সমুদ্রের গর্জন আর হরিনামের সংকীর্তন—দুইয়ের মেলবন্ধনে এক মায়াবী রূপ নিল পূর্ব ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পর্যটন কেন্দ্র দিঘা। ভক্তদের বিপুল উচ্ছ্বাস আর ভক্তির জয়ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে সৈকত নগরীতে দ্বিতীয়বারের জন্য মহাসমারোহে উদযাপিত হল জগ…
সমুদ্রের গর্জন আর হরিনামের সংকীর্তন—দুইয়ের মেলবন্ধনে এক মায়াবী রূপ নিল পূর্ব ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পর্যটন কেন্দ্র দিঘা। ভক্তদের বিপুল উচ্ছ্বাস আর ভক্তির জয়ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে সৈকত নগরীতে দ্বিতীয়বারের জন্য মহাসমারোহে উদযাপিত হল জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব। এবারের রথযাত্রার মূল আকর্ষণ ছিল ভক্তি আর আবেগের এক অপূর্ব কোলাজ।
নতুন দিঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে সুসজ্জিত রথের চাকা গড়াতেই উপস্থিত হাজার হাজার ভক্তের ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনিতে ঢাকা পড়ে গেল সমুদ্রের গর্জন। দিঘার আকাশ-বাতাস মুখরিত হলো শঙ্খধ্বনি ও হরিনাম সংকীর্তনে। ভক্তদের এই উচ্ছ্বাসে ভেসে দিঘা জগন্নাথ মন্দির থেকে রথ এগিয়ে চলে ওল্ড দিঘার জগন্নাথ ঘাটে অবস্থিত মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে।
এবারের উৎসবের সবচেয়ে নজরকাড়া ও আবেগঘন মুহূর্তটি তৈরি হয় যখন প্রবীণ রাজনীতিক তথা কাঁথির প্রাক্তন সাংসদ ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিশির অধিকারী সাধারণ ভক্তদের সঙ্গে উৎসবে শামিল হন। বয়সের ভারকে দূরে সরিয়ে রেখে, শ্রীজগন্নাথ দেবের চরণে নিজেকে সঁপে দিয়ে তিনি মেতে ওঠেন নাম সংকীর্তনে। প্রথা মেনে রথের রাস্তায় ঝাঁট দিয়ে দিঘায় রথযাত্রার শুভ সূচনা করেন শিশির অধিকারী। শুধু রথের সূচনাই নয়, প্রবীণ এই রাজনীতিককে ভক্তদের সঙ্গে পা মিলিয়ে সংকীর্তনে নাচতেও দেখা যায়।
উৎসবে উপস্থিত ছিলেন রামনগরের বিধায়ক চন্দ্র শেখর মন্ডল। তিনি জানান:
"জগন্নাথ দেবের চরণে জাত-পাত বা রাজনীতির কোনও স্থান নেই। এখানে সবাই সমান। সমুদ্রের পাড়ে দিঘায় এই রথযাত্রা এবার এক আলাদা মাত্রা পেল।"
দিঘার এই রথযাত্রা শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রইল না, হয়ে উঠল এক সম্প্রীতির মহোৎসব। সমুদ্র স্নানের পাশাপাশি জগন্নাথ দেবের রথের রশি ছুঁয়ে পুণ্য অর্জনের এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি পর্যটকেরা। রথযাত্রা উপলক্ষে রাজ্যের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জগন্নাথ ভক্তরা দিঘায় ভিড় জমিয়েছিলেন। সুষ্ঠুভাবে উৎসব সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কড়া নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
কাজল মাইতির রিপোর্ট, দেশ মানুষ
