||বিশ্ব পরিবেশ দিবস||
|| বিষয় :ছোট গল্প ||
|| লেখক : চন্দন চক্রবর্তী ||
|| তারিখ : 05.06.2020||
মাস কয়েক আগে একদিন পুল কারে স্কুলে যেতে যেতে সোম ব্যাপারটা দেখে অবাক হয়ে গেল ! ওদের গ্রামের বড় রাস্তার ধারের বিশাল একটা গাছ কেউ কেট…
||বিশ্ব পরিবেশ দিবস||
|| বিষয় :ছোট গল্প ||
|| লেখক : চন্দন চক্রবর্তী ||
|| তারিখ : 05.06.2020||
মাস কয়েক আগে একদিন পুল কারে স্কুলে যেতে যেতে সোম ব্যাপারটা দেখে অবাক হয়ে গেল ! ওদের গ্রামের বড় রাস্তার ধারের বিশাল একটা গাছ কেউ কেটে ফেলেছে ! না একটা নয় ! পরের দিন,তারপরের দিন,রোজ গাছগুলো কারা কাটছে ? ওদের কি মায়া দয়া নেই । ইস রাস্তাটাকে আজকাল কি বিচ্ছিরি লাগে ! যেন মাথার চুলগুলো কেউ উপড়ে ফেলছে ।
এত দিন তাও সহ্য করা গেছে । কিন্তু আজকে যখন নাম না জানা ফুল গাছটাকে কাটছে,দেখেই সোমের চোখে জল এসে গেল । এই গাছটায় একটা হলুদ পাখির বাসা আছে । আসতে যেতে সোম দেখেছে মুখে পোকা নিয়ে পাখিটাকে ওর বাসায় যেতে । নিশ্চয়ই বাচ্চা আছে ! ওগুলোতো মারা যাবে !ড্রাইভার কাকু বলছিল রাস্তা নাকি চওড়া করছে !
সে যাই হোক,তবুওতো আমাদের কিছু সুবিধা হবে । কিন্তু গাছগুলো যে কাটা পরলো,পাখিগুলো যে মরলো তার বেলা !
দিন কয়েক আগে পরিবেশ বিদ্যার ক্লাসে স্যার 'পরিবেশ বান্ধব' শব্দটার মানে বোঝাচ্ছিলেন । পরিশেষে এটাও বলেছিলেন মানুষের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে কি ভাবে আমরা প্রকৃতিকে ধ্বংস করে চলেছি । এর থেকে মুক্তির শ্রেষ্ঠ উপায় গাছ লাগানো । কথাটা সোমের মনে ধরেছে ।
ওইদিন বিকেলে ওরা বন্ধুরা মিলে এটা নিয়ে আলোচনা করেছে । ছুটির দিন বাড়ি বাড়ি চাঁদা তুলেছে । বড়রাও এতে মদত জুগিয়েছে । অনন্তকাকু ওদের পঞ্চায়েত অফিস থেকে চারা এনে দেবেন বলেছেন ।
সোমরা প্রথমে ঠিক করেছিল গ্রামের বড় রাস্তার দুদিকে গাছ লাগবে । ব্যাপারটা ওখানেই থেমে থাকে নি । সোমদের আগ্রহে সাড়া দিয়ে বড়রা পাড়ার ক্লাবে মিটিং ডেকেছে । তাতে সোমদেরও ডাকা হয়েছে । ওদের কি যে আনন্দ । এই প্রথম ওরা ক্লাবের মিটিংয়ে ডাক পেয়েছে ।
সেদিনের মিটিংয়ে যা যা সাব্যস্ত হয়েছিল সবই হয়েছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবসে উপলক্ষে । সকাল বেলা সাতটা থেকে বৃক্ষ রোপন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল । ওদের গ্রামের বড় রাস্তার ধারে ওরা একশ বড় প্রজাতির গাছ লাগিয়েছে । প্রথম চারাটা বড়রা সোমকে লাগাতে বলেছিল । সোম সঙ্গে সঙ্গে সেই ফুল গাছের একটা চারা বেছে নিয়েছিল । চারাটা লাগাতেই সবাই খুব হাত তালি দিয়েছিল ।
ওইদিন দুপুরে ওদের ক্লাবে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন ছিল । সেখানেও সবাই মিলে খুব আনন্দ করেছে । বিকেলে চারটের সময় ক্লাব প্রাঙ্গনে সবাই জমায়েত হলে ওরা সারা গ্রাম ঘুরে প্লাস্টিক কুড়িয়ে আগুনে পুড়িয়েছে । গ্রামকে একটা সর্বাঙ্গীন সুস্থ পরিবেশ দেবার চেষ্টা সবার মধ্যেই ছিল ।
ওইদিন সন্ধ্যায় একটু জলসার আয়োজন করা হয়েছিল । স্থানীয় বিডিও সাহেব এসেছিলেন । তিনি পরিবেশ নিয়ে কিছু বক্তব্য রেখেছিলেন । স্কুলের হেড মাস্টার মহাশয় কিছু বলেছিলেন,ছাত্রদের ভূমিকা নিয়ে সোমদের খুব প্রশংসা করেছিলেন ।
হঠাৎ মাইকে সোমকে মঞ্চে ডাকা হচ্ছে শুনে প্রথমটা সোম অবাক হয়েছিল ! দ্বিতীয় বার ডাকায় সোমকে মঞ্চে উঠতে হল । বিডিও সাহেব সোমকে একটা বই উপহার দিলেন । হাতটা বাড়িয়ে ওকে করমর্দন করলেন ! তারপরেই জড়িয়ে ধরলেন ।
সোমের দিনটা যে কি আনন্দে কেটেছিল তা আর বলার নয় ! এত কিছুর মধ্যেও কিন্তু বইটা না দেখা পর্যন্ত ওর শান্তি হচ্ছিল না ।
বাড়ি এসেই তাড়াতাড়ি মোড়কটা খুলেই সোম যেন হাতে স্বর্গ পেল ! বিভূতি ভূষণের 'চাঁদের পাহাড়' বইটা ওর নিজের !
