্রচুর পরিমাণে বালি এবং নোনা জল ঢুকে গিয়েছিল। এর ফলেই তাঁর ফুসফুসের স্বাভাবিক আকৃতি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
রবিবার বিকেলে ওড়িশার তালসারি সৈকতে একটি জনপ্রিয় ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। রবিবার রাতেই দেহ আনা হয়েছিল তাম্রলিপ্ত গভর্মেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। সোমবার সকালে সেখানে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পুলিশি নির্দেশে গোটা প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফি করা হয়েছে। মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও শারীরিক অসুস্থতা বা কারণ ছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে ভিসেরা ও হিস্টো-প্যাথলজি পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
এ দিন সকাল থেকেই হাসপাতাল চত্বর ছিল কার্যত সাধারণ মানুষের দখলে। প্রিয় অভিনেতাকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার অনুরাগী। কারও হাতে মালা, কারও চোখে জল— গোটা চত্বর যেন এক বিষণ্ণ জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। উপস্থিত ছিলেন রাহুলের আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা। কান্নায় ভেঙে পড়ে তাঁর মামা বলছিলেন, "শুটিং করতে গেল ছেলেটা, আর ফিরল নিথর হয়ে। বিশ্বাসই করতে পারছি না।"
উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্টরা
ময়নাতদন্ত চলাকালীন হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা। অভিনেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পৌঁছেছিলেন জেলা তৃণমূলের নেতৃত্ব। পাশাপাশি তমলুকের বিজেপি প্রার্থী তথা চিকিৎসক হরেকৃষ্ণ বেরাও উপস্থিত হয়ে শোক প্রকাশ করেন। রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সকলেই স্তব্ধ ছিলেন এই মর্মান্তিক ঘটনায়।
উঠছে প্রশ্ন
পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কেন একজন অভিনেতাকে প্রাণ দিতে হলো, তা নিয়ে বিনোদন জগতে ক্ষোভ ও প্রশ্ন দানা বাঁধছে। শুটিং স্পটে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সোমবার বিকেলেই ময়নাতদন্তের পর রাহুলের মরদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সেখান থেকে অভিনেতার শেষ যাত্রার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। তাঁর আকস্মিক প্রস্থান বাংলা টেলিভিশন জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করল।
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ
