নিজস্ব প্রতিবেদক, পশ্চিম মেদিনীপুর.... রংবেরঙের আবির, প্রদীপ, ফুল। কখনও বৃত্তাকার নকশা, কখনও আবার নানা রঙের মেলবন্ধনে ফুটে উঠছে চোখধাঁধানো শিল্পকর্ম। দীপাবলির আগে রঙ্গোলি আঁকায় মেতে উঠল মেদিনীপুর শহরের ডিএভি পাবলিক স্কুলের পড়ুয…
নিজস্ব প্রতিবেদক, পশ্চিম মেদিনীপুর.... রংবেরঙের আবির, প্রদীপ, ফুল। কখনও বৃত্তাকার নকশা, কখনও আবার নানা রঙের মেলবন্ধনে ফুটে উঠছে চোখধাঁধানো শিল্পকর্ম। দীপাবলির আগে রঙ্গোলি আঁকায় মেতে উঠল মেদিনীপুর শহরের ডিএভি পাবলিক স্কুলের পড়ুয়ারা। মোবাইল ও ডিজিটাল বিনোদনের যুগে পড়ুয়াদের সৃজনশীলতা ও শিল্পভাবনাকে উৎসাহ দিতে বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ নজর কেড়েছে।
আর মাত্র কয়েকদিন পরেই আলোর উৎসব দীপাবলি। উৎসবকে স্বাগত জানাতে ঘরে ঘরে চলছে প্রস্তুতি। বাজারে কেনাকাটার ব্যস্ততার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শুরু হয়েছে নানা ধরনের উৎসবকেন্দ্রিক কর্মসূচি। সেই আবহেই মেদিনীপুর শহরের ডিএভি পাবলিক স্কুলে আয়োজন করা হয়েছে রঙ্গোলি আঁকার প্রতিযোগিতা। বিদ্যালয়ের নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের নিয়ে বৃহস্পতিবার এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার বাকি অন্য ক্লাসের পড়ুয়ারা প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। প্রতিযোগিতায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছে ছাত্রছাত্রীরা।
প্রতিযোগিতাকে ঘিরে এদিন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবের পরিবেশ। রংবেরঙের আবির, ফুল, প্রদীপ-সহ বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে নিজেদের কল্পনাকে রঙ্গোলির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে পড়ুয়ারা। কেউ তৈরি করেছে বর্ণিল ফুলের নকশা, কেউ আবার বিভিন্ন জ্যামিতিক নকশার মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছে শিল্পভাবনা। কেউ আবিরের মাধ্যমে প্রদীপের ছবি ফুটিয়ে তুলেছে। কেউ আবার আবির দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছে জগন্নাথ দেবের মূর্তি।রঙের বৈচিত্র্য ও নকশার অভিনবত্বে একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেছে তারা। কোথাও আবিরের রঙে ফুটে উঠেছে নান্দনিক নকশা, কোথাও আবার প্রদীপ ও ফুলের ব্যবহারে রঙ্গোলি পেয়েছে অন্য মাত্রা।
শুধু প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াই নয়, নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নকশা তৈরি, রঙের নির্বাচন এবং উপকরণের ব্যবহার—সব ক্ষেত্রেই পড়ুয়াদের মধ্যে দেখা গিয়েছে দলবদ্ধভাবে কাজ করার প্রবণতা। কেউ রঙের প্রলেপ দিচ্ছে, কেউ নকশার আকার তৈরি করছে, আবার কেউ ফুল ও প্রদীপ দিয়ে সাজিয়ে তুলছে রঙ্গোলি। নিজেদের ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে গিয়ে প্রত্যেকেই যেন মেতে উঠেছে এক অন্য আনন্দে।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের কথায়, পড়াশোনার বাইরে এই ধরনের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে তারা বেশ আনন্দিত। দীপাবলির আগে রঙ্গোলি আঁকার অভিজ্ঞতা তাদের কাছে একেবারেই অন্যরকম। একদিকে উৎসবের আনন্দ, অন্যদিকে বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ—দুয়ে মিলে এই প্রতিযোগিতা তাদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নিজেদের হাতে তৈরি রঙ্গোলি দেখে যেমন আনন্দ হচ্ছে, তেমনই অন্যদের কাজ দেখেও নতুন নতুন ভাবনা আসছে বলে জানিয়েছে পড়ুয়ারা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সোমা চট্টরাজ বলেন, এই ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে দলবদ্ধভাবে কাজ করার মানসিকতা ও সৃজনশীল চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটে। প্রত্যেক পড়ুয়ার মধ্যেই কোনও না কোনও সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে। এই ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদের সেই প্রতিভাকে সামনে আনার চেষ্টা করা হয়। পড়াশোনার পাশাপাশি শিল্প-সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে পড়ুয়াদের যুক্ত রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষামহলের মতে, বর্তমানে পড়াশোনার চাপ এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিনোদনের কারণে শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ অনেক ক্ষেত্রে সীমিত হয়ে পড়ছে। সেই পরিস্থিতিতে রঙ্গোলি আঁকার মতো প্রতিযোগিতা পড়ুয়াদের নিজেদের ভাবনা প্রকাশের একটি সুন্দর মঞ্চ তৈরি করে। এর মাধ্যমে হাতের কাজের দক্ষতা, রঙের ব্যবহার, নান্দনিক বোধ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতাও গড়ে ওঠে।
আসলে দীপাবলি মানেই শুধু প্রদীপের আলো কিংবা আলোকসজ্জা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রং, শিল্প ও সৃজনশীলতার নানা প্রকাশ। আর সেই উৎসবের আবহকে আরও রঙিন করে তুলতেই পড়ুয়াদের এই উদ্যোগ। তাদের হাতে আঁকা রঙ্গোলির নকশায় যেন আগাম ফুটে উঠল আলোর উৎসবের আনন্দ। প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শুধু সেরা রঙ্গোলি বেছে নেওয়াই নয়, পড়ুয়াদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশেরও সুযোগ করে দিল ডিএভি পাবলিক স্কুল।
