যারা আজ নিরুদ্দেশ । যারা নিরপেক্ষ এবং পক্ষ বাছতে এখনও গড়িমসি করে । পৃথিবীর গভীরতর অসুখে যাদের বিন্দুমাত্র দরকার নেই আর । একটা পুরোনো লেখা নতুন আঙ্গিকে ।
বুদ্ধিজীবী
আমি সাতেও থাকি সাথেও থাকি
পাঁচে কিম্বা প্যাঁচে
দরকার হলে থাকতে প…
যারা আজ নিরুদ্দেশ । যারা নিরপেক্ষ এবং পক্ষ বাছতে এখনও গড়িমসি করে । পৃথিবীর গভীরতর অসুখে যাদের বিন্দুমাত্র দরকার নেই আর । একটা পুরোনো লেখা নতুন আঙ্গিকে ।
বুদ্ধিজীবী
আমি সাতেও থাকি সাথেও থাকি
পাঁচে কিম্বা প্যাঁচে
দরকার হলে থাকতে পারি
যে কোনোরকম ধাঁচে।
বাংলা নয় ইংলিশও নয়
ভাষাতেও আঁতলামো
খিচুড়ি এমন রাঁধতে পারি
একেবারে পাগলামো।
ছবি করেছি গোটা দশেক
হতে পারে কিছু বেশি
লেখার হাতও মন্দ যে নয়
কবিতা ছদ্মবেশী।
আমি আবার ক্যানভাস বুঝি
রঙ তুলি পোটের্ট
ছন্দ না মেলা গানে ওস্তাদ
মাতিয়ে তুলি নেট।
মাঝে মাঝে আমি একটু আলাদা
জামা কাপড় পরি
স্বাভাবিক ভাবে অস্বাভাবিক
স্বাধীনতা অধিকারী।
হতে পারে আমি গান লিখি ভাই
তবুও নাচতে জানি
শিল্প আমার রক্তে মিশেছে
চিনেছ কতখানি ।
আমি আবার খুব সৌখিন
গাছপালা নিয়ে কথা
বিদ্রোহী আমি পাখিদের নিয়ে
শহুরে মাথাব্যথা ।
এছাড়া আছে আর একপ্রকার
সরস্বতীর পুত্র
ছাত্র পড়াই প্রতিষ্ঠানে
নাটক করি যুদ্ধ ।
কখনো আমি মাইক হাতে
লেঙ্গটাপোটার পাশে
কেমন আছো জানতে চাই
অভুক্তদের কাছে।
আবার কখনো মেকআপ মুখে
মিছিলে সামনে সারি
প্রতিবাদে আমি কল্লোলিনী
বিপদ সামনে ভারি ।
বিষ ছড়াতে ভালো জানি
বিভিন্ন ন্যাকামি
তোমার ব্যথায় এত দরদী
অশ্রুতে বোকামি ।
যেতে পারি আমি যেখানে সেখানে
বাঁচিয়ে চলি গদি
যে লড়াইয়ে নির্ভীক মুখ
আক্রান্ত হই যদি।
এসব কারণে আমি প্রখ্যাত
আর, বুদ্ধি ধরি মাথায়
সব ব্যাটারা বোকার হদ্দ
অবশিষ্ট ধাঁধায়।
এহেন আমি রাস্তা নামি
এখুনি হয়ত দেরিতে
সুযোগ বুঝে শুক্ল কৃষ্ণ
যেমন পক্ষপাতে।
ওরে ভীতু দল পেটোয়া কাঙাল
দেখেশেখ ছিটেফোঁটা
বুকেতে বুলেট মুখে বিপ্লব
ঘরে যারা লাশকাটা।
ওরে বাদবাকি ওরে বোকারা
জানিয়ে দে ওদের
নিরপেক্ষতা অপরাধ শুধু
মানুষই পক্ষ তোদের ।
নিজের লড়াই নিজেরা লড়িস
ইতিহাস হিসেবিনী
বুদ্ধি যাদের বরাবর বেশি
তারাই বিদেশিনী ।
"আমি চিনি গো চিনি তোমারে ওগো বিদেশিনী"
-পারিজাত মারিক
