নিজস্ব সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে রাজ্য তথা দেশের প্রায় সমস্ত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর হয়েছে। এই নীতির অঙ্গ হিসেবেই মেদিনীপুর কলেজে (স্বশাসিত) শুরু হয়েছে চার বছরের স্নাতক স্তরের পাঠক্রম। স…
নিজস্ব সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে রাজ্য তথা দেশের প্রায় সমস্ত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর হয়েছে। এই নীতির অঙ্গ হিসেবেই মেদিনীপুর কলেজে (স্বশাসিত) শুরু হয়েছে চার বছরের স্নাতক স্তরের পাঠক্রম। সার্ধশতাধিক বর্ষের প্রাচীন এবং দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেদিনীপুর কলেজে (স্বশাসিত) এ বছর ওই নতুন পাঠক্রমের চতুর্থ বর্ষ। এই আবহে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক স্তরে সদ্য ভর্তি হওয়া নবাগত ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে কলেজে সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘ইন্ডাকশন প্রোগ্রাম’ বা পরিচিতি পর্ব।
এদিন কলেজের বিবেকানন্দ সভাগৃহ, মূল সেমিনার হল এবং প্রাক্তনী ভবনের সেমিনার হল জুড়ে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বর্তমানে রাজ্যস্তরের বিভিন্ন কলেজে সার্বিকভাবে ছাত্রছাত্রী ভর্তির সংখ্যা কিছুটা নিম্নমুখী হলেও, মেদিনীপুর কলেজের এই অনুষ্ঠানে নবাগত পড়ুয়াদের উপস্থিতি ছিল যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। জানা গিয়েছে, কলেজের প্রাতঃ ও দিবা—এই দুই বিভাগ মিলিয়ে প্রায় ১৪০০ জন ছাত্রছাত্রী এদিনের ইন্ডাকশন অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। বৃষ্টির ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে তাদের এই আশাব্যঞ্জক উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে করে তোলে প্রাণবন্ত।
প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং ‘বন্দে মাতরম’ গানের মধ্যে দিয়ে সূচিত এই অনুষ্ঠানে কলেজের অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, গ্রন্থাগারিক ও শিক্ষাকর্মীরা উপস্থিত থেকে নবাগতদের সামনে নতুন পাঠক্রমের বিভিন্ন কোর্স, সেমিস্টারভিত্তিক পরীক্ষা ব্যবস্থা, লাইব্রেরির ব্যবহার, এবং কলেজের নিয়মনীতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। কলেজের বর্তমান ছাত্রছাত্রীরা নবাগতদের বরণ করে নেয়।
নিজের স্বাগত বক্তৃতায় কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ অসিত পণ্ডা মহাশয় জানান, সম্পূর্ণ নতুন একটি পরিবেশে এসে ছাত্রছাত্রীরা যাতে সহজেই মানিয়ে নিতে পারে, সেই সুবিধার্থেই প্রতি বছর এই ধরনের পরিচিতি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতীয় শিক্ষানীতি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে অধ্যক্ষ মহাশয় বলেন, “এই শিক্ষানীতির বহু সদর্থক দিক থাকলেও এর বাস্তব রূপায়ণ খুব একটা সহজ কাজ নয়।“ তবে সমস্ত প্রতিকূলতা ও সমস্যা কাটিয়ে মেদিনীপুর কলেজ যে এই নতুন পাঠক্রমকে সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে, সে বিষয়ে তিনি তাঁর দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ভবিষ্যৎ সমাজের সার্থক নাগরিক হয়ে ওঠার উৎসাহ প্রদানের পাশাপাশি তিনি নবাগত ছাত্রছাত্রীদের তাদের কলেজের প্রতি দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন।
নতুন কলেজ এবং সেই সঙ্গে নতুন শিক্ষানীতি এবং নতুন পাঠক্রম — সব মিলিয়ে প্রথম দিন ক্যাম্পাসে পা রাখা ছাত্রছাত্রীদের মনে উত্তেজনার পাশাপাশি বেশ কিছুটা উদ্বেগও ছিল। কিন্তু সার্ধশতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী একটি প্রতিষ্ঠানের অংশ হতে পেরে তারা স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত। এদিন কলেজের অধ্যক্ষ এবং অধ্যাপক-অধ্যাপিকাদের পথনির্দেশিকা ও উৎসাহব্যঞ্জক কথা শুনে তাদের সেই উদ্বেগ যে অনেকটাই লাঘব হয়েছে, অনুষ্ঠান শেষে নবাগত পড়ুয়াদের উজ্জ্বল প্রতিক্রিয়া ও হাসিমুখ দেখেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল।




