Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

কেন্দ্রীয় সরকারের টাকা আসার আগেই কালনেমির লঙ্কা ভাগ

কেন্দ্রীয় সরকারের টাকা আসার আগেই কালনেমির লঙ্কা ভাগ
তরুন চট্টোপাধ্যায় ।
................

 সংখ্যা তত্ত্ব আসছে করোনাভাইরাস আসার দিন থেকেই।নানা সংখ্যা সংকটে আমরা।সে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হোক কিংবা মৃত্যু ।শুধু সংখ্যার হেরফের।কখনো বি…


কেন্দ্রীয় সরকারের টাকা আসার আগেই কালনেমির লঙ্কা ভাগ
তরুন চট্টোপাধ্যায় ।
................

 সংখ্যা তত্ত্ব আসছে করোনাভাইরাস আসার দিন থেকেই।নানা সংখ্যা সংকটে আমরা।সে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হোক কিংবা মৃত্যু ।শুধু সংখ্যার হেরফের।কখনো বিশ্বের নিরিখে।কখনো দেশের।আবার কখনো রাজ্যের ।কখনো বা স্রেফ পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা কিংবা হাওড়া ।আসলে সংখ্যা এবং সংক্রমণ কেমন যেন এক সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ।আর আমরা এই সংখ্যার হিসাব রাখতে রাখতেই এক সংকটময় জীবনের দিকে এগিয়ে চলেছি।
আবার সেই একই সংখ্যা এখন আমাদের আবার ভাবাচ্ছে ।দেশের প্রধানমন্ত্রী মোদী এবার আর তালি বাজাতে বা দীপ জ্বালাতে বলেন নি।বরং উল্টো পথে হেঁটেছেন।বিশাল অঙ্কের এক টাকা বরাদ্দ করেছেন দেশের আপামর জনগনের জন্য ।সাধু প্রস্তাব নিঃসন্দেহে।কিন্তু সে টাকা কি ভাবে আসবে কি অঙ্কে ভাগ হবে তা নিয়ে আবার সেই সংখ্যা। সংখ্যার ঝনঝনানি ।
কালনেমির লঙ্কা ভাগের মতোই সেই বিশাল অঙ্কের টাকা নিয়ে আজ আবার সেই সংখ্যার কারিগরি ।পরিযায়ী শ্রমিকদের ভাগ কতো ।গ্রামের দরিদ্র মানুষের ভাগে কত যাবে।মধ্য বিত্তের ভাগে কিছু আসবে কিনা।নাকি বিত্তবান মানুষের দল সে টাকা লুঠ করে নেবে।
আসলে পরিকল্পনাহীন ভাবে যে কাজ হবে সেখানে এসব আসাটাই স্বাভাবিক ।আমাদের সোসাল মিডিয়া ও টিভির দৌলতে মানুষ এখন ধন্দে।কি হবে।কি পাবো।আমাদের ভাগে কত আসবে।
ইতিমধ্যেই কিছু মানুষ পুরানো আলমারি খুলে খুঁজতে শুরু করেছেন ট্রেড লাইসেন্স ।যদি এই লাইসেন্স দেখে ব্যাঙ্কের থেকে ঋন পাওয়া যায় ।আর সেই ঋনের টাকা দিয়ে চলে কিছুদিন।কিন্তু ব্যাঙ্কের টাকাতো জনগনের গচ্ছিত টাকা।দান খয়রাতি নয়।ফলে সুদ সমেত ফেরতের জন্য ব্যাঙ্কের তাগাদা আসবেই।আর সেটিই দস্তুর ।এতদিন যারা ঋন নিয়েছেন তাঁরা জানেন ব্যাঙ্কের ঋন চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ে।তাই সেই টাকা ব্যাবসা তে ইনভেস্ট না করলে লাভ আসবে না।আর লাভ না এলে অনাদায়ী ঋন ।আর এই অনাদায়ী ঋনের বোঝা বাড়বে প্রতিদিন ।ফলে দেশের অর্থনীতি র চাকা আবার বন্ধ হবে।
তাহলে ভাগ কি ভাবে।আমাদের দেশের পঞ্চায়েত গুলি নানা ভাবে দলবাজি করে আসছে প্রথমদিন থেকেই।আর তার মূল কারন লক্ষ্য ও নজরের অভাব।পরিকল্পনাহীন ভাবে কোন টাকা যদি কেউ পায় সেক্ষেত্রে যা হবার তাই হবে।
একশো দিনের কাজ নিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর নয়।গ্রামের মানুষের কাজ পাওয়া নিয়ে সেখানে কিছু কিছু দলবাজি যে চলে তা আমরা জানি।আর তা জানি বলেই মাঝে মাঝেই পঞ্চায়েত কর্মী দের নানা ঝক্কি ঝামেলা লেগেই থাকে।আসলে এই দেশের সব থেকে বড় অভাব সঠিক পরিকল্পনা ।আর এই মহামারী তে যে পরিকল্পনা ঠিকমতো হবে না তাতো বলাই যায় ।ফলে সেখানে ও সেই সংখ্যার হিসাব যে গরমিলে ভরবে তাতো বলাই যায় ।
পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরা নিয়ে আমরা দেখেছি সেই অভাব ছিল স্পষ্ট ।যার ফলশ্রুতি তে মানুষ নিজেরাই রাস্তায় নেমে মাইলের পর মাইল হেঁটে এসেছেন।কেউ কেউ রাস্তায় মারা গেছেন ।এ ছবি কোন এক রাজ্যের নয়।সমগ্র দেশের।এখনো দেখা যাচ্ছে নানা পরিকল্পনাহীন ছবি।এতোদিন ঘোষিত হওয়ার পরেও আজও কিন্তু সঠিক ছবি আজও আসেনি।যার ফলশ্রুতি দেখা যাচ্ছে কেন্দ্র ও রাজ্যের নানা বিষয়ে সংঘাতের ছবি।
শিল্প পতি দের হাতেও নাকি এখন টাকার অভাব ।ফলে শ্রমিক ও কর্মচারী দের মাহিনা নাকি বন্ধ ।অথচ এ নিয়ে কোন রকম পরিকল্পনা নেই সরকারী স্তরে।ফলে সংসারের চাকা চলতে চলতে এখন থমকে পড়ছে।
আমি বিশ্বাস করি ও অভিজ্ঞতা থেকে যা সঞ্চয় করেছি তাতে করে এটুকু বুঝেছি টাকা উপার্জন করতে গেলে টাকা কে নানাভাবে ব্যবহার করতে হয়।আর তা না হলে আসলে হাত পড়ে।আজ মধ্য বিত্তের যা অবস্থা ।কাজ নেই।আর এই শ্রেনীর চিরকাল এক অবস্থা ।ফলে যেটুকু গচ্ছিত তা দিয়ে ই গাত্তছাদন।ফলে একদিন সেই সামান্য টাকা শেষ হবে।কিন্তু এরা তো একশো দিনের কাজ পাবেন না।সরকারী দান খয়রাতি বা ব্যাঙ্কের ঋন কিছুই জুটবে না এদের ভাগ্যে।তবে কি।সেই এক কথা পরিকল্পনা করতে হবে।খরচের বহর কমাতে হবে।উচ্চ মধ্য বিত্ত কে নেমে আসতে হবে নিম্ন মধ্যবিত্তের দলে।খামোকা সংখ্যা তত্ত্ব কে ভর করে চললেই সেই এক বিপদ।
বিতর্কিত বিষয় জানি তবুও বলবো শিল্প পতি ঋন পেলে সে টাকা যদি উৎপাদনে লাগায় তা হলে দেশের মানুষ কাজ হারাবে না।টাকার যোগান আসবে সবার ঘরে।অবশ্য সে টাকা নিয়ে বিদেশ পাড়ি আটকাতে হবে সরকারকেই।আসলে দরকার সঠিক পরিকল্পনা ।কাগজে কলমে নয়।একেবারে রাস্তায় নেমে সেই পরিকল্পনা কে বাস্তবায়নের পথে নিয়ে যেতে হবে।প্রুডেনসিয়াল নর্ম চালুর আগে টাকা ব্যাঙ্কের ঘরে না ঢুকলেও প্রতিদিন ঋনের খাতা তে সুদের অঙ্ক চাপতো।আজ কিন্তু তা নেই।তিন মাস ঋন অনাদায়ী হলে সেই ঋনে আর সুদ চড়ে না।বার্ষিক হিসাবে প্রভিশন রাখতে হয় লাভের টাকা থেকেই।আর এই পরিকল্পনা এসেছিল বলেই ব্যাঙ্কের প্রতি আজও মানুষের বিশ্বাস যোগ্যতা বজায় আছে।
মানুষ আজ সত্যি দিশেহারা ।কিন্তু তা বলে হরির লুঠের মতো টাকা বিলিয়ে দিলে সেই সংকট কাটবে না।সঠিক পরিকল্পনা করে মানুষের হাতে টাকা এলে তবেই সম্ভব ।কিন্তু লেখা যতো সহজ বাস্তব তা নয়।ফলে দরকার স্বল্প মেয়াদি ও সঙ্গে সঙ্গেই দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা ।
সরকারী প্রকল্পে ঋন বহূদিন ধরেই ব্যাঙ্ক দিয়ে আসছে।কিন্তু সেখানে দেখা গেছে আসলের থেকে নকল মানুষ নির্বাচিত হয়েছেন বেশি।কারন টার্গেট ফিলাপ।সে কি সরকারের কি ব্যাঙ্কের ।ফলে সে টাকার বেশিরভাগ টাই অনাদায়ী ।হয়তো বলবেন অনাদায়ীর  এ আর কত পারসেন্ট ।শিল্প পতিরাই তো বেশি টাকা অনাদায়ী করেন।মানছি।কিন্তু সেখানেও তো সেই পরিকল্পনা ও আইনের ফাঁকফোকর ।
দেশের সম্পদ দেশের মানুষ আইন মেনে পরিকল্পনা করে কাজে যতক্ষন না ব্যবহার করছেন ততদিন এছবি সরবে না।সংখ্যা তত্ত্বের হিসাব নয় হিসাব করতে হবে বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে ।
আর সব থেকে বড় কথা একদিনে তো সব বদল হবে না।আমরা যাঁরা যে স্তরে আছি সেখানে আমাদের কাজ সঠিক ভাবে করতে পারলে আসল দিশার সন্ধান মিলবে।আর সেটি অত্যন্ত জরুরী ।সরকারী বে সরকারী সব স্তরেই লক্ষ্য ও নজর দিতে পারলে তবেই তা সম্ভব ।নতুবা বিড়ালের পিঠে ভাগ হতে বাধ্য
জানি এ লেখা শুরু করেছিলাম সংখ্যা তত্ত কে ভিত্তি করেই।মাঝে এসে গেছে নানা প্রসঙ্গ ।ঠিক বেঠিক সে তো আমি বলতে পারিনা।শুধু অভিজ্ঞতা বলছে পরিকল্পনা করে কাজ না করতে পারলে বিপদ সমূহ।তাই দরকার সংখ্যা তত্ত্ব কে সরিয়ে আসল পরিকল্পনার দিকে নজর দেওয়া ।
করোনাভাইরাস কবে চলে যাবে এ নিয়ে তো আমরা রোজ বিশেষজ্ঞ দের মতামত শুনছি।টিভি খুললেই নানা রাজনৈতিক দল দলবাজি করছেন তা সু স্পষ্ট ।কিন্তু যেটি নেই তা হলো সঠিক পরিকল্পনা ।
আমেরিকা কি করছে।চীন কি করছে এসব নিয়ে মতামত চলছে সর্বক্ষন ।
কিন্তু আমরা কি করবো তা কোথায় ।
চাষী যখন চাষ করে সে মাটি দেখে বলে দেয় চাষ কেমন হবে।আকাশের দিকে তাকিয়ে বলতে পারেন বৃষ্টি হবে কিনা।এর জন্য বিশেষজ্ঞ দরকার হয় না।বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে আমার দেশের মাটি চিনে তৈরি করতে হবে পরিকল্পনা ।আর সে বীজ পুঁতলে ফসল আসবেই।
বড় বেদনার দিন আজকে জানি।
তবুও কলম ধরা।যার যা কাজ এই আরকি।
ভুল বা ঠিক।মতামত একান্তই আমার নিজস্ব ।