মৌসুমী
ঠাকুর বিশ্বরাজ গোস্বামী
হঠাৎ করে সানাই শুনি
ওপাড় মন যায়,
গিয়েই দেখি কনে মৌমুমী
হলুদ মাখা গায়।
সকলে কয় বরটি ভালো
শিক্ষিত বেশ ভারি,
সুখের হবে স্বামীর ঘর
বরটি বলিহারি।
হাসিতে ভরা চাঁদ-বদনা
…
মৌসুমী
ঠাকুর বিশ্বরাজ গোস্বামী
হঠাৎ করে সানাই শুনি
ওপাড় মন যায়,
গিয়েই দেখি কনে মৌমুমী
হলুদ মাখা গায়।
সকলে কয় বরটি ভালো
শিক্ষিত বেশ ভারি,
সুখের হবে স্বামীর ঘর
বরটি বলিহারি।
হাসিতে ভরা চাঁদ-বদনা
শশুর বাড়ি গিছে,
সবাই বলে রূপসী চাঁদ
মেয়ের বাবা দিছে।
নতুন বৌ-কে দেখতে লোক
অনেক আসে যায়,
বলছে লোকে এমন বধু
নেইতো কোনো গাঁয়।
এমন দেবী গড়তে বিধি
করেনি কোনো ভুল,
প্রান জুড়ানো মন ভুলানো
পারিজাতের ফুল।
ক'দিন পর স্বামীর সাথে
শহরে চলে যায়,
স্বামীর সেবা করবে সুখে
প্রেমের আঙিনায়।
শহর তার কাল হয়েছে
ঘরটি ফাঁকা পেয়ে,
স্বামীটি তাকে প্রহার করে
যৌতুক টাকা চেয়ে।
মৌসুমী কয় বাবা আমার
গরীব আছে ভারি,
পারবে না সে কিছুই দিতে
করো না মারামারি।
মিনতি করে স্বামীর পায়ে
মৌসুমী হতোভাগী,
শুনেনি কথা স্বামীটি তার
হয় অনেক রাগি।
ক্ষমা করেনি সেই পাষন্ড
মারার ইচ্ছে করে,
আগুন দিয়ে পুঁড়িয়ে মারে
গোপন এক ঘরে।
আজও দেখি এই সমাজে
যৌতুক বিয়ে চলে,
মরছে বহু কুলের বধু
যৌতুক রোষানলে।
জাগো এবার তরুন দল
কুশীক্ষাটি তাড়াও।
অবলাদের করো উদ্ধার
দু'হাতটি বাড়াও।
লেখা
৮ই ফেব্রুআরি ২০০৮
বৃহস্পতিবার
সময়
রাত ১২-ঘটিকা।
গ্রন্থ
কাব্যাঞ্জলী
