Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

পূর্বপুরুষদের চেতনা ও দায়িত্ব জ্ঞান/অমৃত মাইতি

পূর্বপুরুষদের চেতনা ও দায়িত্ব জ্ঞান/অমৃত মাইতি
আজকের স্বাধীনতা আমাদের পূর্বপুরুষদের রক্ত, ত্যাগ ও জীবনদানের এক মহান ফসল। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে দেশকে মুক্ত করতে তাঁরা যে অসীম সাহসিকতা দেখিয়েছেন, তা চিরস্মরণীয়।
ইতিহাসের গুরুত্বপূর্…


 পূর্বপুরুষদের চেতনা ও দায়িত্ব জ্ঞান/অমৃত মাইতি


আজকের স্বাধীনতা আমাদের পূর্বপুরুষদের রক্ত, ত্যাগ ও জীবনদানের এক মহান ফসল। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে দেশকে মুক্ত করতে তাঁরা যে অসীম সাহসিকতা দেখিয়েছেন, তা চিরস্মরণীয়।


ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এই দীর্ঘ সংগ্রাম। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রায় ২০০ বছর লড়াই চলেছে। এসেছে সশস্ত্র বিপ্লব। ক্ষুদিরাম বসু, প্রফুল্ল চাকী, মাস্টারদা সূর্য সেন এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মতো বীরেরা জীবনের তোয়াক্কা করেননি।

আবার গণআন্দোলন উল্লেখযোগ্য। মহাত্মা গান্ধী, পন্ডিত জওহরলাল নেহরু এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বে লাখ লাখ সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন। চরম আত্মত্যাগ ও ছিল। ফাঁসির মঞ্চে হাসি মুখে জীবন দেওয়া বা সেলুলার জেলে অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করা—সবই ছিল দেশের স্বাধীনতার জন্য।


এখন আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য কী? সেই চেতনা ধরে রাখা, তাঁদের ত্যাগের মূল্যকে সবসময় সম্মান জানানো। দেশ গড়ার কথাও ভাবতে হবে।‌ দেশের উন্নতি, শান্তি ও সংহতি বজায় রাখতে কাজ করা।

ইতিহাস চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে এই বীরত্বগাথা সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া। স্বাধীনতা যোদ্ধাদের ভূমিকা ধরে রাখার জন্য ইতিহাসবিদরা নিখুঁতভাবে চর্চা করে চলেছেন। আমাদের দায়িত্ব হল সেই উজ্জ্বল ইতিহাসকে আরো বিকশিত করা আমাদের প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। মানুষ ইতিহাস তৈরি করে সেই ইতিহাস আবার নতুন ইতিহাস তৈরি করার প্রেরণা পায়। এটাই আমাদের দায়বদ্ধতা। 


এর বাইরে কিছু মানুষ আছে যারা ভয়ংকর ভাবে ইতিহাসের চাকা কে পিছনের দিকে টেনে রাখতে চায়। যে বা যারা যতই চেষ্টা করুক ইতিহাসকে দেশপ্রেমিকরা রক্ষা করবে। প্রয়োজন হলে মানুষ আবার রক্ত দেবে কিন্তু দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে কালিমালিপ্ত করতে দেবে না। আমরা যদি সত্যিকারে ভারতীয় হয়ে থাকি অথবা সংগ্রামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে থাকি, আমাদের জন্ম যেখানেই হোক না কেন বিশ্ব ইতিহাসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো ভারতের স্বাধীনতা যুদ্ধ। আমরা ভুলে যেতে পারি না ভারতছাড়ো আন্দোলন। আমরা ভুলে যেতে পারি না চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার লুণ্ঠন। আমরা ভুলে যেতে পারি না ক্ষুদিরামের ফাঁসি। মাতঙ্গিনী আত্মত্যাগ। 

প্রকৃতপক্ষে আমাদের পূর্ব পুরুষরা আমাদেরকে বাঁচিয়ে রেখেছে। আমাদের লড়াই করতে হবে নিজের মধ্যে এবং বাইরের অপশক্তির বিরুদ্ধে। এভাবেই শক্তি অর্জন করতে হবে। 


দেশ স্বাধীন হয়েছে কিন্তু ভারতবর্ষের পুঁজিপতিদের প্রবল জনস্বার্থ বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে জনগণকে জাগিয়ে তোলার, জাগিয়ে রাখার অক্লান্ত পরিশ্রম করে যেতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আমাদের আত্মবিশ্বাস কে আরো শানিত করতে হবে। বিবেকানন্দের একটি কথা উল্লেখ না করে পারছি না এই প্রসঙ্গে। তিনি বলেছিলেন ব্রাহ্মণের যুগ শেষ হয়ে গেছে। ক্ষৈত্রের যুগ শেষ হয়ে গেছে। এখন চলছে বৈশ্বের যুগ। এরপরে আসবে শূদ্রের যুগ। বিবেকানন্দের শিষ্যদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন,"একদিন হবে"। অর্থাৎ সমুদ্রের যুগ একদিন হবে। বিবেকানন্দের এই আত্মবিশ্বাস আমাদেরও বিশ্বাস তৈরি করেছে। আমরা মনে করি এই আত্মবিশ্বাস অমোঘ। শুধু চাই শ্রম ঘাম আত্মবিশ্বাস। 


ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস মুছে দেওয়ার কারুব অধিকার নেই। কেউ এই অপচেষ্টা করতে এলে প্রবল বাধার সম্মুখীন হতে হবে। রক্ত দিয়ে যা পাওয়া যায় রক্ত দিয়ে তা রক্ষা করতে হয়। স্বাধীন দেশে ভয় মুক্ত পরিবেশে সারাদেশে নির্ভয়ে একজন ভারতীয় নাগরিক ঘুরে বেড়াতে পারবে। এই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এটাই আধুনিক ভারতের রাষ্ট্র নায়কদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য। শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতা নয়, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সুনিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া স্বাধীনতাকে রক্ষা করার ও উপভোগ করার অন্য কোন উপায় নেই।

______________________