Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার সাপ্তাহিক কলম সম্মাননা

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার
সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা - 09
বিভাগ - অণুগল্প
বিষয় - পরিবার
শিরোনাম - জগনবাবুর পরিবার
কলমে - উত্তম চক্রবর্ত্তী
13.05.2020

সবাই অপেক্ষা করছে। রাস্তার দিকে চেয়ে আছেন জগনবাবু। এখনো তো "বৈকুণ্ঠ বাহন&quo…


অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার
সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা - 09
বিভাগ - অণুগল্প
বিষয় - পরিবার
শিরোনাম - জগনবাবুর পরিবার
কলমে - উত্তম চক্রবর্ত্তী
13.05.2020

সবাই অপেক্ষা করছে। রাস্তার দিকে চেয়ে আছেন জগনবাবু। এখনো তো "বৈকুণ্ঠ বাহন" গাড়ী টা এল না। ভিতরে ভিতরে জগন বাবু ভাঙছেন। বেশ টের পাচ্ছেন। কিন্তু প্রকাশ করছেন না। কতদিন পর মা বাড়ী আসছেন ।সেই কবেই বাবা মারা যাওয়ার পর মা বাড়ী ছাড়া। তাও দেখতে দেখতে প্রায় আট বছর পেরিয়ে গেছে।
কত কথা মনে পড়ে। আজ অতীতের দিকে তাকিয়ে থাকেন জগনবাবু। জগনবাবুর বাবা ছিলেন সরকারী চাকুরে ।রিটায়ার করার এক বছর আগেই হঠাৎ স্টোকে মারা যান। জগনবাবুর জীবনে শূন্যতা নেমে আসে। বাবা ছাড়া জীবন কল্পনা করতে পারেন নি। অথচ সময়ের প্রবাহে কেমন যেন মনে হয় ফাঁকা জায়গা টা ভরাট হয়ে গেল। পিতার মৃত্যু তে জগনবাবু চাকরী পেলেন। একবছর পরেই মা দেখেশুনে বিয়ে দিলেন। বললেন ভালো বংশের শিক্ষিত মেয়ে। বিচার বুদ্ধি থাকবে।
                   রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকেন জগনবাবু। যতদূর দৃষ্টি যায়, তাকিয়ে থাকেন। সামনের দিকে চোখ দুটো থাকলেও জগনবাবুর মন ছুটে যায় অতীতে।
বিয়ে করার দুবছর পর জগনবাবু টের পেলেন জীবন যন্ত্রনা কাকে বলে। মা একদিন রাত্রে বললেন, বাবু কাল তো রবিবার। আমি হাওড়ার কাছে একটা বৃদ্ধাশ্রমে যোগাযোগ করেছিলাম। কাল ওদের গাড়ী পাঠাবে। আমি তোকে আগে বলিনি। যেতে দিবি না বলে ।তুই ও বৌমা ভালো থাকিস। মন চাইলে যোগাযোগ রাখিস। বলেই শাড়ীর খুঁটে চোখ মুছলেন।।
মা কে জগনবাবু আটকে রাখতে পারেন নি। পরে জেনেছেন, মায়ের সাথে স্ত্রী ভাল ব্যবহার করতো না। মাঝে মাঝে মা অভিযোগ করলেও জগনবাবু স্ত্রী কে চটাতে চাইতেন না। মাও ধীরে ধীরে আস্থা হারাতে থাকেন।
একদিন মায়ের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল ।জগনবাবুর অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী মায়ের সাথে চরম অশান্তি করলে, জগনবাবু বাড়ি এলে অশান্তির কথা ঘুনাক্ষরেও বললেন না। ভিতরে ভিতরে হাওড়ার বিবেকানন্দ বৃদ্ধাশ্রমে যোগাযোগ করে চলে গেলেন। জগনবাবু তখন বৌকে বলেছিলেন, কি এমন হলো, যে মা তার সাজানো সংসার ছেড়েচলে গেলেন?  সর্বোপরি পেনশনের টাকাটাও তো হাত ছাড়া হয়ে গেল।
জগনবাবুর স্ত্রী ঝাঁঝালো সুরে বলল, তোমাদের মা-ছেলেকে বোঝা ভার। ক্ষুরে ক্ষুরে দন্ডবত। তোমার মা যে এত ঝগড়ুটে, তা তুমি জানো না? বাড়ী ছেড়েছে, অন্তত পক্ষে আমি বেঁচেছি। খবরদার বলছি, ঐ মহিলার সাথে যোগাযোগ রাখার চেষ্টাও করবে না। জগনবাবুর শিরদাড়াটা চিনচিন করে উঠল। স্ত্রী কে চটানোর সাহস পেলেন না।
                  বৈকুণ্ঠ বাহনের আওয়াজে জগনবাবুর সম্বিত ফিরে এল। মাকে নামানো হল। জগনবাবুর অন্তরটা মুচড়ে উঠছে। ফেসবুকে ফেসবুকে সবাই ঘটা করে তাদের মায়ের ছবি দিয়ে আজ মাতৃদিবস পালন করছে। কত বড় বড় ঈর্ষা হওয়ার মত কথা লিখছে। জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী।
                উঠোনে তুলসীমঞ্চের নিকটে মায়ের মরদেহ নামানো হল। জগনবাবু ফুলের মালা হাতে এগিয়ে এলেন। বিয়ের পর কোনদিন মায়ের যত্ন নিতে পারেননি, স্ত্রীর ভয়ে। আজ মাতৃদিবসে মায়ের মরদেহের কাছে এসে মনে মনে বললেন, আমাকে ক্ষমা করো মা। আজ আমি সত্যিই বড় একা হয়ে গেলাম।
মায়ের মরদেহে মালা পরিয়ে দিয়ে মায়ের বুকে মাথা রেখে জগনবাবু ঝরঝর করে কেঁদে ফেললেন।