Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

ক্যাসিওপিয়া-সাহিত্য-পত্রিকা-সাপ্তাহিক-সেরা-সম্মেলন

#সাপ্তাহিক_প্রতিযোগিতা_পর্ব_১৪
#বিভাগ_গল্প
#শিরোনাম_রক্ষা
#শব্দসংখ্যা_৫১০
#কলমে_নীলিমা_চ্যাটার্জ্জী
#তারিখ_১_৭_২০২০

—ছোটবাবু, এ কাজ আমি করতে পারব না, আপনার পায়ে পড়ি..... এই বলে কাঁধের গামছাটা গলায় জড়িয়ে  বনবিহারী জয়মাল্য ঘোষের…


#সাপ্তাহিক_প্রতিযোগিতা_পর্ব_১৪
#বিভাগ_গল্প
#শিরোনাম_রক্ষা
#শব্দসংখ্যা_৫১০
#কলমে_নীলিমা_চ্যাটার্জ্জী
#তারিখ_১_৭_২০২০

—ছোটবাবু, এ কাজ আমি করতে পারব না, আপনার পায়ে পড়ি..... এই বলে কাঁধের গামছাটা গলায় জড়িয়ে  বনবিহারী জয়মাল্য ঘোষের পায়ের উপর উপুড় হয়ে কেঁদে পড়ল।
— একদম ন্যাকামো করবি না, এ কাজটা তোকে করতেই হবে। নইলে চুরির দায়ে তোর ছেলেকে আমি জেলের ঘানি টানাব! .......সাপের মতো  হিসহিসিয়ে উঠল জয়মাল্য।

বনবিহারী চোখের জল মুছতে মুছতে জয়মাল্যর বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে ভাবতে লাগল, কী কুক্ষণেই যে বড়বাবুর কথায় ছেলেটাকে  ছোটবাবুর বাড়িতে কাজে দিলাম! এখন ছেলেকে রক্ষা করি কী করে?

বনবিহারী বহু বছর আগে তার বড়বাবু উমাপদ গুহর বাড়িতে কাজে লাগে। বাজার করা , বাগান পরিষ্কার , নানা ফাইফরমাশ খাটা ইত্যাদি সব কাজেই বনবিহারী সুপটু। উমাপদ ও স্ত্রী কুন্তলা বনবিহারীর কাজে খুবই সন্তুষ্ট।নিঃসন্তান  উমাপদ বনবিহারীকে স্নেহও করেন, বিশ্বাসও করেন।

বিবেকানন্দ রোড থেকে আমহার্স্ট স্ট্রিট যেখানে ঢুকল তার কিছু পরেই পাঁচটা বাড়ির ফারাকে দুই বন্ধু উমাপদ ও জয়মাল্যর বাড়ি। আসলে সিটি কলেজে উমাপদ দুই বছরের সিনিয়ার ছিলেন, সেই সুবাদে জয়মাল্য উমাদা বলে ডাকে। আর তাই বনবিহারী গ্রাম  থেকে এসে অবধি দুই বন্ধুকে  বড়বাবু আর ছোটবাবু বলে। জয়মাল্য সময় পেলেই উমাপদর বাড়ি চলে আসে আড্ডা মারতে.... আজ বহু বছর ধরেই এ রকমটাই চলে আসছে..... এখন তো দুজনার চুলেই পাক ধরেছে।

উমাপদর লোহালক্কড়ের ব্যবসা.... বিবেকানন্দ রোডের উপর দুটো গোডাউন আছে। আর জয়মাল্য সিমেন্টের ব্যবসা করে। দুজনেই অল্প পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করে এখন প্রচুর পয়সা করেছে। জয়মাল্যর একটি ছেলে আছে, কলেজে পড়ে।

গত দু বছর ধরে উমাপদর ব্যবসা ঠিকমতো চলছে না। অর্ডার পায় না আগের মতো। বনবিহারী বলে, ও নাকি জয়মাল্যকে দেখেছে কতকগুলো লোককে নিয়ে অন্য ব্যবসায়ীর গোডাউনে ঢুকতে। বনবিহারী জয়মাল্যকে বিশ্বাস করে না, কিন্তু উমাপদ বনবিহারীর কথায় আমল দেন না।

গত বছর উমাপদর ব্যবসায় খুব ক্ষতি হল এবং তার ফলশ্রুতিস্বরূপ হৃদয়খানি বিগড়ে গেল। কয়েক লাখ টাকা খরচ করে ওপেন হার্ট সার্জারি হল উমাপদর, একটা নামকরা প্রাইভেট নার্সিংহোমে। সব ব্যবস্থা দৌড়াদৌড়ি করে জয়মাল্য করল , এমনকী নার্সিংহোমের বিপুল বিলটাও তখনকার মতো সেই চুকাল।

বাড়ি ফিরে একটু সুস্থ হয়ে উঠেই  উমাপদ যতবার চেক সই করে  দিতে গেছেন, জয়মাল্য বলে উঠেছে, উমাদা অত তাড়াহুড়োর কিছু নেই, সে হবেখন। শেষে একদিন সুযোগ বুঝে জয়মাল্য বলে , উমাদা , তোমার ব্যবসা তো ভালো চলছে না, তোমার দুটো গোডাউনের একটা তুমি আমায় দিয়ে দাও।

শুনে উমাপদ যেন চকিতে রক্তশূন্য হয়ে গেলেন! জয়মাল্য বলে, আরে সব তোমারই থাকবে, আমি শুধু একটু দাঁড় করিয়ে দেব.......!

বার কয়েক বলার পরও যখন উমাপদ “হ্যাঁ” বললেন না, তখন ক্রুদ্ধ জয়মাল্য, বনবিহারীকে নিজের বাড়িতে ডেকে বলল, কাল সন্ধ্যায় যখন আমি ও বাড়ি যাব, তোর বড়বাবুর সরবতে এই ট্যাবলেটটা মিশিয়ে দিবি। কিছু না, এতে উমাদা একটু নেশাগ্রস্ত হবে..... তখন একটা দোকান আমাকে লিখে দিতে বলব।তোর বাবুর ব্যবসা তো দুদিন বাদেই লাটে উঠে যাবে! তোরও ভাত জুটবে না।এ কাজটা না করলে তোর ছেলে অমলকে আমি চুরির দায়ে জেলে পাঠাব।তাতে তোর রোগগ্রস্ত বৌটাও এমনিই মরে যাবে।আমার কথা শুনলে তোদের কোনোদিন ভাতের অভাব হবে না।

আজ সকাল থেকে বনবিহারী শুধু নারায়ণকে ডাকছে। জলস্পর্শও করেনি। সন্ধ্যায় ট্রেতে করে দু গ্লাস সরবত নিয়ে কম্পিত পায়ে বড়বাবুর ঘরে চলল, একটা গ্লাসে নেশার ট্যাবলেট মেশানো। কাতর কন্ঠে বলল, হে নারায়ণ, এখনও পথ দেখালে না! তোমায় আমি বিশ্বাস করি যে! আমার বড়বাবুকে বাঁচাও, বিশ্বাসঘাতকতার হাত থেকে আমাকে রক্ষা করো!

ঘরে ঢোকার মুখে কার্পেটে পা বেধে সারাদিনের অভুক্ত বনবিহারী হুড়মুড় করে ট্রে সমেত পড়ে গেল। স্টীলের চেয়ারের হাতলে কপালে প্রচণ্ডভাবে লেগে জ্ঞান হারালো।ঈশ্বর বিশ্বাসঘাতকতার দায় থেকে বনবিহারীকে রক্ষা করলেন!!

(কমেন্টথ্রেডে পোস্ট করতে পারছি না। বলছে too long!!! পরিচালকমণ্ডলীর কেউ যদি একটু সাহায্য করেন)