ঈদ / সন্দীপ কাঞ্জিলাল
দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর পবিত্র শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখে যে আনন্দ - উৎসব পালন করা হয় তাকে ' ঈদ- উল - ফিতর ' বলা হয়। ঈদ - উল - ফিতর এর যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতায় পরস্পরের প্রতি শুভেচ্ছা, আন্তরিকতা ও সহ…
ঈদ / সন্দীপ কাঞ্জিলাল
দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর পবিত্র শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখে যে আনন্দ - উৎসব পালন করা হয় তাকে ' ঈদ- উল - ফিতর ' বলা হয়। ঈদ - উল - ফিতর এর যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতায় পরস্পরের প্রতি শুভেচ্ছা, আন্তরিকতা ও সহমর্মিতা বিনিময়ের মাধ্যমে মানবিক ও সামাজিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বছরজুড়ে নানা প্রতিকূলতা, দুঃখকষ্ট, বেদনা সব ভুলে ঈদের দিনে মুসলমান মাত্রই পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিলিত হয়। ঈদের নতুন চাঁদ দেখামাত্রই রেডিও- টিভি - পাড়া মহল্লার মসজিদের মাইকে ঘোষিত হয় খুশির বার্তা ' ঈদ মোবারক '। কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত ঈদের গান, ' ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ / তুই আপনারে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানি তাগিদ.....'। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ' যারা ঈদের নামাজ আদায় করার জন্য ময়দানে একত্রিত হয়, আল্লাহ্তায়ালা তাদের সম্পর্কে ফেরেশতাদের জিজ্ঞাসা করেন, যারা স্বেচ্ছায় দায়িত্ব পালন করে আজ এখানে উপস্থিত হয়েছে, তাদের কি প্রতিদান দেওয়া উচিৎ? ফেরেশতারা বলেন, তাদের পুণ্যময় কাজের সম্পূর্ণ পারিশ্রমিক দেওয়া উচিত। তখন আল্লাহ্তায়ালা তাঁর মর্যাদার শপথ করে বলেন : অবশ্যই তিনি তাদের প্রার্থনা কাবুল করবেন। এরপর আল্লাহ্তায়ালা ঈদের নামাজ সমাপনকারী তার নেক বান্দাহ্দের উদ্দেশ্যে ঘোষনা করেন, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি, আর তোমাদের কৃত অতীত পাপকে পুণ্যে পরিণত করে দিয়েছি।
ঈদ সকলের মাঝে আনন্দ বিতরণের ঐশী বাণীরুপে মুসলমানের জীবনে ফিরে আসে, বস্তুগত জাগতিক প্রাচুর্য, ঐশ্বর্য ও ধন- সম্পদের মোহ থেকে যথা সম্ভব মুক্ত রেখে মানুষের অন্তরকে বিকশিত, নির্মল ঈদ উৎসবের মাহাত্ম্য। ঈদ মানুষের মধ্যে ইসলামের সাম্য ও মৈত্রীর বন্ধন সৃষ্টি করে। ধনী- দরিদ্র - আমির - ফকির, সাদা কালো, উঁচু নীচু সব শ্রেণীর মানুষ মিলে একই আনন্দ - অনুভবে, একই খুশির জোয়ারে মহা ঐক্যের মিলন মোহনায় এসে সম্মিলিত হওয়ার এক অনন্য ব্যবস্থা। ঈদের দিনে ' ঈদ মোবারক আসসালাম ' অভিবাদনে মশগুল হয় সবাই। কিন্তু এই সাদর অভিবাদন যাতে গতানুগতিক ও নিছক নিষ্প্রাণ অভিবাদনে পর্যবসিত না হয় অন্তরের বক্রতাকে জিইয়ে রেখে পরস্পরের ভেদাভেদ, অবমাননা ভুলে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রকাশের ঈদের মর্মবাণী যাতে হারিয়ে না যায়, সেদিকে লক্ষ্য করা বাঞ্ছনীয়। ঈদের দিন দাবি করে, জাতি - বর্ণ, দলমত নির্বিশেষে পরস্পরকে ভাই - বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা।
সারাবিশ্ব সর্বপ্রকার লোভ- লালসা, হিংসা - বিরোধ ও হানাহানি মুক্ত হোক। দেশে - বিদেশে সন্ত্রাস জাঙ্গিবাদের বিভীষিকার অবসান হোক। পৃথিবীতে মানবতার ঐক্য - ভ্রাতৃত্ব, শান্তি - সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বন্ধন দৃঢ়তর হোক। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায়, ' পথে পথে আজ হাঁকিব, বন্ধু ঈদ মোবারক আসসালাম।'
---------
লেখক - পেশায় শিক্ষক। কবি, প্রাবন্ধিক।
