Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

বিপ্লবী গণেশ ঘোষের জন্মদিনে শ্রদ্ধা/অমৃত মাইতি

বিপ্লবী গণেশ ঘোষের জন্ম হয়(২২ জুন ১৯০০) অধুনা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের যশোরের নিকটবর্তী বিনোদপুরে। তাঁর পিতা বিপিনবিহারী ঘোষ ছিলেন রেলকর্মচারী। পিতার কর্মস্থল ছিল চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুলে পড়াশোনা করার সময় বন্ধু অন…


বিপ্লবী গণেশ ঘোষের জন্ম হয়(২২ জুন ১৯০০) অধুনা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের যশোরের নিকটবর্তী বিনোদপুরে। তাঁর পিতা বিপিনবিহারী ঘোষ ছিলেন রেলকর্মচারী। পিতার কর্মস্থল ছিল চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুলে পড়াশোনা করার সময় বন্ধু অনন্ত সিং-এর মাধ্যমে সূর্য সেনের সংস্পর্শে আসেন। এরপর তিনিও বিপ্লবী দলে যোগ দেন।

১৯২১ সালে অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নিয়ে স্কুল-কলেজ, চট্টগ্রামের বার্মা ওয়েল মিল, স্টিমার কোম্পানি, আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ে ইত্যাদি ধর্মঘটে সক্রিয় অংশ নেন। ১৯২২ সালে কলকাতায় এসে ভর্তি হন বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে (বর্তমানে যাদবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ)। সেখানে পড়াশোনা করার সময়েই ১৯২৩ সালে বোমা বানানোর অভিযোগে গ্রেফতার হন। কিন্তু সেবার তিনি প্রমাণাভাবে মুক্তি পান। ১৯২৪ সালে ভারতরক্ষা আইনে গ্রেফতার হয়ে চার বছর জেলে বন্দি থাকেন।

১৯২৮ সালে সূর্য সেনের নেতৃত্বে আরও কয়েকজনের সঙ্গে কলকাতায় কংগ্রেস অধিবেশনে যোগ দেন। এই অধিবেশনে সুভাষচন্দ্র বসু যে বেঙ্গল ভলেন্টিয়ার্স দল গঠন করেছিলেন, তার আদলে মাস্টারদার চট্টগ্রামের দলে তিনি জিওসি হন। ১৯২৯ সালে চট্টগ্রাম জেলা কংগ্রেসে নির্বাচিত হওয়ার পর সূর্য সেন যে ‘বিপ্লবী পরিষদ’ গঠন করেছিলেন, গণেষ ঘোষ ছিলেন তার পাঁচ সদস্যের অন্যতম সদস্য (অপর সদস্যেরা হলেন মাস্টারদা নিজে, অম্বিকা চক্রবর্তী, নির্মল সেন ও অনন্ত সিং)। পরে পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলের নাম পালটে ‘ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি, চট্টগ্রাম শাখা’ রাখা হয়। পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন অভিযান সংগঠিত হয়। এই অভিযানে গণেশ ঘোষ ছিলেন ফিল্ড মার্শাল। পরে ঘটনাচক্রে তিনি অপর কয়েক জন সঙ্গীর সঙ্গে বাহিনী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ২২ এপ্রিল কলকাতার পথে রওনা হন। ফেনী রেল স্টেশনে রেলপুলিশের হাতে বন্দী হলেও তারা পালাতে সক্ষম হন। কলকাতায় আসার পর যুগান্তর দলের সহায়তায় তাদের চন্দননগরে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়।

১৯৩০ সালের ১ সেপ্টেম্বর চন্দননগর সংঘর্ষের ঘটনায় অন্যান্য কয়েকজনের সঙ্গে গণেশ ঘোষ বন্দি হন। এই ঘটনায় শহীদ হন কিশোর বিপ্লবী জীবন ঘোষাল। ১৯৩২ সালে অস্ত্রাগার লুণ্ঠন মামলায় দণ্ডিতদের সঙ্গে তাকেও সেলুলার জেলে চালান করা হয়। ১৯৪৬ সালে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। ১৯৬৪ সালে কমিউনিস্ট পার্টি বিভাজনের পর তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) নামে নবগঠিত দলটিতে যোগদান করেন। পার্টি নিষিদ্ধ হলে তিনি ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত কারারুদ্ধ থাকেন। ১৯৫২, ১৯৫৭ ও ১৯৬২ সালে তিনি বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নির্বাচিত হন। ১৯৬৭ সালে কলকাতা দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্র থেকে লোকসভাতেও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ১৯৭০ সালে মাস্টারদা সূর্য সেনের সহকর্মী ও অনুরাগীদের নিয়ে গঠিত ‘বিপ্লবতীর্থ চট্টগ্রাম স্মৃতি সংস্থা’-র সভাপতিত্বের ভার গ্রহণ করেন।

আমার উজ্জ্বল স্মৃতি: কমরেড গণেশ ঘোষ যখন লোকসভার সদস্য ছিলেন তখন তিনি তমলুক এসেছিলেন। তমলুকে রাজবাটিতে একটি শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়। আমি সেই শিক্ষা শিবিরের একজন শ্রোতা। সংগ্রামী জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে মার্ক্সীয় দর্শন সম্পর্কে প্রায় দীর্ঘ ৩ ঘন্টা আলোচনা করেন। সেই সভাতে অবিভক্ত মেদিনীপুরের সিপিআইএমের সমস্ত নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেদিন তিনি ছিলেন মাস্টারমশাই আর আমরা ছিলাম ছাত্র। আমি তখন ছাত্র ফেডারেশনের একজন কর্মী। মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেল থেকে বেরিয়ে আসা একজন মার্কসবাদী কর্মী।পার্টি থেকে খবর দেওয়া হয়েছিল ওই সভায় অংশগ্রহণ করার জন্য। আমার সে কি আনন্দ!অত সহজ সরল ভাষায় মার্ক্সীয় দর্শনকে যে ব্যাখ্যা করা যায় তা তিনি প্রমাণ করলেন। 

তাঁকে নিয়ে লেখার এই সুযোগ পেলাম আমি আজ। পুনরায় আবার শ্রদ্ধা জানাই।