Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার সাপ্তাহিক কলম সম্মাননা

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার
প্রতিযোগিতা -১১
বিভাগ - গল্প
শিরোনাম - নিয়ম বদল
কলমে- পারমিতা চ্যাটার্জী
বিষয় - জামাইষষ্ঠী
তারিখ -২৯/০৫/২০

আজ জামাই ষষ্ঠী। অনুভার  মেয়ে শ্রেয়া।
সবে আটমাস হলো বিয়ে হয়েছে, প্রথম জামাইষষ্ঠী।
স্বামী অভয় এ…


অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার
প্রতিযোগিতা -১১
বিভাগ - গল্প
শিরোনাম - নিয়ম বদল
কলমে- পারমিতা চ্যাটার্জী
বিষয় - জামাইষষ্ঠী
তারিখ -২৯/০৫/২০

আজ জামাই ষষ্ঠী। অনুভার  মেয়ে শ্রেয়া।
সবে আটমাস হলো বিয়ে হয়েছে, প্রথম জামাইষষ্ঠী।
স্বামী অভয় এসে দাঁড়িয়ে বললো, রান্না কি হয়ে এসেছে?
অনুভার  স্বামীর দিকে এককাপ চা এগিয়ে দিয়ে বললো হয়ে এসেছে।
আমাকেও যেতে হবে, বোনেদের আনতে,
অনুভা ঝাঁঝিয়ে উঠে বললো,হ্যাঁ তা যাওনা, , সাতাশ বছর বিয়ে হয়েছে, সে বছরই মা চলে গেলেন, সেই সাতাশ বছর ধরে তোমার বোনেদের খাইয়ে আসছি,  সবাইকে কাপড়চোপড় দিয়ে আসছি। জীবনে আমি কখনও  মায়ের কাছে যেতে পারিনি, তুমি বলতে পাগল না কি!   মা দাদার হাত দিয়ে চিরকাল জামাকাপড় ফল মিষ্টি, মাছ দই সব পাঠিয়ে দিতেন।
আমি মাকে একটা শাড়ি কিনে দিতে পারিনি।
আজ মনে হলো অনেক ভুল থেকে গেছে, নিজের স্ত্রী কে বড়ো বেশি অবহেলা করে ফেলেছেন, আজ সে হার্টের পেশেন্ট। স্টেন বসেছে দুমাস মাত্র।  তার নতুন জামাই বললো, মাত্র দুমাস হলো মায়ের হার্টে স্টেন বসেছে,আমরা সবাই বাইরে গিয়ে একসাথে খেতে পারতাম।   আমার দুই বোন আসছে, আমি তো তেরো পার্বণে সবার খাওয়ার ব্যাবস্থা করে দিয়েছি যাতে মায়ের পরিশ্রম না হয়।
, শ্রেয়ার আসতে কোনো অসুবিধা হবে না তো?
কেনো হবে? তারা যেমন বাপের বাড়ি আসছে তেমনই আমার স্ত্রীও যাবে।
অভয়ের বোন ভগ্নিপতি রা এলো, হাতে একটা করে ছোটো মিষ্টির বাক্স নিয়ে, এসেই বউদি চা দাও বলে হাঁক পারলো। শ্রেয়া আর জামাই উদয়ন আগেই এসে গেছে,  বাবা আর মায়ের  জন্য ধুতি শাড়ি, মিষ্টি দই সব পাঠিয়ে দিয়েছেন।
শ্রেয়া চা করতে রান্নাঘরে ঢুকলো,উদয়ন শাশুড়ীকে বললো একদম চুপ করে বস, দুমাস আগেই তোমার অপারেশন হয়েছে, চা  আমরা করে নিতে পারবো। আর একটা কথা আমি বলে দিচ্ছি,  সামনের বার থেকে আমরা সবাই বাইরে গিয়ে খাবো। খাওয়ানোর দায়িত্ব আমার।
তমাল বললো শুধু তুমি কেনো!  আমিও তো আছি।
তোমাকে এ বছরের মধ্যে ছাদনা তলায় দাঁড় করাচ্ছি, সামনের বার তোমাকে বউদিকে নিয়ে তার বাপের বাড়িতে যেতে হবে, সেখানে তুমি খাইয়ো, এবার থেকে নিয়মটা বদলে ফেলতে হবে জামাইরা শ্বশুর বাড়ির লোকেদের খাওয়াবে।
অনুভার মুখটা উজ্জ্বল হয়ে উঠলো, শ্রেয়া তোর পছন্দ করা ছেলে যে রত্ন রে, আমাদের সময় যদি এ নিয়ম থাকতো তবে আমি একবার অন্তত জামাইষষ্ঠী তে বাপের বাড়ি যেতে পারতাম।
অভয়ের মুখটা কালো হয়ে গেলো, আর ননদরা বললো, বউদি অনেক বদলে গেছে।

     🌹🌹সেরা🌹🌹