নিজস্ব প্রতিবেদক, পশ্চিম মেদিনীপুর : মেদিনীপুর শহরের প্রবেশদ্বারে কাঁসাই নদীর উপর তৃতীয় ব্রিজের কাজ শুরু হয়েছে। নক্সা অনুযায়ী ব্রিজটি আমতলা ক্ষুদিরাম পার্কের প্রায় মাঝবরাবর তৈরি হবে। আর এই ব্রিজের নক্সার মধ্যে পড়ে যায় আমতল…
নিজস্ব প্রতিবেদক, পশ্চিম মেদিনীপুর : মেদিনীপুর শহরের প্রবেশদ্বারে কাঁসাই নদীর উপর তৃতীয় ব্রিজের কাজ শুরু হয়েছে। নক্সা অনুযায়ী ব্রিজটি আমতলা ক্ষুদিরাম পার্কের প্রায় মাঝবরাবর তৈরি হবে। আর এই ব্রিজের নক্সার মধ্যে পড়ে যায় আমতলা পার্কে অবস্থিত শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর বৃহদাকার পূর্ণাবয়ব মূর্তিটি। যে মূর্তিটি ১৯৯৮ সালে যুব সংগঠন ডি ওয়াই এফ আই এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মূর্তিটির আবরণ উন্মোচন করেছিলেন আজাদ হিন্দ ফৌজের ঝাঁসী রানী বাহিনীর ক্যাপ্টেন লক্ষ্মী সায়গল। ব্রিজের জন মাটি কাটার কাজ শুরু হতে বিপত্তির সূচনা হয়। ব্রিজের কাজ করতে গিয়ে ক্ষুদিরাম বসুর মূর্তির বেদীর ১ মিটার মধ্যের মাটিও কেটে ফেলা হয়। পরপর কয়েকদিন বৃষ্টির ফলে মাটি ধসতে থাকে।
ইতিমধ্যে সসম্মানে মূর্তি সরিয়ে পার্কের মধ্যেই সুবিধা মতো স্থানে বসানোর আবেদন জানিয়ে জেলা শাসকের দারস্থ হন ডি ওয়াই এফ আই এর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা নেতৃত্ব। ইতিমধ্যে সোস্যাল মিডিয়ার বিষয়টি নিয়ে ছবি, ভিডিও পোষ্ট করে সোস্যাল মিডিয়া সরব হন শিক্ষক বুদ্ধদেব দাস, সমাজকর্মী শিক্ষক সুদীপ কুমার খাঁড়া, সমাজকর্মী কর্মী রাহুল কোলে, শিক্ষক দিলীপ প্রামাণিক,ডি ওয়াই এফ আই নেতৃত্ব সুমিত অধিকারী, সুব্রত চক্রবর্তী প্রমুখ। মূর্তি সরানোর বিষয় নিয়ে খবর হয় কিছু সংবাদ মাধ্যম। সোমবার বিকেলে বৃষ্টির মাঝে ফেসবুক লাইভে এসে সুদীপ কুমার খাঁড়া পুনরায় সোচ্চার হন মূর্তি দ্রুত সরানোর দাবি নিয়ে। সমাজকর্মী রাহুল কোলে আন্দোলনের হুমকি পর্যন্ত দেন। শেষমেষ টনক নড়ে প্রশাসনের। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মূর্তি সরানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় বিশিষ্ট ভাস্কর বিশ্বরূপ পালকে। বুধবার বিশ্বরূপ বাবুর নেতৃত্বে সকাল থেকে কাজ শুরু করে বিকেলে বেলা মূর্তিটি বেদী থেকে নামিয়ে নিরাপদ যায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে রঙ করে মূর্তিটিকে পার্কের প্রবেশ দ্বারে বসানোর কথা শোনা যাচ্ছে। সুদীপ বাবুরা চান এই কাজটি ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবস ১১ ই আগস্ট মূর্তি পুনঃস্থাপনের কাজটি হোক। ওইদিন সম্ভব না হলে ক্ষুদিরাম বসুর জন্মদিন ৩ রা ডিসেম্বর এই কাজটি হোক।আপাতত মূর্তি রক্ষা পাওয়ার খুশি সংশ্লিষ্ট সবাই।

