#নিক্কণ_এর_আহ্বান
কলমে : ভারতী দাস
তারিখ : ২৮/০৫/২০২০
টেনে টুনে উচ্চমাধ্যমিক'টা কোনো মতে উৎরে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম হয়তো গাট্টা খাবো, শিক্ষকরা সদয় হয়েছিলেন বোধহয় এই মা-মরা ছেলেটার ওপর।
আমি সুজয়, সুজয় বাগদী।…
#নিক্কণ_এর_আহ্বান
কলমে : ভারতী দাস
তারিখ : ২৮/০৫/২০২০
টেনে টুনে উচ্চমাধ্যমিক'টা কোনো মতে উৎরে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম হয়তো গাট্টা খাবো, শিক্ষকরা সদয় হয়েছিলেন বোধহয় এই মা-মরা ছেলেটার ওপর।
আমি সুজয়, সুজয় বাগদী। বাপ কোনো কালেই স্কুলের পথ মাড়ায়নি। মা কবে মরেছে, মনে পড়ে না। ঘরে নতুন মা আছে শুধু গঞ্জনা দেবার জন্য।
গাঁ ঘরের ছেলে একটু বড়ো হতেই রোজগারের চিন্তা। কয়েকমাস পর জুটে গেল কাজটা বরাত জোরে। বন-বাংলোর কেয়ার টেকার। বুড়ো বাপ'টার মুখঝামটানি আর শুনতে হবে না। এবার নিজের মতো করে বাঁচতে পারবো। কিছু টাকা জমিয়ে ফুলমনিকে নিয়ে আসবো বৌ করে।
গতবারের শীতলা পুজোর মেলায় একজোড়া নুপূর কিনে দিয়েছিলাম সখ করে। কাজে যাবো বলে একপ্রকার ঘুষ বলা যেতে পারে। বেশ মিষ্টি রিনরিনে একটা শব্দ, মনে দোলা দেয়। মনে হয় ও যেন সবসময় আমার চারপাশেই রয়েছে।
আজ দু'দিন হল নতুন কাজের দায়িত্ব নিয়েছি। বেশ সুন্দর এই বাংলোটা। নিঝুম চারপাশ- সন্ধ্যা নামলেই। পাকা সড়ক'টা এঁকেবেঁকে চলে গেছে বাংলোটার পাশ দিয়ে। একটা-দুটো গাড়ির আনাগোনা সারাদিন লেগেই থাকে। সন্ধ্যা নামলেই সব অদৃশ্য হয়ে যায় না জানি কোন মন্ত্রবলে। এসবে আমল দেবার সময় ইচ্ছা কোনো টাই নেই আমার। প্রথম দিনটা ফুরিয়ে এসে রাত নামলো বন বাংলোয়। ঝিঁঝিঁর ডাক আর পেঁচার চিৎকার ছাড়া কিছুই নতুনত্ব ছিল না এই পরবাসে।
দ্বিতীয় রাত। হ্যাঁ দ্বিতীয় রাতে ঘুমটা একটু আগেই লেগেছিল। ঘুমটা ভাঙলো যখন মুঠোফোন জানান দিচ্ছি রাত দুটো। শিশির রাতে একটা খুব পরিচিত আওয়াজ যেন সারা বাগানময় ঘুরে বেড়াচ্ছে। একাদশীর চাঁদ আজ সব ঝাপসা করে রেখেছে। চোখে ঠিক কিছুই ঠাওর হচ্ছে না। মনে একটা খুশীর পরশ নিয়ে ডাক দিলাম
'ফুলমনি' ~ ~ ~ ~ ফুলমনি
ও ফুলমনি, বিরহ কি সহ্য হল না! লুকিয়ে এলে দেখা করতে?
জঙ্গলে না ঘুরে ঘরে এসো, দুজনে গল্প করে রাতটা পার করে দি আজ। সকালে তোমায় বাড়ি ছেড়ে দিয়ে আসবো।
কোন উত্তর না পেয়ে ঘর থেকে বেরোতে গিয়েই পড়লাম সজোরে- চৌকাঠে হোঁচট খেয়ে। মাথাটা অসহ্য যন্ত্রনা করলেও শরীরটা বেশ হালকা লাগছে। ঐ তো, ঐ যে দূরে ফুলমনি দাঁড়িয়ে আছে। দুহাত বাড়িয়ে ডাকছে আমায়...........
একটু করে আকাশ ফর্সা হতে লাগলো। সারারাত গল্পের পর ক্লান্ত দুজনেই। ঘর থেকে এসে দাঁড়ালাম রাস্তায়। জনা কয়েক লোক কি একটা বয়ে নিয়ে আসছে যেন কাঁধে করে?
ও ফুলমনি, ওটা কি গো?
আবছা একটা হিস হিসানি হাসি দিয়ে সে বলল "ওটা আমি গো আমি। কাল সকালে গোখরো তে কেটেছে। প্রাণটা বের হতেই তোমায় নিতে এলাম। বড্ড ভালোবাসি যে তোমায়। ঐ দ্যাখো তুমি! "
একটু দূরে চৌকাঠের ওপর আমার নিথর শরীরটা দেখি শুয়ে আছে আরাম করে।
