Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

ক্যাসিওপিয়া সাহিত্য পত্রিকার দৈনিক সেরা সম্মাননা

আজকাল নারী মনে বাৎসল্য আছে কিন্ত সেটা কেন জানিনা শুধু নিজের সন্তানের জন্য৷ নিজের বাচ্চার  লাগলো কিনা? কি করবে? কি হবে? ইঁদুর দৌড়ে, দৌড় করাও ৷ পরের সন্তানের প্রতি মায়াদয়া কম৷ জানি সবাই সমান না৷ আমার লেখাটা তাদের জন্য নয়৷ আর হ্যাঁ…


আজকাল নারী মনে বাৎসল্য আছে কিন্ত সেটা কেন জানিনা শুধু নিজের সন্তানের জন্য৷ নিজের বাচ্চার  লাগলো কিনা? কি করবে? কি হবে? ইঁদুর দৌড়ে, দৌড় করাও ৷ পরের সন্তানের প্রতি মায়াদয়া কম৷ জানি সবাই সমান না৷ আমার লেখাটা তাদের জন্য নয়৷ আর হ্যাঁ আমি উন্নতি করা, পড়াশুনা করতে বাইরে যাওয়া এসবের বিরুদ্ধে নই আমি গল্পটিতে বলতে চেয়েছি, সবকিছুর প্রয়োজন আছে শিশুদের৷ ঠাকুমা ঠাকুর্দার নীতিকথা, মানবিকতার পাঠ৷ সমাজে সবাই কে নিয়ে চলা৷ সবকিছু ৷ ধন্যবাদ৷

বালাই ষাট
নবনীতা সই
31,5,20

স্কুল থেকে বাবান কে আনার পথে রমিতা আম, লিচু আর কিছুটা বেদানা কিনে নেয়৷ মিষ্টি ঘরে আছে৷ কাল স্কুল ছুটি কিন্ত আঁকা আর ক্যারাটের ক্লাস৷ জীবনে নিজের জন্য এতটুকু সময় নেই রমিতার৷ বাসব ও প্রাইভেট ফার্মে আছে৷ রাত বিরাত কাজ৷ দুজনে মিলে বাবান কে বড় করার সংকল্প নিয়েছে ৷ নিজেদের চাওয়া পাওয়া গুলো ছেঁটে ফেলেছে৷ বছরে একবার বাসব ঘুরতে নিয়ে যায়৷ সেকটা দিন রমিতা আর বাসবের ছুটি৷ পনেরদিন শান্তি৷ বাকি দিন গুলো দৌড়াতে থাকে দুজনে৷ ছেলের টিউশন, স্কুল, বডি ফিটনেস কতকিছু ৷ দশটা না পাঁচটা না একটা ছেলে৷ বাসব ও খুব প্র্যাকটিক্যাল নিজের মফঃস্বলের বাড়ি ছেড়ে কোলকাতা চলে এসেছে৷ ছেলের পড়াশুনা তো করাতে হবে৷ ছেলেটাও ঠাকুমার যতসব বানানো গল্প শুনে বিগড়ে যাচ্ছিলো৷ আর ঠাকুর্দা তো এককাঠি উপরে৷ মানুষের সেবা করবে, দেশের কাজে লাগবে৷ সবাই কে নিয়ে চলবে৷ যতসব বস্তাপচা নীতিকথা৷
আমিও বলেছিলাম , ওসব শেখালে ছেলে সমাজসেবা করবে আর কিছু হবেনা৷
শাশুড়ি তো বলেই দিলেন বালাই ষাট৷ যেন আমি ছেলেকে কি খারাপ বললাম৷
 আজকাল ঐসব করলে আর নিজের কিছু হবেনা৷ আগে তো টিফিন অর্ধেক বন্ধুদের পেটে যেতো৷ এখানে বড় স্কুল৷ হাভাতে কেউ নেই ৷ আর রমিতা তো বলেই দিয়েছে যারা স্ট্যান্ড করে শুধু তাদের সাথে মিশবে৷ কমকিছু করতে হয় রমিতা কে৷ সে সব বন্ধুদের মায়েদের সাথে দেঁতো হাসি দিয়ে কথা বলতে হয়৷ জন্মদিনে ভালো গিফট পাঠাতে হয়৷ এখন বাবান বুঝে গেছে৷ কত ভালো রেজাল্ট করে৷
ফল আর খাবার গুলো নিয়ে রমিতা চলে আসে৷ বাড়ি ৷ বাবান কে খাইয়ে আবার বেড়োবে৷

কুড়ি বছর পর৷
বাবান আজও তোর কাজ?
কেন কি হলো আজ?
না কিছু না৷ কিছু খাবার রেখেছি আজ কোনো অনাথ আশ্রমে..
তোমার মাথা গেছে? টাকা ইনকাম করতে কষ্ট হয়৷ ফালতু খরচ করবার জন্য হয়৷ আর করতে হলে ফেসবুকের থেকে রিনি করে দেবে৷
হ্যাঁ বাবান তুমি চিন্তা কোরোনা৷ দুদিন পরই তো ফাদার্স ডে আছে৷ ভালোবাসা বৃদ্ধাশ্রমে যাবো আমরা গ্রুপ থেকে৷
হ্যাঁ সেটাই ভালো ৫০০ টাকা চাঁদা দাও , হাজার কমেন্ট পাও৷ আরও অনেক সুবিধা হয়৷ তুমি কিন্তু আমার আনা আফ্রিকা থেকে যে  ব্লু ডায়মন্ডের লকেট টা আছে সেটা পড়ে যাবে৷ আর হ্যাঁ একটা ভালো সিল্ক নিয়ে নিও অনলাইনে ৷
ডোন্ট ওয়ারি হানি৷ আমি সব করে নেবো৷ পাপানের স্কুলের মিটে যাবো তো৷ সেখানে ছবিগুলো দেখাবো সবাই কে৷ সবাই কেমন ট্যারা হয়ে যায় দেখো৷
হুম৷ আর হ্যাঁ যাচ্ছো যখন আশ্রমের সব ডিটেলস নিয়ে আসবে৷ আমরা সামনের বছর ইউ এস গেলে মা কে তো রেখে আসতে হবে৷
সে তোমাকে ভাবতে হবেনা৷ মা তো জানেন আমরা পাপানের পড়াশুনার ভালোর জন্য বাইরে যাবো৷
রনিতা চুপ করে চলে যায় নিজের রুমে৷ আজ বাসবের মৃত্যুবার্ষিকী৷ বাবান লোকাচার তো মানেনা, আর মানবে কেন? বাসবের বাবা মারা গেলে রমিতা তো বাবান কে কিছু মানতে দেয়নি৷ তখন বাবানের সামনে মাধ্যমিক ছিলো৷ তাই অনাথ আশ্রমে কিছু টাকা, খাবার রনিতা দিয়ে আসে৷ আজ শরীরটা খুব খারাপ তাই যদি বাবান যেতো৷ থাক পরে দিয়ে আসবে৷
হয়ত বাবার মৃত্যু বার্ষিকী বাবানের মনে নেই ৷ রমিতাই তো সারাজীবন বাবান কে শিখিয়েছে নিজের কথা ভাবতে৷ বাস্তব আসল বাকি সব অপ্রয়োজন৷ আজ পাপান পড়তে যাবে বিদেশে , যেমন রমিতা বাবান কে নিয়ে এসেছিলো৷ সব তো সময়ের পুনরাবৃত্তি৷ তবু কেন মনে কষ্ট ? আচ্ছা বাসবের মায়েরও এমন কষ্ট হয়েছিলো ? বাসবের মা বলেছিলেন মায়ের মনে কষ্ট দিলে ছেলে হয়ত মানুষ হয় কিন্ত শান্তি পায়না৷ তাহলে বাবান?? না না সুখে থাক বাবান বালাই ষাট !!