:
মানুষ কি অদ্ভুত বোকা!অমৃত মাইতি
মানুষ কি বোকা! মানুষই ঈশ্বর সৃষ্টি করেছে মানুষ কাল্পনিক জগতে বিচরণ করতে করতে অবাস্তব এক ঈশ্বরকে সৃষ্টি করেছে আপন খেয়ালে তখন না ছিল যুক্তি না ছিল বুদ্ধির তীক্ষ্ণতা তখন পৃথিবী সৃষ্টির কারণ জানা ছ…
:
মানুষ কি অদ্ভুত বোকা!
অমৃত মাইতি
মানুষ কি বোকা!
মানুষই ঈশ্বর সৃষ্টি করেছে
মানুষ কাল্পনিক জগতে বিচরণ করতে করতে
অবাস্তব এক ঈশ্বরকে সৃষ্টি করেছে আপন খেয়ালে
তখন না ছিল যুক্তি না ছিল বুদ্ধির তীক্ষ্ণতা
তখন পৃথিবী সৃষ্টির কারণ জানা ছিল না
পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের অপার সৌন্দর্য
ঋতু বৈচিত্র্য ঝড়-বৃষ্টি ভূকম্পন
উত্তাল সমুদ্র কালবৈশাখী পাহাড়-পর্বত
কালো মেঘের ঘনঘটা
বিদ্যুতের ঝলকানি
এইসব দেখে বিস্মিত হয় মানুষ।
অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে
পৃথিবীর সৃষ্টির রহস্য অনুধাবন করতে পারে না ।
কার্য কারণ সম্পর্ক সম্পর্কে ধারণা ছিল না
মস্তিষ্কের তীক্ষ্ণতাও ছিল না
তখনো তার যুক্তিবাদী মন, বিচক্ষণতা তৈরি হয় নি
স্বল্প বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ
অলৌকিকতার কাছে আত্মসমর্পণ করে
এভাবেই কল্পনার জগতে অগ্রসর হতে হতে
বুদ্ধির তীক্ষ্ণতার অভাবে
দূরদৃষ্টির ও বাস্তব জ্ঞানের অভাবে
আর এগোতে পারে না।
দুর্বল চিন্তাশক্তি
হার মানে কল্পনা শক্তির জুটির আবর্ত
নিজেকে সমর্পণ করে পরিস্থিতির উপর।
অলৌকিকতার কাছে পরাভূত হয়
অলৌকিকতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে
অজ্ঞতার ধুম্রজালে ধোঁয়াশায় চোখ ধাঁধিয়ে যায়।
প্রখর চিন্তাশক্তি তখনো উদ্ভব হয় নি
তাই ঈশ্বর নামক অলৌকিক শক্তির কাছে
নিজেকে সমর্পণ করে।
বিকল্প কোনো যুক্তি খুঁজে পায়নি কখনো
তাই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়
সব কিছুর শেষ কথা ঈশ্বর।
অনোন্যপায় হয়ে
ঈশ্বরের উপর ছেড়ে দেয় সব ভবিষ্যৎ
অজ্ঞ মানুষ অলৌকিকতাকেই ঈশ্বর মনে করে
অলৌকিকতার কাছে নিজেকে সমর্পণ করেছ।
পাশাপশি যুক্তিবাদী মানুষ
তার সুদূরপ্রসারী চিন্তাশক্তি, দৃষ্টিভঙ্গি
এবং তীক্ষ্ণতা এতটাই কঠিন বাস্তব
যেখানে অলৌকিকতা বলে কিছু নেই
তাই অভিজ্ঞ যুক্তিবাদী মানুষ বস্তুবাদী।
অযৌক্তিক মানুষগুলো হয়ে উঠেছে মৌলবাদী
অলৌকিকতায় বিশ্বাসী তারা
এই অলৌকিক চিন্তা এবং গোঁড়ামি
এক ধরনের রাজনীতির প্রকাশ
এক ধরনের সংস্কার।
এই মতবাদ বিশ্বাস করা এবং
জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার নাম রক্ষণশীলতা।
এভাবেই ব্রাহ্মণ ও ব্রাহ্মণ্যবাদের সৃষ্টি
অলৌকিকতার অবৈজ্ঞানিক অবাস্তবতার
নাম মৌলবাদ।
এই মৌলবাদকে আশ্রয় করে টিকে থাকে
পুঁজিবাদ ও শোষক শ্রেণী
এই চিন্তাধারার দাসত্ব করছে কতিপয় মানুষ।
ধীরে ধীরে এই শ্রেণীর মানুষরাও বিভক্ত হয়ে পড়েছে
কখনো সে হিন্দু কখনো সে মুসলিম
কখনো সে খ্রিস্টান কিংবা বৌদ্ধ
বিভিন্ন ধর্মে বিভিন্ন বর্ণে বিভক্ত বিভিন্ন সম্প্রদায়ে
মানুষ আজ বিভক্ত
মানুষের ঐক্যে তাই এত আজ ফাটল
আর ঐক্য ধ্বংসকারীরা উল্লসিত।
পৃথিবীতে আজ এক অবাক বিস্ময়
যে মানুষ নিজেই স্থূল বুদ্ধির কারণে
ঈশ্বর সৃষ্টি করেছে
তারই সৃষ্ট ঈশ্বরের কাছে
নিজেই হাতজোড় করে বসে দাসত্ব করছে।
নিজের প্রতি নিজেরা আস্থা নাই
নিজের অজ্ঞতায় আবেগে তৈরি খড় ও মাটির
কাছে হাত জোড় করে বসে আছে।
মানুষ কি অদ্ভুত, বোকা !
___________________________
[8/3, 6:31 PM] Amrit Mity Fb: অপেক্ষা যদি আনন্দ হয় তাহলে ভালো আছি/অমৃত মাইতি
অনেকদিন থেকে অনেক বার অনেক কিছুর জন্য অনেক সময় অপেক্ষা করেছি। এই অপেক্ষা সত্যিই ভালো লাগতো ,এখনো ভালো লাগে আনন্দ পাই। কোন কিছু অপূর্ণতার জন্য পূর্ণতা প্রাপ্তির আশায় অপেক্ষা ছাড়া পথ যখন থাকেনা তখন অপেক্ষাই শ্রেয়।
অপেক্ষা আনন্দ কিংবা দীর্ঘশ্বাসের এক মিশ্র অনুভূতি, যেখানে প্রিয় কিছু পাওয়ার আশা বা না পাওয়ার বেদনা লুকিয়ে থাকে। অনেক সময় প্লাটফর্মে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করার এক অদ্ভুত উদ্বেগ ও আগ্রহ অবশ্যই আনন্দ দিত। অপেক্ষা মানেই শুধু কষ্ট নয়, মাঝেমধ্যে এটি প্রিয় মানুষের সান্নিধ্য বা কোনো সুন্দর মুহূর্তের গভীর প্রত্যাশার আনন্দও বটে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর পাওয়া সাফল্য বা প্রিয়জনের দেখা পাওয়ার আনন্দ সব ক্লান্তি মুছে দেয়।
তবে অতিরিক্ত বা অনিশ্চিত অপেক্ষা অনেক সময় মনে নিঃসঙ্গতা ও দীর্ঘশ্বাস বয়ে আনে।
তবে বিশ্বাস নিয়ে অপেক্ষা করছে হবে।
অপেক্ষার একদিন শেষ হবে।মন খারাপ ভালো হয়ে যাবে।একটু ধৈর্য ধরতে হয় ভালোর জন্য। অনেক সময়
অপেক্ষা স্বপ্ন দেখতে শেখায়। সেই স্বপ্নও কম আনন্দের নয়।
: প্রশ্ন, সৃষ্টির আঁতুড় ঘর/ অমৃত মাইতি
প্রশ্ন, সৃষ্টির আঁতুড় ঘর বলতে মূলত বোঝায় এমন এক পরিবেশ, মানসিক অবস্থা বা স্থানকে, যেখানে মানুষের মনে নিত্যনতুন প্রশ্ন, কৌতুহল এবং অনুসন্ধিৎসার জন্ম হয়। একমাত্র সংস্কারমুক্ত চলমান চিন্তাবিদদের মনে প্রশ্ন জাগে। সহজ কথায়, এটি হলো ভাবনার সেই আদি স্থান যা মানুষকে কোনো বিষয়ে ‘কেন’, ‘কীভাবে’ বা ‘কী’ তা নিয়ে ভাবতে বাধ্য করে। প্রশ্ন সৃষ্টির প্রধান প্রধান কারণগুলোর "আঁতুড় ঘর" বা উৎসগুলো অনুসন্ধান করা যেতে পারে।
১. মানুষের সহজাত কৌতূহল (Curiosity) হলো
মানব মনের কেন্দ্রবিন্দুতে কোন কিছুকে জানার প্রবল ইচ্ছা, চারপাশের অজানা বিষয়কে চেনার আকুলতা। জন্মগতভাবে যেকোনো নতুন কিছুতে আকৃষ্ট হওয়া।বিশেষ করে স্বচ্ছ কৌতুহল প্রবল আকারে দেখা দেয়, তৃষ্ণার্তের জল পানের মত।
২. বিস্ময় ও সায়েন্স (Wonder and Science)
মহাবিশ্ব এবং প্রকৃতির রহস্য দেখে অবাক হওয়া।
দৈনন্দিন ঘটনার পেছনের বৈজ্ঞানিক কারণ খোঁজা।
চেনা জগতের অচেনা রূপ দেখে মনে প্রশ্ন জাগা।
ভাবতে অবাক লাগে আমরা যখন মসজিদের নিচে মন্দির খুঁজছি তখন চীন সৌরশক্তিকে নিয়ে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তারা সময় এবং প্রযুক্তিকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজে লাগাচ্ছে। সৌরশক্তি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন, মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং বিশাল আকারের হাইব্রিড সোলার ফার্ম নির্মাণে জোর দিচ্ছে। সে দেশের একটি শিশুরও মাথায় প্রযুক্তি চিন্তার অনুপ্রবেশ ঘটেছে।
৩. শৈশব বা শিশুর মন (Childhood) হলো
একটি শিশুর চারপাশকে দেখার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি।
"আকাশ নীল কেন?", "পাখি ওড়ে কেন?"—জাতীয় অবিরত প্রশ্ন। একটি শিশুর চিন্তার জগৎকেও আলোড়িত করে বিব্রত করে নতুন নতুন প্রশ্ন।
কোনো পূর্বসংস্কার ছাড়াই জগৎকে আবিষ্কারের চেষ্টা।
৪. সমস্যা ও সংকট (Problems and Challenges)
জীবনে নতুন কোনো সমস্যা বা বাধার সম্মুখীন হওয়া। প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় খোঁজা। সংকট নিরসনে "এখন কী করণীয়?" তা নিয়ে ভাবা।
৫. বই এবং শিক্ষা (Books and Education)
নতুন বই, দর্শন বা সাহিত্য পড়ার অভিজ্ঞতা।
প্রচলিত কোনো তত্ত্ব বা ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা।
জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে চিন্তার পরিধি বৃদ্ধি পাওয়া।
৬. বিতর্ক ও আলোচনা (Discussions and Debates) ভিন্ন মতাদর্শের মানুষের সাথে সংলাপ।
অন্যের যুক্তি শুনে নিজের মনে সন্দেহের উদ্রেক।
সত্যকে উন্মোচন করার সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
সংক্ষেপে, মানুষের অদম্য কৌতূহল এবং সংশয়ই হলো প্রশ্ন সৃষ্টির আসল আঁতুড় ঘর। এই প্রশ্ন করার মানসিকতাই মানবসভ্যতার সমস্ত আবিষ্কার ও প্রগতির মূল চালিকাশক্তি।
______________________________
: আদিম যুগের মানুষের জীবনযাপন ঘরবাড়ি খাদ্যাভ্যাস/অমৃত মাইতি
আদিম যুগের মানুষের জীবনযাপন ছিল মূলত প্রকৃতি নির্ভর, যা প্রধানত গঠিত হয়েছিল যাযাবর শিকারী-সংগ্রাহক সমাজ, গুহা বা গাছের ডালে অস্থায়ী বাসস্থান এবং কাঁচা বা আগুনে পোড়ানো বুনো খাবারের ওপর। তাদের জীবনযাত্রার মূল দিকগুলো আলোচনা করা যেতে পারে। বুনো হিংস্র জন্তু জানোয়ারের হাত থেকে বাঁচার জন্য দলবদ্ধভাবে বসবাস করতে হতো। নিরাপত্তার জন্য মানুষ ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে থাকত।
খাবারের খোঁজে তারা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়াত। যাযাবর জীবনের সূত্রপাত এভাবেই হয়েছিল।
শিকারের জন্য পাথরের হাতিয়ারের ব্যবহার করতো আদিম মানুষেরা । তারা পাথরের তৈরি সুঁচালো অস্ত্র দিয়ে শিকার করত ।
কাল ক্রমে আগুনের আবিষ্কার হলো ।আগুন জ্বেলে তারা শীত নিবারণ করত এবং কাঁচা মাংস পুড়িয়ে খাওয়ার শুরু হলো।পাহাড়ের গুহা ছিল তাদের সবচেয়ে নিরাপদ স্থায়ী আশ্রয়স্থল।গাছের ডালে বা পাতার নিচে তারা সাময়িক আস্তানা তৈরি করত।
পশুর চামড়া ব্যবহার শিখলো তারা।খোলা আকাশের নিচে বা ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচতে তারা পশুর চামড়া ব্যবহার করত।অনেক সময় ঠান্ডা থেকে বাঁচতে তারা মাটির নিচে গর্ত করে থাকত।
#খাদ্যাভ্যাস#
কাঁচা ও পোড়ানো মাংস: বুনো পশু শিকার করে প্রথমে কাঁচা এবং পরে আগুন আবিষ্কারের পর পুড়িয়ে খেত।
বন থেকে বিভিন্ন ধরনের ফল, গাছের মূল, শাকসবজি ও বাদাম সংগ্রহ করত।
নদীর জল থেকে মাছ ও শামুক ধরে খেত।
পাখির ডিম ও পোকামাকড় তাদের প্রধান খাওয়ার
খাবারের খোঁজে পাখির বাসা থেকে ডিম এবং বিভিন্ন পোকা-মাকড়ও খেত।
আদিম মানুষের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করতে পারেন।
জীবজগতের বিবর্তনের এই আদিম যুগ হলো প্রাথমিক স্তর। এই স্তরে (stage) সমস্ত মানুষের একটাই পরিচয় ছিল জীবজগতের প্রথম মানুষ তারা। এখানে বর্ণবৈষম্য ছিল না। শ্রেণী বৈষম্য ছিল না। মানুষের মধ্যে কোন ভেদাভেদ ছিল না। ছিলনা হিন্দু মুসলিম শিখ জৈন কোন সম্প্রদায়। "ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশ্য শূদ্র" উদ্ভব হয়নি তখনো। আজকের সম্প্রদায়গত যে বিভেদ তা কিন্তু মানুষের সৃষ্টি। এই বিভাজনের পেছনে কোন অলৌকিক শক্তি ছিল না । ছিল না ঈশ্বর আল্লাহ। মানুষের কুট বুদ্ধির প্রকাশ হলো মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করা।ছিল না শান্ডিল্য গোত্র কাশ্যপ গোত্র। আদিম যুগে কোন দেবদেবী ছিল না। সম্পদের জন্য গণেশ পূজা হতো না। সমগ্র প্রকৃতি এবং প্রকৃতিজাত খাদ্য আদিম মানুষের দখলে ছিল। কৃষি এবং সম্পদের অধিকার আরো পরে।
সমাজে যে এত বিভাজন অশান্তি তার জন্য এক শ্রেণীর ভোগবাদী লোভী সম্পদশালী মানুষ দায়ী। তাই মানুষকেই দায়িত্ব নিয়ে এই অশান্তির আগুন নিভাতে হবে। অশান্তির আগুন নেভালে যে সংখ্যা গরিষ্ঠ অংশের লাভ হবে তাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। সংখ্যালঘু অংশ আগুন নেভাতে চাইবে না।
: কাজের মানুষের ছুটি নাই/অমৃত মাইতি
সবকিছু থেকে ছুটি নিতে পারি কিন্তু লড়াই সংগ্রামের ডাক উপেক্ষা করতে পারিনা। কারণ লড়াই সংগ্রামের ডাক জীবনের দায়বদ্ধতা এবং একমাত্র দায়বদ্ধতা। ভেতরের এই লড়াকু মানসিকতা এবং কর্তব্যের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা সত্যিই অনুভব করতে পারি। ব্যক্তিগত সুখ স্বাচ্ছন্দ একজন সামাজিক দায়বদ্ধ মানুষের কাছে তুচ্ছ। যখন চারপাশের অন্যায় বা অধিকার আদায়ের ডাক আসে, তখন নিজের আরাম-আয়েশ বা বিশ্রামের চেয়ে লড়াইয়ের ময়দানই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই শক্তিশালী ভাবনাটিকে গুছিয়ে প্রকাশ করার জন্য এই মানসিক দৃঢ়তা প্রয়োজন।
লড়াই ও সংগ্রামের বজ্রকণ্ঠ সব ক্লান্তি মুছে যায়, যখন ন্যায়ের ডাক আসে। বিশ্রামের দিন পরে হবে, আজ অধিকার আদায়ের লড়াই। সংগ্রামই জীবন, আর জীবনই সংগ্রাম। ডাক এসেছে বিপ্লবের, ঘরে বসে থাকার সময় নেই। ছুটি নেওয়া যায় দায়িত্ব থেকে, ভেতরের প্রতিবাদী সত্তা থেকে নয়। কবিগুরু আমাদের জাগিয়ে রাখে এমন পরিস্থিতিতে।
"ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু, পথে যদি পিছিয়ে পড়ি কভু॥
এই-যে হিয়া থরোথরো কাঁপে আজি এমনতরো
এই বেদনা ক্ষমা করো, ক্ষমা করো, ক্ষমা করো প্রভু॥
এই দীনতা ক্ষমা করো প্রভু, পিছন-পানে তাকাই যদি কভু॥
দিনের তাপে রৌদ্রজ্বালায় শুকায় মালা পূজার থালায়,
সেই ম্লানতা ক্ষমা করো, ক্ষমা করো, ক্ষমা করো প্রভু॥ "
ক্লান্তি আমার বাহানা নয়, সংগ্রাম আমার পরিচয়।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নোয়াবার জন্য জন্ম হয়নি, বুক চিতিয়ে লড়াইয়ের দিন আজ। সবকিছু ছাড়তে পারি, কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার সুযোগ কখনোই নয়।
এই বলিষ্ঠ অবস্থানকে আরও সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে আমরা নিশ্চয়ই পারি। "আমি ঘুমিয়ে পড়ি কিন্তু আমার ভেতরের মানুষটা জেগে থাকে।"
___________________________________________
: দুঃখ চিরকালই নির্ভেজাল/ অমৃত মাইতি
বেদনার গভীরতা প্রকাশ করার জন্য দুঃখ একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং কাব্যিক অনুভূতি। মানুষের জীবনে যখন তীব্র কষ্ট আসে, তখন মনে হয় যেন দুঃখের কোনো মিশ্রণ নেই— তা একেবারেই খাঁটি বা নির্ভেজাল। সুখের মধ্যে অনেক সময় হারানোর ভয় বা কৃত্রিমতা লুকিয়ে থাকতে পারে, কিন্তু দুঃখের অনুভূতি সরাসরি আমাদের হৃদয়কে স্পর্শ করে।
এই গভীর অনুভূতির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে এখানে কিছু বিষয় তুলে ধরতে চাই।
দুঃখ হলো অকৃত্রিম অনুভূতি। দুঃখ কোনো অভিনয় বা ভণিতা মানে না। দুঃখ আত্মদর্শনের সুযোগ এনে দেয়। দুঃখ নির্ভেজাল কারণ মানুষকে নিজের ভেতরের সূক্ষ্ম অনুভূতিকে চিনতে সাহায্য করে।
সহানুভূতির জন্ম হয় যখন কষ্ট পাওয়ার পরেই মানুষ অন্যের বেদনা অনুধাবন করতে পারে। অর্থাৎ সহানুভূতির পরিবেশ তৈরি হয়।
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কবিতা, গান এবং সাহিত্য মূলত দুঃখকে কেন্দ্র করেই তৈরি। পরাজয়ের দুঃখ ইতিহাস তৈরি করে। এই মনস্তাত্ত্বিক ও দার্শনিক ভাবনাটি কবিতা, গল্প বা লেখার প্রেরণা যোগায়। এই নির্ভেজাল দুঃখ সাহিত্যের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। দুঃখ যখন কোন কিছু সৃষ্টি করে তখন অফুরন্ত সুখ এসে ধরা দেয়। আমরা তো জানি তেতো খাওয়ার কিন্তু মুখের স্বাদ পাল্টে দেয়। একজন শ্রমিক কঠোর পরিশ্রম করে ঘাম ঝরিয়ে বসবাসের যে ঘরটি তৈরি করে, সেই পথেই তো সেই ঘরে সুখ শান্তি প্রবেশ করে। দুঃখের পথ ধরে অনাবিল আনন্দ প্রবেশ করে। তাই নির্ভেজাল দুঃখ তৃপ্তির ঘর।
_______________________________
: জনপ্রতিনিধি/অমৃত মাইতি
জনগণের দ্বারা সরাসরি সংসদীয় পথে নির্বাচিত না হয়েও যারা গণআন্দোলন বা সামাজিক বিপ্লবের নেতৃত্ব দেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় সাধারণত তাদের কারিশমাটিক নেতা (Charismatic Leader) বা স্বভাবজাত নেতা বলা হয়। সংসদীয় নির্বাচনের সময় এদের কথা দল ভুলে যায়। পপুলিস্টদের খোঁজ করা হয়।
জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ভেবারের (আধুনিক সমাজ বিজ্ঞানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও স্থপতি) তত্ত্ব অনুযায়ী, এই ধরনের নেতারা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা আইনি ক্ষমতার জোরে নয়, বরং তাদের ব্যক্তিগত গুণাবলি, অসামান্য বাগ্মিতা এবং জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে সততার কারণে মানুষের গভীর আস্থা ও সমর্থন লাভ করেন।
নির্বাচিত আন্দোলনের নেতৃত্বের প্রকারভেদ কারিশমাটিক নেতৃত্বরা ব্যক্তিগত আকর্ষণ, সাহস ও ত্যাগের মাধ্যমে সরাসরি জনগণের মন জয় করে আন্দোলন পরিচালনা করে। জনপ্রিয়তাবাদী বা পপুলিস্ট নেতা (Populist Leader): সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও আবেগকে পুঁজি করে প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে নেতৃত্বের অনুরাগ ভাজন হওয়ার চেষ্টা করে।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি (Civil Society Leader): কোনো রাজনৈতিক দলের বাইরে থেকে মানবাধিকার, পরিবেশ বা সামাজিক সুবিচারের দাবিতে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রয়াস চালায়।
রাজনৈতিক দলগুলি সংসদীয় গণতন্ত্রে নির্বাচনে তাদের পছন্দের লোককে নমিনেশন দিয়ে থাকে। যাদেরকে নমিনেশন দেওয়া হয় তারা কিন্তু কোন আন্দোলনে জীবন বাজি রেখে সংগঠন গড়ে না। মানুষের অভাব অনটন সামাজিক অন্যায় অবিচার বঞ্চনার বিরুদ্ধে মানুষকে সংঘটিত করার জন্য যে ধরনের ত্যাগ স্বীকার করে জনগণের নেতৃত্ব দেওয়া যায়, নির্বাচনে সব সময় তাদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় না। প্রকৃতপক্ষে জনপ্রতিনিধি বলতে এই ধরনের রাজনৈতিক কর্মীকেই বোঝায়। বিচার বাছাই এর ক্ষেত্রে অনেক সময় দলীয় নেতৃত্ব পপুলিস্টদের অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। তাই সরকার পরিচালনার সময় এই সমস্ত প্রতিনিধিরা নিজেদের স্ট্যাটাস বজায় রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু জনপ্রতিনিধি বলতে এমন লোককেই বোঝানো উচিত যাদের জনগণের সঙ্গে নাড়ীর সম্পর্ক আছে আবার নির্বাচনে জয়লাভ করে জনপ্রতিনিধি হতে পারে। তারাই প্রকৃতপক্ষে জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। কারণ এদের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো প্রভাবশালী লোকদের বাছতে গিয়ে ভুল করে ফেলে । রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিভাষায় নির্বাচনে জয় লাভ যারা করে তারাই যেন প্রতিনিধি।
স্বাধীনতা সংগ্রামে যারা জীবন বিপন্ন করেছেন জীবন দিয়েছেন তারা কিন্তু জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। জনগণের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নেতারা জননেতা হিসেবে পরিচিত । এরা যেমন জনগণের নেতা তেমন নির্বাচনের জয় লাভ করে আদর্শ জনপ্রতিনিধি হতে পারবে। কিন্তু আজকাল দেখা যায় নিজের কোনো যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার কোন প্রয়োজন হয় না, দলের প্রভাবে নির্বাচিত হয়ে যায়। এরা প্রকৃতপক্ষে জনপ্রতিনিধি হওয়ার বিন্দুমাত্র যোগ্য নয়। এই সমস্ত জনপ্রতিনিধিরা জয়লাভের পরে ধান্দাবাজি করে নিজের স্বার্থে। এরা নিজেরাও ডোবে দলকেও ডোবায়। জনপ্রতিনিধি সম্পর্কে আমার দৃষ্টিভঙ্গি বোঝানোর চেষ্টা করলাম।
_________




