Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

পূর্ব মেদিনীপুরে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা, পাঠ্যপুস্তকের ইতিহাস বিকৃতি নিয়ে সরব তমলুকের বিধায়ক

কাজল মাইতি, দেশ মানুষ​মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্য স্তরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের বিশেষ সংবর্ধনা দিল ‘অ্যাডভান্স সোসাইটি ফর হেডমাস্টার অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেস’ (ASHM)-এর জেলা কমিটি। তমলুকের কেলোমাল সন্…

 কাজল মাইতি, দেশ মানুষ

​মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্য স্তরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের বিশেষ সংবর্ধনা দিল ‘অ্যাডভান্স সোসাইটি ফর হেডমাস্টার অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেস’ (ASHM)-এর জেলা কমিটি। তমলুকের কেলোমাল সন্তোষিনী হাই স্কুলে বুধবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জেলার মোট ২৭ জন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে পুষ্পস্তবক, বই ও কলম তুলে দিয়ে সম্মানিত করা হয়। তবে কৃতিদের সংবর্ধনা দেওয়ার পাশাপাশি এই মঞ্চ থেকেই দেশের স্বাধীনতা পরবর্তী শিক্ষা ব্যবস্থা ও ইতিহাস চর্চা নিয়ে তীব্র নিশানা করলেন তমলুকের বিধায়ক হরেকৃষ্ণ বেরা।

​এ দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বিধায়ক হরেকৃষ্ণ বেরা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ভারতের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি অভিযোগ তোলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতের প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। বিধায়কের কথায়,

​“ভারতবর্ষের বীরত্বের ইতিহাস, দেশের বীরেরা কীভাবে বহিরাগত শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, সেই গৌরবের কথা আমাদের পাঠ্যপুস্তকে লিখতেই দেওয়া হয়নি। ফলে বর্তমান প্রজন্ম তা জানতে পারছে না। এর জন্য যদি কাউকে দায়ী করতে হয়, তবে স্বাধীনতার পরবর্তী ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থাকেই করতে হবে।”

​তাঁর দাবি, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে এমন উপাদান থাকা উচিত যা দেশের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য ও গৌরবময় অধ্যায়কে তুলে ধরে। কিন্তু তা না করে ইতিহাসকে স্রেফ ‘কয়েকটি নাম মুখস্থ করার’ বিষয়ে পরিণত করা হয়েছে।

​অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের ২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP)-র পক্ষে সওয়াল করেন বিধায়ক। তিনি বলেন, “ইতিহাসের এই বিকৃতি সংশোধনের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার যে নতুন শিক্ষানীতি এনেছে, তা সারা দেশে চালু হলেও পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তা রাজ্যে কার্যকর করতে দেয়নি। যার ফলে বাংলার ছাত্র-ছাত্রীরা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে।” এর পরেই রাজনৈতিক ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে তিনি যোগ করেন, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে এই শিক্ষানীতি নিয়ে কাজ করবে।

​রাজনৈতিক তরজার পাশাপাশি, শিক্ষা ক্ষেত্রে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী সাফল্যের কথাও এ দিন উঠে আসে। প্রতি বছরের মতো এবারও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে জেলার ছাত্র-ছাত্রীরা যে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে, তা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন উপস্থিত অতিথিরা।

​এ দিনের এই গৌরবময় অনুষ্ঠানে কৃতিদের উৎসাহিত করতে বিধায়ক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ‘অ্যাডভান্স সোসাইটি ফর হেডমাস্টার অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেস’ জেলা কমিটির একঝাঁক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ও স্থানীয় শিক্ষাবিদেরা। সমগ্র অনুষ্ঠানটিকে কেন্দ্র করে কেলোমাল সন্তোষিনী হাই স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।