সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব ১
বিষয় - জামাইষষ্ঠী
বিভাগ - গল্প
তারিখ -২৭|৫|২০
জামাইষষ্ঠী
সাইদীপা বসু
হাওড়ার আমতার কাছে ছোটো একটা গ্রাম গঙ্গারামপুর ।স্থানীয় একটি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক মুক্তারাম বাবু।গত
ফাগুনে মেয়ের বিয়ে দিয়েছে…
সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব ১
বিষয় - জামাইষষ্ঠী
বিভাগ - গল্প
তারিখ -২৭|৫|২০
জামাইষষ্ঠী
সাইদীপা বসু
হাওড়ার আমতার কাছে ছোটো একটা গ্রাম গঙ্গারামপুর ।স্থানীয় একটি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক মুক্তারাম বাবু।গত
ফাগুনে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন।জামাই সরকারি অফিসে চাকরি করে, কলকাতায় থাকে ।
প্রথম বছর জামাইষষ্ঠী, মুক্তারামবাবুর খুব ইচ্ছে ঘটা করে ষষ্ঠী পালন করবেন ।নিজে গিয়ে জামাইকে নেমন্তন্ন করে এসেছেন ।নিশিপদ্ম , মুক্তারামবাবুর মেয়ে অনেক দিন বাপের বাড়ি আসতে পারেনি, তাই নিশিকে সাথে নিয়ে গঙ্গারামপুরে ফিরলেন ।
ষষ্ঠীর দুদিন আগে থেকেই জ্যৈষ্ঠ মাসে প্রবল বৃষ্টি, নিম্নচাপের। জামাই শুভ্রকান্তি , বউএর ফরমাস মত একখানা ইলিশ মাছ আর একখান মাঝারি সাইজের কাঁঠাল নিয়ে ষষ্ঠীর দিন সকাল সকাল শ্বশুর বাড়ি যাত্রা করলে।বৃষ্টি থামার কোনো লক্ষণ নেই । বাস থেকে নেমে প্রায় কুড়ি মিনিটের পথ রিকশায়।অবিশ্রান্ত বৃষ্টিতে কোনো রিকশা নেই,দু একটা ভ্যান রিকশা যদিবা আছে তাতে ওঠার জায়গা নেই ।
অগত্যা শুভ্রকান্তি ইলিশ মাছ আর কাঁঠাল নিয়ে শ্বশুর বাড়ি যাত্রা করলে ।খানিক ইঁটপাতা রাস্তা, তারপর থেকে কাঁচা রাস্তা ।দুদিনের অবিরাম বৃষ্টিতে কাদা জলে একেবারে মাখামাখি ।শুভ্র কাদামাটিতে ভালো করে হাঁটতে পারছে না ।দুপা হাঁটে , তিন পা পিছলে যায়।একবার তো পড়তে পড়তে কোনো মতে সামলে নেয়।পিছলি নৃত্য করতে করতে শুভ্র এগিয়ে চলেছে ।উল্টো দিক থেকে একটা ভ্যান রিকশা হুড়মুড় করে হঠাৎ এসে পড়ায় শুভ্র পা হড়কে সড়াত করে পাশে নিচু জমিতে, ধান কাটা হয়ে গেছে কিন্তু কদিনের বৃষ্টিতে সেটি এখন একটি ডোবা ।শুভ্র সটান সেই ডোবায় চিৎপাত ।কাদার মধ্যে যতবার উঠতে যায় , ততবারই ফসকে যায়।শেষমেশ কোনোমতে উঠে দাঁড়ায়। সারা গায়ে কাদা মেখে একহাতে ইলিশ অন্য হাতে কাঁঠাল নিয়ে শুভ্র শ্বশুর বাড়ি পৌঁছায়।
নিশির মা নেত্যকালী দেবী রান্নার যোগাড়ে ব্যস্ত ।শুভ্রকান্তিকে আড় চোখে দেখে বলেন " কি রে বাবু বুঝি তোর হাত দিয়ে বাজার টা পাঠালো।এমা ! মাছটার কি হাল করেছিস ।ছি ছি কাঁঠালটা তো কাদামাটিতে মেখে গেছে ।যাক গে তুই এখন ওদিকে বস , একটু পরে তোকে চা ,মুড়ি দিচ্ছি ।"
খানিক বাদে মুক্তারামবাবু বাজার থেকে ফিরলেন ব্যাগে মাছ , মাংস সবজি নিয়ে ।নেত্যকালী বলে ওঠেন "এই তো খানিক আগে মদনার হাত দিয়ে ইলিশ পাঠালে, কি অবস্থা করেছে ....."
-"আমি মাছ পাঠিয়েছি?"
-"একটা কাঁঠালও , সেটার যা অবস্থা ছি ছি ।"
-"কী যা তা বলছ"।
-""যা তা বলছি, ঐ তো মদনা তো ঐখানে বসে আছে ।"
আঙুল তুলে যে স্থানটি দেখালে, সেটি গোয়ালঘর , ভেতরে দুটো দুধেল গাই হাম্বা হাম্বা করছে ।শুভ্র গুটিসুটি মেরে বসে ।মুক্তারামবাবু সব দেখে চক্ষু চড়ক গাছ "ও নিশি শিগগির আয় , কী সর্বনাশ করেছে তোর মা "।
পরের দৃশ্যে নেত্যকালী একগলা ঘোমটা দিয়ে জামাইকে বরণ করতে ব্যস্ত, বারবার নাক কান মুলে ক্ষমা চাইছেন ।কর্দমাক্ত শুভ্রকান্তি কাঁচুমাচু মুখে দাঁড়িয়ে ।
🌹🌹সেরার সেরা🌹🌹
