#রবীন্দ্র ভাবনায় উদ্ভুদ্ধ হয়ে এই লেখা টি
#অনুগল্প
#নামকরণ-শেষ বসন্ত
ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের শ্বেত শুভ্র কেশে শীলা হাত বুলোতে বুলোতে ভাবে,মূর্তিমতি ইডিয়ট একটা! দিব্যি রং চঙে জীবন একটা নিজেকে উপহার দিতে পারতো,তখন তো জী…
#রবীন্দ্র ভাবনায় উদ্ভুদ্ধ হয়ে এই লেখা টি
#অনুগল্প
#নামকরণ-শেষ বসন্ত
ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের শ্বেত শুভ্র কেশে শীলা হাত বুলোতে বুলোতে ভাবে,মূর্তিমতি ইডিয়ট একটা! দিব্যি রং চঙে জীবন একটা নিজেকে উপহার দিতে পারতো,তখন তো জীবন খোলাই ছিলো তা না করে অন্ধকারাচ্ছন্ন জীবনে নিজেই পদার্পন করলো,আয়নার দিকে তাকিয়ে বহু বসন্তের ফেলে আসা ঝরা পাতার জীবন নিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে একটু আনমনা হয় শীলা।
কেউ কি বেল বাজালো সদর দরজায়? আর বাজলেই বা কি,কারো পদধ্বনি শুনলো মনে হয়! সবই ভুল,কতকাল ধরে কারোর পায়ের আওয়াজ শুনি না। শুধুমাত্র সকালে কমলা এসে ঘরের সব কাজ করে দিয়ে যায়। দুটি সন্তান ছেলে কর্মসূত্রে বিদেশে,,মেয়েও দূরে নিজের সংসার সন্তান সামলে চলছে। ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ আছে অবশ্যই সে আর কতটুকু সময়।
মনে পড়ে সেই দিনটার কথা,কলেজ জীবনে অনিমেষের কথা বাড়িতে মুখ ফুটে বলতে পারেনি পারবেই বা কি করে,শীলার কথা না শুনে শুধুই পার্টি পলিটিক্স,টিউশনি এই নিয়েই পরে রইলো অনিমেষ। বলতো আমাদের ঠিক চলে যাবে এতে কিছু ভেবো না। তাই কি হয়!! রাশভারী বাবার সামনে এসে শীলাকে চেয়ে নিয়ে যাওয়ার সাহস টুকু যোগাড় করতে না করতেই শীলার বিয়ের সানাই বেজে উঠলো।
বিয়ে টাও কিন্তু খুব সুখের হয় নি শীলার,শ্বশুর বাড়িতে পরিবারের সদস্যরা ও স্বামী কেউই শীলার উপরে সন্তুষ্ট ছিলো না। কেননা একটি ছোট স্কুলে শীলা শিক্ষিকার কাজ টি কিছুতেই ছাড়তে পারে নি। বাড়িতে ঢুকলে লাঞ্ছনা,গঞ্জনা এমন পর্যায়ে পৌছেছিলো যে রান্নার গ্যাসের আগুন তাকে লোভ দেখাতো পুড়ে মরবার জন্য।
এসব কথা আমি কেন ভাবছি,কি হবে ভেবে? ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে সন্ধ্যে ছটা বাজতে চললো,এই সময় টা শীলা ডাক্তারের নির্দেশে সামান্য একটু পথ হেঁটে নেয়,নিজের ওষুধ দরকার মতো কিনতেও হয় সঙ্গের লাঠিটি কিন্তু নিতে ভোলে না। শরীরের ক্ষয় ক্ষতিটা ঝালিয়েও নেওয়া যায়, এই ভেবেই বেরোনো আর কি নিয়ম করে।
আচ্ছা, আজ কেমন অসমান লাগছে রাস্তাটা,প্রতিটি পদক্ষেপ বড় অচেনা লাগছে মনে হচ্ছে মাথার ওপরের আকাশ টা ঝুঁকে নামছে নিচের দিকে,কি করবো বাড়ি ফিরে যাই ভাবতেই হাতের লাঠিটা ছিটকে পড়লো টাল সামলাতে না পেরে টলে উঠলো শরীর টা ঠিক সেই সময়, হাতটা ধরো আমার! হাত ধরে সোজা হয়ে উঠতেই চোখ পড়লো শীলার"সব পথ এসে মিলে গেলো শেষে তোমারই দু খানি নয়নে নয়নে'। একগাল হেসে হাত বাড়িয়ে অনিমেষ বলে আমি অনিমেষ চৌধুরী। দুটো হাত সৌজন্যের ঝাঁকুনি খেয়ে ফিরে এলো নিজের নিজের জায়গায়।
#মঞ্জু চ্যাটার্জি। ৩১শে বৈশাখ।
