Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

ক্যাসিওপিয়া সাহিত্য পত্রিকার দৈনিক সেরা সম্মাননা

#জটিল_জীবন_অঙ্ক
#অরিন্দম_ভট্টাচার্য্য

রোজ সকাল হয়, দুপুর হয়, সন্ধ্যা নামে, রাত্রি আসে এক‌ইক্রমে। সপ্তাহের সাতটা দিন সপ্তাহ ফুরালে আবার ঘুরে আসে এক‌ইক্রমে। বছরের বারোটা মাস‌ও বছর ফুরালে আবার ঘুরে আসে এক‌ইক্রমে। ঘড়ির কাঁটাও এক …



#জটিল_জীবন_অঙ্ক
#অরিন্দম_ভট্টাচার্য্য

রোজ সকাল হয়, দুপুর হয়, সন্ধ্যা নামে, রাত্রি আসে এক‌ইক্রমে। সপ্তাহের সাতটা দিন সপ্তাহ ফুরালে আবার ঘুরে আসে এক‌ইক্রমে। বছরের বারোটা মাস‌ও বছর ফুরালে আবার ঘুরে আসে এক‌ইক্রমে। ঘড়ির কাঁটাও এক দুই তিন করে ঘুরতে ঘুরতে বারো ছুঁয়ে ফেলে, আবার এক থেকে শুরু করে এক‌ইক্রমে।
অথচ সময় নদীর মতো বয়ে চলে যায়। যে তারিখটা একবার চলে যায়, সেটা আর কখনো ফিরে আসে না।
তাই এই সময়কে অক্ষ ধরেই শূণ্য ডিগ্রী থেকে তিনশো ষাট ডিগ্রী পর্যন্ত চক্রাকারে নিত্য ঘুরে চলাই আমাদের সকলের নিয়তি। এই নিয়তিটা ঠিক কে কখন কোথায় বসে বানিয়েছিলেন তা অবশ্য ঠিক জানা নেই আমার। তবে ঐ চক্রের‌ই কখনো ফার্স্ট, কখনো সেকন্ড, কখনো থার্ড তো কখনো ফোর্থ কোয়াড্রেন্টে আমাদের অবস্হান। যার প্রথম দুটো কোয়াড্রেন্ট ধনাত্মক আর শেষদুটো ঋণাত্মক। আমদের মানা না মানায় কারো কিছু যায় আসে না, তবে প্রকৃতি সেটাই অনুসরণ করে এসেছে এবং করবেও।

আমাদের‌ জীবনটাও অনেকটা এক‌ই রকমের। মোটামুটি জীবনের প্রথম কুড়িটা বছর ফার্স্ট, আর পরের কুড়ি বছর সেকন্ড কোয়াড্রেন্ট। এদুটোই ধনাত্মক। চল্লিশের পর, যখন চালশে ধরে, তখন থেকেই শুরু হয় চক্রের ঋণাত্মক অংশ। থার্ডটা মোটামুটি ষাটে শেষ হয়, আর ফোর্থটা আশিতে।

অর্থাৎ আমাদের গৃহের চারটি প্রাণীর মধ্যে দু'জন, (আমার পুত্র এবং স্ত্রী, যাদের একজনের বয়স কুড়ি পেরিয়েছে সবে আর একজনের বয়স চল্লিশ ছোঁয়নি এখনো) এখন জীবনের সেকন্ড কোয়াড্রেন্টে রয়েছে। আমি নিজে চল্লিশ পেরিয়েছি, তাই থার্ড কোয়াড্রেন্টে আছি। আর আমার মা, যিনি ষাটোর্ধ্ব, তিনি রয়েছেন ফোর্থ কোয়াড্রেন্টে। স্বাভাবিক ভাবেই বোঝা যাচ্ছে, আমাদের সমগ্র পরিবারের ওপর কোন কোয়াড্রেন্টের প্রভাব বেশী। সেকন্ড।

আমরা জানি, প্রত্যেকটি কোয়াড্রেন্টের‌ই একটা নির্দিষ্ট চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এখন যদি আর্যদের নিয়মে ফেলি তবে চতুরাশ্রমের গার্হস্থ্য চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যটি আমাদের পরিবারের জন্য প্রযোজ্য। যেখানে আমি পড়ছি বানপ্রস্থ ভাগে, আর আমার মা সন্ন্যাস। সুতরাং আমাদের যদি সংসারে শান্তি বজায় রাখতেই হয়, তবে আমাদের শেষোক্ত দুটি প্রাণীকেও ঐ গার্হস্থের রঙেই রঙিন হতে হবে, এবং সেটাই স্বাভাবিক। অবশ্য আমরা চলছিও সেভাবেই, ঈশ্বরের কৃপায় সংসারে শান্তির অভাব নেই।

আমি খুব আনন্দে আছি, এই ভেবে, আর কিছুদিন পরেই সেকন্ড কোয়াড্রেন্টে ছেলে একা হয়ে যাবে। আমি আমার কোয়াড্রেন্টে আবার ফিরে পাবো আমার জীবন সঙ্গীনিকে। সংসারে চলবে থার্ড কোয়াড্রেন্টের রাজ। আঃ! কি শান্তি! আমাকে আর আলাদা করে কিছু সাজতে হবে না। একদম স্বাভাবিক। বিন্দাস!

তবে সমস্যা বাড়বে, যদি ছেলে সেকন্ড কোয়াড্রেন্টে একা হয়ে গিয়ে নিজের বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। কারন তার কাছে অপশন আছে সংখ্যা বাড়ানোর। তখন সেকন্ডে দু'জন, থার্ডে দু'জন, ফোর্থে একজন। অর্থাৎ, সংসারে শুরু হবে সমানে সমানে টক্কর, গার্হস্থ্য আর বাণপ্রস্থর মধ্যে রাজ করার লড়াই। সেই দিনটা সত্যিই কঠিন। গার্হস্থ্য যেহেতু চক্রের ধনাত্মক ভাগে পরে, তাই তার সদস্য সংখ্যা বাণপ্রস্থের সাথে এক হলেও, তার হাতেই ছেড়ে দেওয়া উচিত সংসারের রাজকে। কিন্তু সমান সংখ্যা নিয়েও রঙ মাখতে হবে মুখে। পারবো তো!!!!!