Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

ক্যাসিওপিয়া সাহিত্য পত্রিকা দৈনিক সেরা সম্মাননা

মুখোশের অন্তরালে
নবনীতা সই 5,6,20
পর্ব- ১
ধারাবাহিক উপন্যাস
সম্পূর্ণ প্রাপ্ত মনস্কদের জন্য৷
(গল্পের নাম জায়গা সব কাল্পনিক)

সকাল থেকে ব্যাস্ততা৷ আজ বিশেষ দিন৷ মিসেস কাবেরী স্যানাল কে আজ আনুষ্ঠানিক ভাবে সরকার থেকে সম্মানপত্র আর পদ…


মুখোশের অন্তরালে
নবনীতা সই 5,6,20
পর্ব- ১
ধারাবাহিক উপন্যাস
সম্পূর্ণ প্রাপ্ত মনস্কদের জন্য৷
(গল্পের নাম জায়গা সব কাল্পনিক)

সকাল থেকে ব্যাস্ততা৷ আজ বিশেষ দিন৷ মিসেস কাবেরী স্যানাল কে আজ আনুষ্ঠানিক ভাবে সরকার থেকে সম্মানপত্র আর পদক দেওয়া হবে সেরা বাঙালীর মঞ্চে, তার সমাজ সেবার জন্য৷
 ভোরবেলা কিছুটা মেডিটেশন করে কাবেরী দেবী চলে গেছেন পার্লারে৷ বডি স্পা করে, রেডি হয়ে সোজা অনুষ্ঠানে চলে যাবেন৷ সারা বাড়ি আজ সাজ সাজ রব৷
মিস্টার স্যানাল কে সকাল থেকে দেখা যাচ্ছে না৷ তাতে কিছু অবশ্য যায় আসেনা৷ কাবেরী দেবী নিজেই একা একশো৷ মেয়ে ঐন্দ্রিলা মায়ের সাথে সাথে সবসময় আছে৷ আজ সে মায়ের বক্তৃতা কি হবে সেই নিয়ে মিস্টার প্রদীপ লাহিড়ির সাথে আলোচনায় ব্যাস্ত৷
এই বাড়িটার নাম শান্তিকুঞ্জ৷ কোলকাতার শহরতলিতে এমন হাত পা ছড়ানো সুন্দর বাংলো সবার ঈর্শনীয় অবশ্যই ৷ ছটি বেডরুমের এই বাংলোয় কাবেরী দেবী , তার মেয়ে ঐনা আর মিস্টার স্যানাল থাকেন৷মিস্টার স্যানালের নাম কেউ জানেনা, মনে হয়না কেউ জানতে চায়৷ তার একমাত্র পরিচয় তিনি বিখ্যাত সমাজসেবী , সুন্দরী, ললনাময়ী কাবেরী দেবীর স্বামী৷ বস্তুতঃ তিনি কি করেন, আদেও করেন কিনা তা নিয়ে কারোর মাথা ব্যাথা নেই ৷
আজ কাবেরী দেবীর জীবনের বিশেষ দিন৷ কানাঘুষো আছে আজ স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী তার সাথে রাজনৈতিক কিছু আলোচনা করবেন৷আশা এবছরের একটি সিট তার জন্য বরাদ্দ হতে পারে৷
অনেক নেতা মন্ত্রী যদিও কাবেরী দেবীর বন্ধু ও প্রেমপার্থী তবুও নিজেকে মন্ত্রীর আসনে কে না দেখতে চায়৷ আগেরবার বলা হয়েছিলো তাকে বিধায়ক হবার জন্য ভোটে দাঁড়াতে তিনি রাজী হননি৷ এবার সরাসরি মন্ত্রীর পদের জন্য তাকে মনোনীত করার কথা শোনা যাচ্ছে ৷
কাবেরী দেবীর সহায়ক প্রদীপ লাহিড়ি হলেও তার পার্সোনাল এ্যাসিট্যান্ট মায়া৷ যে তার দিনরাতের সকল কিছু দেখাশুনা করে৷
আজ মায়ার দম ফেলার সময় নেই ৷ মায়ার একমাত্র ছেলে সুজয় ও ব্যাস্ত৷ আশা কাবেরী দেবী মন্ত্রী হলে তার কপাল ও খুলে যাবে৷ সুজয় ঝকঝকে স্মার্ট আর সুদর্শন যুবক৷ কাবেরী দেবীর এন জিও "মেয়েদের অধিকার " সে সামলায়৷ যদিও সবকিছুর শেষ কথা কাবেরী দেবীর তবুও সুজয় পুরোটাই দেখাশোনা আর খাতাপত্র মেনটেন করে৷
আজ অনুষ্ঠান টি হবে নন্দনে ৷ কাবেরী দেবীর মা , বোনের পরিবার আর অসংখ্য ভক্ত , ফেসবুকের বান্ধবী সবাই চাতকের মতন চেয়ে আছে আজকের অনুষ্ঠানের জন্য৷ অনুষ্ঠান শেষে , বৈঠক তারপর রাতে মুখ্যমন্ত্রী প্রেস কনফারেন্স ডেকেছেন৷ হয়ত সেখানেই ঘোষনা হবে কাবেরী দেবীর নাম ৷ এমন প্রতিভাময়ী ব্যক্তিত্ব কে যারা কাছ থেকে দেখতে পাবেন না তারা টিভার পর্দায় চোখ রেখেছেন৷ কাবেরী দেবীর ফেসবুক পেজে মিনিটে কয়েক শো মেসেজ আসছে৷ শুভেচ্ছা, অভিনন্দন৷ তিন আবার কবিও বটে৷ তার গুনমুগ্ধ পাঠকেরা তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন৷ যদিও তিনি পোষ্ট করার সময় পাননা সেটা মায়া করে আর রাতে মোটামুটি গড়পরতা ধন্যবাদ দিয়ে দেয়৷

আসুন আগে মায়ার কথা জানি৷
মায়া বোস৷ ব্যান্ডেলের এই গৃহবধূ ৷ কাবেরী দেবীর কাছে এসেছিলো দুবছরের বাচ্ছা শান্তাকে কোলে  আর পেটে সুজয় কে নিয়ে ৷ স্বামী সামান্য চাকুরে৷ তার প্রথম সন্তান  শান্তার এক বছর বয়সে হার্টের সমস্যা ধরা পড়ে , বছর খানেক চিকিৎসা করিয়ে সৌরেন পরিস্কার বলে দেয় সে পারবে না আর চিকিৎসা করাতে৷ মায়া কার থেকে শুনে কাবেরী দেবীর কাছে এসেছিলো৷ একটা অপারেশন করিয়েও শান্তা কে বাঁচানো যায়না৷  মায়া পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলো তখন৷
সৌরেন বাবুকে অনেক বুঝিয়েও তিনি আর মায়া কে ঘরে নেননি৷  ততদিনে সৌরেন বাবু আবার অন্য রমনীতে মনযোগ করেছেন৷ মায়া রয়ে যায় কাবেরী দেবীর কাছে৷ অবশ্য ছেলে হবার পর সৌরেন এসেছিলেন ছেলে কে দেখতে৷ মনে অনেক দ্বিধা নিয়ে যে ছেলেটি তার কি অন্য কারোর৷ মায়া তাকে কোনো উত্তর দেয়নি , ফিরিয়ে দিয়েছিলো ৷
মায়া সেই থেকে কাবেরী দেবীর কাছে রয়ে গেছে৷

রান্নার লোক , কাজের লোক দুজন আছে৷ কেশরীলাল দারোয়ান৷ মোট এই চারজনের উপর বাড়ির ভার৷
মায়া আজ সাথে যাবেনা কাবেরী দেবীর ৷ কারন রাতে পার্টি আছে তার সব দায়িত্ব তার৷ সুজয় রেডি ঐনা রেডি হলেই বেরোবে৷

ঐদিক টায় আর আলো দাও ৷ সবে ফাল্গুন মাস এখনিই হালকা গরমের ভাব আছে৷ পুরো পার্টিটা বাগানে হবে৷ টেবিল চেয়ার আর সাজসজ্জায় মায়া ব্যাস্ত৷ আরে আরও দুটো টেবিল দাও ৷
আপনি চিন্তা করবেন না মেডাম, আমরা সব ঠিক করে নেবো৷
আর হ্যাঁ বার টা ওদিকে হবে৷
আমি ব্লু প্রিন্ট দেখেই করবো৷
ওকে তাহলে আমি কিন্তু অন্য কাজে গেলাম৷ সমস্যা হলে ফোন করবেন৷
অবশ্যই মেডাম৷
আঁচলে মুখটা মুছে মায়া ঘরে চলে যায়৷
 আহ! আগে স্নান করবো৷ তারপর খেয়ে আবার কাজ৷
হ্যালো দিদি?
হ্যাঁ বলো মায়া৷
মোটামুটি কাজ শুরু হয়ে গেছে৷ আমি ক্যাটারিং কে ফোন করে রিমাইন্ডার দিয়ে দিয়েছি ৷ তোমার আর কতক্ষন লাগবে??
আমি প্রায় রেডি৷ সোজা চলে যাবো নন্দনে৷ আর আমাকে ফোন করতে হবেনা৷
কিন্তু মেনুটা?
সব তুমি দেখে নাও ৷ আমি রাতে জয়েন করবো৷
আচ্ছা ৷ সাতটা টাইম৷
হ্যাঁ পাঁচটায় কনফারেন্স শুরু হবে৷ আমি আটটার মধ্যে পৌছে যাবো৷
আচ্ছা ৷
ঐনা কি বেরিয়েছে?
রেডি , তোমার পিচ নিয়ে যাচ্ছে৷
ওকে৷
ফোনটা রেখে শাওয়ার খুলে ভিজতে থাকে মায়া৷ এই জীবনে কাবেরী দিদি তার  জীবনের সাফর্ল্য না দূর্ভাগ্য বুঝতে পারেনা মায়া ৷ কিন্ত কৃতজ্ঞ কাবেরীর কাছে৷

সুজয় বসে আছে কখন ঐনা রেডি হবে৷ আজ খুব মানসিক চাপে আছে৷
চলো৷
হ্যাঁ চলো৷ খুব সুন্দর লাগছে কিন্তু ৷
কোনদিন খারাপ লাগে ?
কোনদিন না৷ তোমাকে কোনদিন খারাপ লাগতে পারে?
ন্যাকামো রাখ ৷ আমার তো জানিস ন্যকামো ভালো লাগেনা৷
জানি৷ তোমার কি ভালো লাগে ঐনা?
মানি৷ আছে তোর?
নেই তবে হবে৷
ঐসব হবে যদির কথা নদীতে৷ চল দেরী হয়ে যাবে৷
চলো৷

আমি সুজয়৷ জন্মের পর থেকে বাবা কে দেখিনি৷ ছোটো থেকে মায়ের কাছে মানুষ ৷ ছোটোবেলায় বাবাকে হারিয়েছি৷ মা বলেন বাবা বেঁচে নেই ৷ কাবেরী স্যানাল কে ছোটো থেকে দেখছি৷ ছোটোবেলায় একবার মাসি বলেছিলাম , খুব মার খেয়েছিলাম ৷ কাবেরী স্যানাল কে ম্যাম বলতে হবে মা বুঝিয়ে দিয়েছিলো৷ আমি যখন মাধ্যমিক দেবো তখন আমাদের ছোট্ট ভাড়াবাড়ি ছেড়ে আমি আর মা শান্তি কুঞ্জে আসি৷ জীবনের সেরা সময় আমার৷আজ ও মনে আছে....

এ্যাই সুজয় বাক্সটা তোল ভালো